তাওরাত ও ইঞ্জিলে হুযুর পাক (সঃ)

From Sunnipedia
Revision as of 02:14, 2 December 2015 by Khasmujaddedia1 (Talk | contribs)

(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
Jump to: navigation, search

তাওরীত ও ইঞ্জীলের মধ্যে লিপিবদ্ধ রয়েছে হুযুর পাক (সঃ) এর বেশ কিছু গুন । ইহুদী সম্প্রদায়ের যেসব আলিম ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ‘সাহাবী’ হবার মর্যাদা লাভ করেছেন, যেমন হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে সালাম, হযরত কা’ব-ই আহকার প্রমুখ। তাঁরা হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম-এর ওইসব গুণের কথাও শুনিয়েছেন, যেগুলো তাওরীত শরীফে এসেছে। সুতরাং হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু তাওরীত থেকে এসব গুণ শুনিয়েছেন- (আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেছেন,)

হে নবী, আমি আপনাকে ‘শাহিদ’ (সাক্ষী, হাযির-নাযির), ‘বশীর’ (সুসংবাদদাতা), ‘নাযীর’ (ভীতি প্রদর্শনকারী করে প্রেরণ করেছি। আপনি ‘পড়াবিহীনদের তত্ত্বাবধায়ক, আপনি আমার প্রিয় বান্দা ও রসূল। আমি আপনার নাম ‘মুতাওয়াক্কিল (ভরসাকারী) রেখেছি। আপনি মন্দ চরিত্রের অধিকারীও নন, কঠোর স্বভাবেরও নন, বাজারগুলোতে শোরগোলকারীও নন। আপনি অপকারের বদলা অপকার দ্বারা নেবেন না, বরং দোষীদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ্ ওই সময় পর্যন্ত আপনাকে দুনিয়া থেকে নিয়ে যাবেন না, যতক্ষণ না আপনার বরকতে বিকৃত দ্বীন পূর্ণতা লাভ করবে; লোকেরা যতক্ষণ না কলেমা পড়তে থাকবে। আপনার বরকতে অন্ধ চোখগুলো জ্যোতির্ময়, বধির কানগুলো শ্র“তি শুক্তি বিশিষ্ট এবং পর্দাকৃত হৃদয়গুলো খুলে যাবে।’

এ ধরণের উক্তি হযরত কা’ব-ই আহ্বার থেকেও বর্ণিত হয়েছে- খ্রিস্টানগণ অনেক চেষ্টা করেছে- হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম-এর সমস্ত গুণ, পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য ইঞ্জীল থেকে বের করে (মুছে) দিতে। কিন্তু এখানকার ইঞ্জীলে, যাতে অনেক রদ-বদল হয়ে গেছে, হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম-এর গুণাবলী এভাবে উল্লিখিত রয়েছে।

‘ইহান্নার ইঞ্জীল, ব্রিটিশ এণ্ড ফরেন বাইবেল সোসাইটী কর্তৃক লাহোর থেকে ১৯৩১ ইংরেজীতে মুদ্রিত কপির ১৪ অধ্যায়ের ১৬শ আয়াতে আছে-

আমি পিতার নিকট দরখাস্ত করবো। সুতরাং তিনি তোমাদের অন্য এক সাহায্যকারী দান করবেন, যিনি অনন্তকাল যাবৎ তোমাদের সাথে থাকবেন।

এটা হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালামের না’ত (প্রশংসা) এবং তিনি শেষ নবী হবার পক্ষে বর্ণনা।

এ কিতাবের এ অধ্যায়েই ২৯, ৩০তম আয়াতে আছে,

আমি তোমাদের সাথে আর বেশী কথা বলবো না। কারণ, দুনিয়ার সরদার আসছেন এবং আমার মধ্যে তাঁর কিছুই নেই।

