কোরআনে হুযুর (সঃ) এর প্রশংসা 5

From Sunnipedia
Revision as of 10:54, 24 January 2016 by Khasmujaddedia1 (Talk | contribs)

(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
Jump to: navigation, search

নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাবৃন্দ দরুদ পড়েন ওই অদৃশ্য সংবাদ জ্ঞাপনকারী (নবী)-এর প্রতি

— সূরা আহযাব, ৫৬ আয়াত

খোদায়ী এ কালামের মধ্যে ‘ইউসাল্লুনা’ (বহুবচনে দরুদ পাঠ) শব্দটি খোদাতা’লা এবং ফেরেশতাদের উভয়ের প্রতি আরোপিত কি না, তা নিয়ে তাফসীরবিদ ও শব্দার্থ বিশারদদের বিভিন্ন জন বিভিন্ন মত পোষণ করেন। তাঁদের কেউ কেউ উভয়ের ক্ষেত্রে শব্দটি ব্যবহৃত হওয়াকে অনুমতি দেন, আর অন্যান্যরা অংশীদারিত্বের ধারণায় তা নিষেধ করেন। তাঁরা সর্বনামটিকে ফেরেশতাদের প্রতি এককভাবে নির্দেশ করেন এবং আয়াতটিকে এভাবে বোঝেন – “আল্লাহতা’লা দরুদ পড়েন এবং তাঁর ফেরেশতাকুলও।”



বর্ণিত আছে যে হযরত উমর ফারূক (রা:) রাসূলে খোদা (দ:)-কে বলেছিলেন,

আল্লাহর সাথে আপনার মাহাত্ম্যের অংশবিশেষ হলো এই যে, তিনি আপনার প্রতি আনুগত্যকে তাঁরই প্রতি আনুগত্য বানিয়ে দিয়েছেন।

আল্লাহতা’লা এরশাদ ফরমান:

যে ব্যক্তি রাসূল (দ:)-এর নির্দেশ মান্য করেছে,নিঃসন্দেহে সে আল্লাহর নির্দেশ–ই মান্য করেছে

— সূরা নিসা, ৮০ আয়াত

এবং

হে রাসূল (দ:),আপনি বলে দিন: ওহে মানবকুল, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবেসে থাকো, তবে আমার অনুগত হও; আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন’।

— সূরা আলে ইমরান, ৩১ আয়াত

বর্ণিত আছে যে যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়, তখন মানুষেরা বলাবলি করতে শুরু করে,

মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) চান খৃষ্টানরা যেভাবে ঈসা (আ:)-কে গ্রহণ করেছিল, ঠিক সেভাবে আমরাও যেন তাঁকে করুণা (রহমত) হিসেবে গ্রহণ করি।

এমতাবস্থায় আল্লাহ আয়াত নাযেল করেন:

হে রাসূল, বলুন: হুকুম মান্য করো আল্লাহ ও রাসূলের

— সূরা আলে ইমরান, ৩২ আয়াত

নোট
  • এ বর্ণনা ইবনে জাওযীর

মানুষেরা যা বলাবলি করেছিল, তা সত্ত্বেও আল্লাহতা’লা তাঁর নিজের আনুগত্যের সাথে রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর আনুগত্যকে যুক্ত করেছেন।



সূরা ফাতেহার

আমাদেরকে সহজ, সরল পথে পরিচালিত করুন; তাঁদেরই পথে যাঁদের প্রতিআপনি (খোদাতা’লা) অনুগ্রহ করেছেন

খোদায়ী এ কালামের অর্থ সম্পর্কে তাফসীরবিদবৃন্দ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেন। আবূল আলীয়্যা (রহ:) এবং হাসান বসরী (রহ:) বলেন,

সহজ, সরল পথ (সিরাতাল মোস্তাকীম) হলেন মহানবী (দ:), তাঁর আহলে বায়ত (ঘরের মানুষজন তথা আত্মীয়স্বজন) এবং তাঁরই আসহাবে কেরাম (সম্মানিত সাথীবৃন্দ)।

