কোরআনে হুযুর (সঃ) এর প্রশংসা 4

From Sunnipedia
Revision as of 05:07, 14 January 2016 by Khasmujaddedia1 (Talk | contribs)

(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
Jump to: navigation, search

আল্লাহ পাক সূরা এনশেরাহ’তে আরো এরশাদ ফরমান:

এবং আমি আপনার জন্যে আপনার যিকর (স্মরণ)-কে সমুন্নত করেছি

— সূরা ইনশেরাহ্‌, ৪র্থ আয়াত

ইয়াহইয়া ইবনে আদম বলেন এর অর্থ নবুওয়্যত দান। আরও বলা হয়েছে যে এর মানে নিম্নোক্ত হাদীসে কুদসীতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে:

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহুআলাইহে ওয়া সাল্লাম তাঁরই প্রেরিত পয়গম্বর) – এ বাক্যটিতে যখন আমাকে (আল্লাহকে) স্মরণকরা হয়, হে রাসূল (দ:), তখন আপনাকেও তাতে স্মরণ করা হয়।

আরো বলা হয়েছে যে আযানেও একই রকম করা হয়। এসব কথায় স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, মহানবী (দ:)-এর প্রতি বর্ষিত আল্লাহতা’লার মহা নেয়ামত (আশীর্বাদ), মহাপ্রভুর পাশে তাঁর মহান মর্যাদা ও আল্লাহর দৃষ্টিতে তাঁর মহাসম্মান সম্পর্কে আল্লাহ স্বয়ং সমর্থনসূচক ভাষ্য প্রদান করেছেন। খোদাতা’লা তাঁর পবিত্র বক্ষকে বিশ্বাস ও হেদায়াতের দিকে প্রশস্ত করেছেন এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার আধার বানিয়েছেন। ’জাহেলীয়্যা’ যুগের সকল বিষয়ের বোঝা তাঁর কাছ থেকে তিনি অপসারণ করেছেন এবং অন্যান্য দ্বীনের ওপর তাঁর দ্বীনকে বিজয় দান করে মহানবী (দ:)-এর কাছে জাহেলীয়্যা যুগের বিষয়গুলো ঘৃণিত করে দিয়েছেন। খোদাতা’লা নবুওয়্যত ও ঐশী বাণীর গুরুদায়িত্বকে প্রিয়নবী (দ:)-এর জন্যে লাঘব করে দিয়েছেন, যাতে তিনি মানুষের কাছে তা-ই পৌঁছে দিতে সক্ষম হন যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছিল। তিনি প্রিয়নবী (দ:)-এর সুমহান মর্যাদা, সুউচ্চ মকাম সম্পর্কে নিজ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং তাঁর নামের সাথে হুযূর পূর নূর (দ:)-এর নাম মোবারককে সংযুক্ত করেছেন।

হযরত কাতাদা (রা:) বলেন,

আল্লাহতা’লা তাঁর হাবীব (দ:)-এর খ্যাতিকে এ দুনিয়ায় এবং পরবর্তী জগতে সমুন্নত করেছেন। এমন কোনো বক্তা, সাক্ষী কিংবা নামাযী নেই, যে না-কি এ বাক্য বলতে ব্যর্থ হয় – লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা:) বর্ণনা করেন যে

রাসূলে খোদা (দ:) এরশাদ করেছেন: জিবরীল (আ:) আমার কাছে এসে বল্লেন, আমার ও আপনার প্রভু আল্লাহতা’লা এরশাদ ফরমান – ‘আপনি কিজানেন, আমি আপনার (প্রিয়নবীর) খ্যাতি কতোখানি সমুন্নত করেছি?’ আমি (জিবরীল) বল্লাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (দ:)-ই ভালো জানেন। আল্লাহ বল্লেন, ‘যখন আমাকে স্মরণ করা হয়, তখনআমার সাথে আপনাকেও স্মরণ করা হয়।’

— ইবনে হিব্বানের ’সহীহ’ ও আবূ এয়ালার ‘মুসনাদ’ গ্রন্থগুলোতে উদ্ধৃত

ইবনে আতা’ একটি হাদীসে কুদসী উদ্ধৃত করেন যা’তে আল্লাহতা’লা ঘোষণা করেন:

আমিআপনার স্মরণকে আমার স্মরণের সাথে যুক্ত করে ঈমান (বিশ্বাস)-কে পূর্ণতা দিয়েছি।

অপর এক হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ পাক বলেন,

আপনার স্মরণকে আমি আমারই স্মরণের অংশ করেছি,যার দরুন যে কেউ আমাকে স্মরণ করলে আপনাকেও স্মরণ করে।