এ কিতাবের ১৬শ অধ্যায়, আয়াত নম্বর ৭-এ আছে,

কিন্তু আমি তোমাদের সাথে সত্য কথাটা বলছি। তা হচ্ছে আমার চলে যাওয়া তোমাদের জন্য উপকারী। কেননা, আমি না গেলে ওই সাহায্যকারী তোমাদের নিকট আসবেন না। যদি আমি চলে, যাই, তবে (আমি গিয়ে) তাঁকে তোমাদের নিকট পাঠিয়ে দেবো।

এ কিতাবের এ অধ্যায়ের ১৩ নম্বর আয়াতে আছে

কিন্তু যখন তিনি, অর্থাৎ সত্য তার রূহ আসবেন, তখন তিনি তোমাদেরকে সকল সত্য পথ দেখিয়ে দেবেন। তাও এজন্য যে, তিনি নিজ থেকে কিছুই বলবেন না, কিন্তু তিনি যা কিছু শুনবেন, তা-ই বলবেন, আর তোমাদেরকে ভবিষ্যতের সব সংবাদ দেবেন।

  • এটা সর্বজনবিদিত যে, হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম-এর পর ওইসব গুণে গুণান্বিত হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম ব্যতীত আর কেহ কেহই নন ।
  • দ্বিতীয় গুণ বর্ণিত হয়েছে- ‘তিনি নির্দেশ দেন ভাল কাজগুলোর।’
  • তৃতীয় গুণ বলেছেন, ‘নিষেধ করেন মন্দ কাজগুলো করতে।’ এ থেকে বুঝা গেলো যে, ভালো কাজ হচ্ছে সেটাই, যাকে ভাল লোকদের সরদার বৈধ করেছেন, আর মন্দ কাজ হচ্ছে সেটাই, যা করতে হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম নিষেধ করেছেন।
  • চতুর্থ গুণ বর্ণিত হয়েছে- পবিত্র বস্তুসমূহকে তিনি তাদের জন্য হালাল করেন,
  • পঞ্চম গুণ বলেছেন, ৫ মন্দ ও অপবিত্র বস্তু সমূহ তাদের জন্য হারাম করেন। এ থেকে বুঝা গেলো যে, হালাল ও হারাম করার ইখতিয়ার হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালামকে মহামহিম রব দিয়েছেন। তিনি শরীয়তের মালিক। এ সম্পর্কে বহু হাদীস শরীফ বর্ণিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বনী ইস্রাঈলের উপর তাদের গুনাহর কারণে কিছু ভাল জিনিসও হারাম করে দেওয়া হয়েছিলো; যেমন হালাল পশুগুলোর চর্বি ইত্যাদি। হুযূর আলায়হিস্ সালাম-এর বরকতে সেটা হালাল হয়ে গেছে। অনুরূপ মদ ইত্যাদি অপবিত্র বস্তু তাদের জন্য হালাল ছিলো। সেটাকে হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম ক্বিয়ামত পর্যন্তের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।
  • ষষ্ঠ গুণ এটা বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের উপর থেকে বোঝা অপসারণ করেন, অর্থাৎ পূর্বে বিধানাবলী কঠিন ছিলো, যেগুলো পালন করা মানুষের জন্য কষ্ট সাধ্য ছিলো। যেমন সম্পদের এক চতুর্থাংশে যাকাত হিসেবে প্রদান করা, ওযুর স্থলে তায়াম্মুম করতে না পারা নামায শুধু ইবাদত খানা গুলোতে সম্পন্ন করা, অন্য কোন যায়গায় কাপড়ে নাপাক লাগলে, সেটাকে জ্বালিয়ে ফেলা কিংবা কেটে ফেলা ইত্যাদি। এ সব বিধানই বনী ইস্রাঈলের উপর প্রযোজ্য ছিলো। কিন্তু হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম-এর বরকতে এসব মুসীবত দূরীভতি হয়েছে। এখন যাকাত দিয়ে হয় সম্ভব পর না হয়, তবে তায়াম্মুম কারার বিধান দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর সেখানে ইচ্ছা নামায সম্পন্ন করা। গনীমতের মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে। এসব সহজ বিধান ও বরক হুযূর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে।