প্রেমময় হাবিবের জন্য সালাম

From Sunnipedia
Revision as of 21:28, 14 January 2016 by Khasmujaddedia1 (Talk | contribs)

(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
Jump to: navigation, search

রবিউন মানে পরিপূর্ণতা- পূর্ণ বসন্ত, যখন বিশ্ব প্রকৃতি তার সব জরাজীর্ণতা, সব শূন্যতা থেকে পরিত্রাণ পেয়ে সম্পদে বর্ণে গন্ধে পূর্ণতা নিয়ে ধন্য হয়। সেই রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখে স্রষ্টার মহাজ্যোতি নেমে এলেন সমগ্র সৃষ্টির পরিপূর্ণতা নিয়ে মানব রূপ ধারণ করে। তিনি না এলে সৃষ্টির পরিক্রমা স্তব্ধ হয়ে যেত, স্রষ্টার মহারহস্য উন্মোচন হতো না। দ্বীন-ই-এলাহীর পূর্ণতা প্রাপ্তি ঘটত না, আল্লাহর মহাদানের পরিপূর্ণ করা হতো না। মহাস্রষ্টা ঘোষণা করলেন- তোমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত আমার নূর। সৃষ্টির আদিতে সৃষ্ট হয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হিসেবে আগমন করেছেন হাবীবে খোদা (সা.)। এ জন্য তাকে আল্লাহ, রাসূল প্রেরিতজন, আপনাকে প্রেরণ করা হয়েছে, তোমাদের কাছে আগমন করেছেন কালামে পাকে ঘোষিত করেছেন। সব মাখলুকাত, আসমানের সব ফেরেশতা ও বিশ্বের সব নবী যাঁর প্রতীক্ষা করেছেন। যাঁর পৃথিবীতে আবির্ভাবের সময় ও তার নূরের মর্তবা সম্বন্ধে প্রত্যেক নবী তাঁদের নিজ নিজ যুগে, উম্মতদের সম্মুখে প্রত্যেক মাহফিলে বর্ণনা দিয়েছিলেন, সেই তুলনাহীন নূর মোহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাবের সময়ের বরকত ফজিলত মর্যাদা বর্ণনা করে এমন ক্ষমতা পুরো সৃষ্টি জগতের কারও নেই। কোনো বাদশাহ বা রাষ্ট্রপ্রধান অন্য কোনো দেশে আগমনের আগে তার আগমনের খবর অনেক আগে থেকে প্রচার করা হয়ে থাকে। তেমনি বিশ্বনবীর আগমন ও তার শান আযমত, মহাত্ম প্রত্যেক নবী তাদের জামানায় উম্মতদের মাঝে ঘোষণা করেছিলেন। আম্বিয়াগণের সরদার যার মাধ্যমে আমরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম নেয়ামত কোরআন মজিদ, বেহেশতের সুসংবাদ পেয়েছি, সেই রাসূলে আকরাম হজরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.)-এর মর্তবা বিশেষ করে তার আবির্ভাবের মুহূর্ত সম্বন্ধে হজরত ইমাম মালেক (রা.) বলেছেন- যার উসিলায় আমরা আল্লাহর সম্পূর্ণ নেয়ামত লাভ করেছি, হাজার মাসের ফজিলতপূর্ণ শবেকদর লাভ করেছি, তাঁর পুণ্যময় আবির্ভাবের দিন বারই রবিউল আউয়াল আমার নিকট এবং সমস্ত মোমেনগণের নিকট শবেকদর থেকেও লক্ষ লক্ষ গুণ মর্যাদাপূর্ণ। তিনি সাহেবে কোরআন, আসমান জমিন সমগ্র বিশ্বভুবনে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন আমাদের প্রিয় নবীজীর উপলক্ষে এবং তিনি কুলমাখলুকাতের সবার জন্যই রহমত।

কালামে এলাহী-

ওয়া জাক্কেরুহুম বি আইয়ামিল্লাহ

অর্থাৎ আল্লাহর দিনটিতে জেকের কর

আইয়ামিল্লাহ ওই দিনকে বুঝানো হয়েছে, যে দিনে মহান আল্লাহ বান্দাদের ওপর নেয়ামত দান করেন। সব মোমিনের বিশ্বাস, সরওয়ারে দোজাহাঁ রাহমাতাল্লিল আলামিন সর্বশ্রেষ্ঠ ও বড় নেয়ামত, আর অন্যান্য নেয়ামত তারই উসিলায় প্রাপ্ত। আল্লাহপাক বলেন, রাসূল (সা.)-কে মোমিনদের মধ্যে প্রেরণ করে আল্লাহ আমাদের ওপর বড়ই এহসান করেছেন। নবীজীর আগমনের দিনে পুরো বিশ্ব প্রকৃতি আসমান-জমিনের সবাই এক অপার্থিব আনন্দ ও খুশিতে উদ্বেলিত হয়েছিল, যা বাহ্যিক অনুভূতিতে অনুভূত হয়েছিল। কাবা মন্দিরে মূর্তিগুলো পড়ে গিয়েছিল। আরও অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। একমাত্র অভিশপ্ত ইবলিস শয়তান সে পবিত্র দিনে সবচেয়ে ব্যথিত, হতাশা, নিরাশা ও নিরানন্দ দিন অতিবাহিত করেছে।

কালামে এলাহী-

হে নবী নিশ্চয়ই আমি তোমাকে আমার সাক্ষী এবং আমার সুসংবাদ প্রদানকারী রূপে ও ভয় প্রদাতা করে প্রেরণ করেছি। হে মানুষ, তোমরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো ও তাঁর রাসূল (সা.)-কে সম্মান ও ভক্ত কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবিহ বা জিকির কর

— সুরা-ফাতহে : আয়াত : ৮-৯

এই কালামে পাকের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথমে ঈমান, শেষে এবাদত, মাঝে তার হাবিবকে ইজ্জত ও ভক্তি করার হুকুম দিয়েছেন। অতএব, হাবীবে খোদাকে সম্মান ও ভক্তি ছাড়া এবাদত কবুল হবে না। মহান আল্লাহ এরশাদ করছেন- নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীজীর ওপর সালাম ও দরুদ পাঠ করে থাকেন, হে বিশ্বাসীগণা তোমরাও তার প্রতি আত্মসমর্পণ ও আত্মনিবেদনের সঙ্গে ভক্তি ও মহব্বতে সালাম ও দরুদ পেশ কর। হে প্রভু, তোমার হাবীবের প্রতি ভক্তি, সালাম ও দরুদের নজরানা নিবেদন করার সৌভাগ্য আমাদেরকে এনায়েত করুন। আমীন।

তথ্যসূত্র

  • মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চিশতী
  • jugantor.com