হযরত ইমাম জা’ফর ইবনে মোহাম্মদ সাদেক (রহ:) বলেন,

যে ব্যক্তি আমাকে (খোদাতা’লা) প্রভু হিসেবে স্মরণ করে, সে আপনাকে (রাসূলকে) পয়গম্বর হিসেবে স্মরণ না করে পারে না।

আল-মাওয়ার্দীর মতো কিছু জ্ঞানী পণ্ডিত অভিমত ব্যক্ত করেন যে এর দ্বারা শাফায়াত তথা সুপারিশের মহান মর্যাদা বোঝানো হয়েছে। আল্লাহতা’লার যিকরের সাথে রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর স্মরণ সরাসরি যুক্ত হওয়ার বিষয়টি পরিস্ফুট করে যে আল্লাহতা’লার আনুগত্যের সাথে রাসূলে আকরাম (দ:)-এর আনুগত্য ও তাঁর নামের সাথে প্রিয়নবী (দ:)-এর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আল্লাহতা’লা ঘোষণা করেন:

হুকুম মান্য করোআল্লাহতা’লা ও তাঁর রাসূল (দ:)-এর

— সূরা আলে ইমরান, ৩২ আয়াত

অন্যত্র তিনি এরশাদ ফরমান:

হে ঈমানদারবর্গ! ঈমান রাখো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (দ:)-এর প্রতি

— সূরা নিসা, ১৩৬ আয়াত

আল্লাহতা’লা রাসূলুল্লাহ (দ:)-কে তাঁর সাথে সংযুক্ত করেছেন আরবী ‘ওয়া’ (ও/এবং) শব্দটি দ্বারা, যেটা অংশীদারের অর্থ জ্ঞাপক। নবী করীম (দ:) ভিন্ন অন্য কারো ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে ‘ওয়া’ শব্দটি ব্যবহার করার অনুমতি নেই। হুযায়ফা (রা:) বর্ণনা করেন যে রাসূলুল্লাহ (দ:) এরশাদ ফরমান:

তোমাদের কেউই এরকম বলো না – যা আল্লাহ ইচ্ছা করেন এবং (ওয়া) অমুক ইচ্ছা করেন। বরং (এ কথা) বলো – যা আল্লাহ ইচ্ছা করেন। অতঃপর থেমে বলো – অমুক যা ইচ্ছা করেন।

— আবূ দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে আবি শায়বা

আল-খাত্তাবী বলেন,

মহানবী (দ:) সবার ইচ্ছার ওপরে খোদাতা’লার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়ার শিক্ষা আপনাদের দিয়েছেন। তিনি ‘সুম্মা’ শব্দটিকে পছন্দ করেছেন যার অর্থ ‘অতঃপর’, আর অংশীদারিত্ব জ্ঞাপক ‘ওয়া’ (এবং) শব্দটি বর্জন করেছেন।

অপর একটি হাদীস শরীফে অনুরূপ কথা বলা হয়েছে-

কেউ একজন (সাবেত ইবনে কায়েস্ বলে কথিত) রাসূলে খোদা (দ:)-এর দরবারে বলেন, “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (দ:)-কে যে ব্যক্তি মান্য করেন, তিনি সঠিক পথপ্রাপ্ত; আর যে ব্যক্তি তাঁদের (‘হুমা’ তথা দ্বিবচন ব্যবহার করে বলেছিলেন) সাথে বিদ্রোহ করে….।”

মহানবী (দ:) তাঁকে বলেন, “তুমি কতোই না বাজে বক্তা! ওঠে দাঁড়াও!” (কিম্বা তিনি বলেছিলেন: “বেরিয়ে যাও!”)

— আবূ দাউদ, নাসাঈ ও মুসলিম বর্ণিত হাদীস

আবূ সুলাইমান বলেন,

রাসূলে করীম (দ:) দুটো নামকে ওভাবে সংযুক্ত দেখতে পছন্দ করেননি, কেননা এতে অংশীদারিত্ব বোঝায়।

অপর এক জ্ঞানী পণ্ডিত মনে করেন যে “তাঁদের সাথে বিদ্রোহ করে” বলে থামাকেই মহানবী (দ:) অপছন্দ করেছিলেন। তবে আবূ সুলাইমানের কথাই নির্ভরযোগ্য, কারণ হাদীসটির আরেকটি নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যামূলক বর্ণনায় বিবৃত হয় যে বক্তা (সাবেত ইবনে কায়েস বলে কথিত) “আর যে ব্যক্তি তাঁদের সাথে বিদ্রোহ করে, সে ভুল করে” – এ বাক্যটিতে “তাঁদের সাথে বিদ্রোহ করে” – বাক্যাংশটি বলার পর না থেমেই বাকি অংশ বলেছিলেন।

তথ্যসূত্র

  • শেফা শরীফ (লেখকঃ ইমাম কাজী আয়াজ (রহঃ), অনুবাদকঃ কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন)
  • ahlussunnahbd.wordpress.com