প্রথম বক্ষবিদারণ

From Sunnipedia
Revision as of 07:13, 7 November 2015 by Khasmujaddedia1 (Talk | contribs)

Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 1









  • প্রথম বক্ষবিদারণ




















শিশু রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে নিয়ে হযরত হালিমা দ্বিতীয় বারের মত বাড়ি ফিরে আসার কয়েক মাস পরের কথা। হালিমা নিজেই বলেনঃ যখন তিনি কিছুটা বড় হলেন, অন্য শিশুদের খেলা দেখতেন। কিন্তু তিনি নিজে তাতে অংশ নিতেন না। একদিন তিনি আমাকে বললেন, মা, আমার ভাইকে দিনেরবেলা দেখি না কেন ? বললামঃ আমার জীবন তোমর প্রতি কুরবান, তোমর (দুধ) ভাই ছাগল চরাতে মাঠে চলে যায়। সকালে যায় আর সন্ধ্যায় ফেরে। তিনি বললেনঃ কাল থেকে আমাকেও তার সাথে যেতে দেবেন।

পরদিন থেকে তিনি খুবই আনন্দের সাথে মাঠে যেতেন এবং আনন্দের সাথেই ফিরে আসতেন। একদিন দুপুরের দিকে আমার পুত্র সমারাহ ভীত ও আতংকিত অবস্থায় দৌড়ে বাড়ি এলো। কপালে ঘাম। কাঁদতে কাঁদতে বলল, আব্বা ! জলদি আমার ভাই মুহাম্মদের কাছে যাও। সেখানো গিয়ে হয় তো তাকে মৃতই পাবে।

ব্যস্ত হয়ে জানতে চাইলাম- কেন, কি হয়েছে ? সে বললঃ আমরা দাঁড়িয়েছিলাম। এক ব্যক্তি এসে তাঁকে ছোঁ মেরে উঠিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে গেল এবং তাঁর বুক চিরে ফেলল। তারপর কি হলো জানি না।

আতঙ্কিত হয়ে আমি ও আমার স্বামী ছুটে গেলাম। দেখতাম, তিনি পাহাড়ের চূড়ায় বসে আকাশের দিকে দেখছেন এবং মুচ্কি হাসছেন। আমি ঝুঁকে পড়ে তাঁর কপালে চুমু খেলাম। বললামঃ তোমার উপর আমার জান কুরবান, তোমার কি হয়েছে বাবা! তিনি বললেনঃ “সব ঠিক আছে মা। আমি দাঁড়িয়েছিলাম, তিনি ব্যক্তি আমার কাছে এলো। একজনের হাতে রুপার পাত্র, অন্যজনের হাতে সবুজ পান্নার তশতরি ছিল বরফপূর্ণ। তাঁরা আমাকে নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় এলো। আস্তে করে শুইয়ে দিল। তারপর তাদের একজন আমার নাভি থেকে পেট চিরে ফেলল। আমি সবাই দেখলাম, কিন্তু কোনও ব্যথা বা কষ্ট অনুভব করি নাই। তারপর সে তাঁর হাত আমার পেটে ঢুকিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের করে আনল। সেগুলি বরফ দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে আবার যথাস্থানে স্থাপন করল। এরপর দ্বিতীয়জন প্রথমজনকে বলল, এবার তুমি সরে এসো। আল্লাহ্ তোমাকে যে আদেশ করেছেন পূর্ণ কর। সে আমার কাছে এলো এবং আমার ভিতর হাত ঢুকিয়ে আমার হৃৎপিন্ড বের করে আনল। সেটি চিরে তার মধ্য থেকে একটা রক্তবিন্দু বের করে দূরে ফেলে দিল। বলল, হে আল্লাহর হাবীব! এটি শয়তানের অংশ ছিল। এরপর সে তার সাথে আনা একটি বস্তু তার মাঝে ভরে দিয়ে উপরে একটি নূরের উজ্জ্বল মোহর এঁটে দিল, যার শীতলতা এখনও আমি শিরায় শিরায় অনুভব করছি। এরপর তৃতীয় ব্যক্তি উঠে বলল,তোমরা উভয়ে সরে দাঁড়াও। তোমরা আল্লাহর আদেশ পালন করেছ। সে আমার বুকে এলো এবং আমার বুকের চিরা স্থানে হাত বুলাল। বললঃ তাঁকে তাঁর আমার বুকে এলো এবং আমার বুকের চিরা স্থানে হাত বুলাল। বললঃ তাঁকে তাঁর উম্মতের দশজনের মুকাবিলায় ওজন কর। তারা আমাকে ওজন করলে আমি ভারি হলাম। সে বললঃ রেখে দাও। যদি তোমরা সমস্ত উম্মতের মুকাবিলায় তাঁকে ওজন কর তবু তিনিই ভারী হবেন। তারপর সে আমাকে হাত ধরে আস্তে দাঁড় করাল। সকলেই আমার উপর ঝুঁকে পড়ল। আমার মাথা ও কপাল চুম্বন করল। তারপর বলল, হে আল্লাহর হাবীব ! আপনি ভীত হবেন না। যদি আপনি জানতে পারেন আল্লাহ্ আপনার কত মঙ্গল চান তবে আপনার দু’চোখ শীতল হয়ে যাবে। তারপর তাঁরা আমাকে এরকম উপবিষ্ট রেখে আকাশের দিকে উড়ে গেলেন।

তথ্যসূত্র

  • ইব্ন ইসহাক
  • মাদারেজুন্নাবুওয়াত
  • খাসায়েসুল কোবরা
  • রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)