আবূল আলীয়্যা ও হাসান বসরী থেকে আল-মাওয়ার্দী বর্ণনা করেন,

সহজ, সরল পথ হলেন রাসূলে পাক (দ:), তাঁর ঘরের শ্রেষ্ঠজনেরা এবং তাঁরই সাথীবৃন্দ।

অনুরূপ বর্ণনা করেন মক্কীঃ

এ আয়াতটি রাসূলুল্লাহ (দ:) ও তাঁর দু’জন সাহাবী হযরত আবূ বকর (রা:) এবং হযরত উমর ফারূক (রা:)-কে ইঙ্গিত করে।

তাঁদেরই পথে, যাঁদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন

খোদায়ী এ কালামটি সম্পর্কে আবুল আলীয়্যা হতে আবূল লায়েস্ সামারকান্দী প্রায় অনুরূপ আরেকটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। হযরত হাসান বসরী (রহ:) এটা শোনার পর বলেন, “আল্লাহর নামে শপথ! এ কথা সত্য এবং এটা সৎ উপদেশ।” “তাঁদেরই পথে যাঁদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন” – এ আয়াতটির তাফসীরে আবদুর রাহমান ইবনে যায়দ হতে আল-মাওয়ার্দী এটা বর্ণনা করেন।

আবূ আব্দির রাহমান আস্ সুলামী বর্ণনা করেন যে জনৈক তাফসীরবিদ

সে এমন এক মজবুত গ্রন্থিধারণ করেছে

— সূরা বাকারা, ২৫৬ আয়াত

খোদায়ী এ কালামের মধ্যে ‘মজবুত গ্রন্থি’ – বাক্যটিকে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (দ:) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ কথাও বলা হয়েছে যে এর অর্থ দ্বীন ইসলাম। আরো বলা হয়েছে যে এতে তাওহীদের সাক্ষ্য (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) বিদ্যমান।



সাহল্ আত্ তুসতরী বলেন যে

যদি আল্লাহর অনুগ্রহসমূহ গণনা করো, তবে সংখ্যা নির্ণয় করতেপারবে না

— আল-কুরআন, ১৪:৩৪

আল্লাহতা’লার এ বাণীর উদ্দেশ্য হচ্ছে রাসূলে খোদা (দ:)-এর অনুগ্রহ। আল্লাহ পাক এরশাদ করেন:

এবং তিনি–ই, যিনি এ সত্য নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন এবং ওই সবমানুষ, যাঁরা তাঁকে সত্য বলে মেনে নিয়েছেন, তাঁরাই আল্লাহভীতিসম্পন্ন।

— সূরা যুমার, ৩৩ আয়াত

অধিকাংশ তাফসীরবিদ বলেন, “তিনি-ই একে সত্যায়ন করেছেন।” কখনো কখনো এ শব্দটিকে ‘সাদাকা’ (সত্য ভাষণ) পড়া হয়; আবার কখনো কখনো ‘সাদ্দাকা’ (সত্যায়ন) পাঠ করা হয়, যার দরুন মো’মেন (বিশ্বাসী)-দের উদ্দেশ্য করা হয়। এ কথা বলা হয়েছে যে এতে হযরত আবূ বকর (রা:)-কে বোঝানো হয়েছে। আরো অনেক কথা এ বিষয়ে বলা হয়েছে। মোজাহিদ (রা:) বলেন,

আল্লাহর স্মরণেই অন্তরের প্রশান্তি নিহিত

— সূরা রা’দ, ২৮ আয়াত

খোদায়ী এ কালামের উদ্দেশ্য হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ (দ:) ও তার আসহাবে কেরাম (রা:)।

তথ্যসূত্র

  • শেফা শরীফ (লেখকঃ ইমাম কাজী আয়াজ (রহঃ), অনুবাদকঃ কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন)
  • ahlussunnahbd.wordpress.com