মুহাম্মাদ (সঃ) এর এলমে গায়েব সমর্থনে দলিল সমূহ 9

From Sunnipedia
Revision as of 18:35, 30 November 2015 by Khasmujaddedia1 (Talk | contribs)

(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর এলমে গায়েব সমর্থনে দলিল সমূহ








  • এলমে গায়েব সমর্থনে দলিল সমূহ 9















কোরআন থেকে দলিল ১৭

فَاَوْ حى اِلى عَبْدِه مَااَوْحى

তিনি (আল্লাহ) তাঁর প্রিয় বান্দার প্রতি যা কিছু ওহী করার ছিল তা ওহী করলেন

সবিখ্যাত মাদারিজন নবুয়ত গ্রন্থের প্রথম খন্ডে ‘আল্লাহর দর্শন’ শীর্ষক পরিচ্ছেদ উল্লেখিত আছে-

মহা প্রভু আল্লাহ হুযুর আলাইহিস সালামের প্রবিত্র মিরাজের রজনীতে যে সমস্ত জ্ঞান মারিফাত শুভ সংবাদ ইঙ্গিত বিবিধ তথ্য বুযুর্গী, মান সম্মান, পূর্ণতা ইত্যাদি ওহী করেছিলেন সবই এ অস্পষ্ট বর্ণনায় (যা আয়াতের مااوحاى বাক্যাংশে বর্ণিত হয়েছে) অন্তর্ভুক্ত আছে। ঐ সমস্ত বিষয়াদির অথ্যধিক ও মাহাত্ন্যের করণে সেগুলোকে অস্পষ্টরূপে উল্লেখ করেছেন; ‍সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে ব্যক্ত করেননি। এতে এ কথার প্রতিও ইঙ্গি দেয়া হয়েছে, যে সমস্ত অদৃশ্য জ্ঞান সমূহ খোদা তাআলা ও তার মাহবুব আলাইহিস সালাম ব্যতীত অন্য কেউ পরিবেষ্টন করতে পারে না। তবে হ্যাঁ যা যতটুকু হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) প্রকাশ করেছেন, ততটুকু জানা গেছে।

এ আয়াত এর ব্যাখ্যা থেকে বোঝা গেল যে, মিরাজে হুযুর আলাইহিস সালামকে সে সমস্ত জ্ঞান দান করা হয়েছিল, যা, যে কারো জন্যে বর্ণনাতীত ও কল্পনাতীত। ماكَانَ وَمَايَكُوْنَ (যা কিছু হয়েছে ও হবে) এ কথাটি শুধু বর্ণনার সুবিধার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ এর চেয়ে ঢের বেশী জ্ঞান তাঁকে দান করা হয়েছে।



কোরআন থেকে দলিল ১৮

وَمَاهُوَعَلَى الْغَيْبِ بِضَنِيْنٍ

এ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) গায়ব প্রকাশের ক্ষেত্রে কৃপণ নন।

এ কথা বলা তখনই সম্ভবপর, যখন হুযুর আলাইহিস সালাম গায়বী ইলমের অধিকারী হয়ে জনগণের কাছে তা ব্যক্ত করেন। ‘মা’ আলিমুত তানযীল নামক তাফসীর গ্রন্থে এ আয়াতের ব্যাখ্যা এভাবে করা হয়েছে

হুযুর আলাইহিস সালাম অদৃশ্য বিষয়, আসমাণী খবর, ও কাহিনী সমূহ প্রকাশ করার ব্যাপারে কৃপণ নন। অর্থাৎ হুযুর আলাইহস সালাম অদৃশ বিষয়ের জ্ঞান লাভ করেন, তবে উহা তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে কোনরূপ কাপূর্ণ করেন না, বরং তোমাদেরকে জানিয়ে দেন ও উহাদের সংবাদ দেন । গণক ও ভবিষ্যতবেত্তারা যেরূপ খবর গোপণ করে রাখে, সেরূপ তিনি গোপন করেন না।

তাফসীরে খাযেনে এ আয়াতের তাফসীরে উল্লেখিত আছে

এ আয়াতে একথাই বোঝানে হয়েছে যে, হুযুর আলাইহিস সালামের কাছে অদৃশ্য বিষয়ের সংবাদ আসে। তিনি উহা তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে কাপূর্ণ করেন না, বরং তোমাদেরকে জানিয়ে দেন।

এ আয়াত ও এর তাফসীরের ভাষ্য থেকে বোঝা গেল যে, হুযুর আলাইহিস সালাম লোকদেরকে ইলমে গায়ব শিক্ষা দেন। বলা বাহুল্য যে, তিনি জানেন, তিনিতো শিখিয়ে থাকেন।



কোরআন থেকে দলিল ১৯

وَعَلَّمْنهُ مِنْ لَّدُنَّا عِلْمًا

আমি (আল্লাহ) তাঁকে (হযরত খিযির আলাইহিস সালামকে) আমার ইলমে লদুনী দান করেছি।

তাফসীরে বয়যাবীতে এ আয়াতে ব্যাখ্যায় লিখা হয়েছে

হযরত খিযির আলাইহিস সালামকে এমন বিষয়াদির জ্ঞান দান করেছি, যেগুলো সম্পর্কে শুধু আমিই অবগত, যা আমি না বললে কেউ জানতে পারে না। এটাইতো ইলমে গায়ব।

তাফসীরে ইবনে জারীরে সায়্যেদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে

হযরত খিযির (আলাইহিস সালাম) হযরত মুসা (আলাইহিস সালাম) কে বলেছিলেন আপনি আমার সঙ্গে অবস্থান করলে ধৈর্যধারণ করতে পরবেন না। হযরত খিযির (আলাইহিস সালাম) ইলকে গায়বের অধিকারী ছিলেন বলেই এ কথাটি পূর্বেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।

তাফসীরে রূহুল বয়নে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছেঃ

হযরত খিযির (আলাইহিস সালাম) কে যে ইলমে লদুনী শিখানো হয়েছিল উহাই ইলমে গায়ব। এবং গায়বের খবর পরিবেশন খোদার ইচ্ছানুযায়ী হয়ে থাকে । হযরত ইবনে আব্বাস (রাদিআল্লাহু আনহু) এ মতই পোষণ করেছেন।

তাফসীরে মাদারেকে এ আয়াতের ব্যাখ্যা এভাবে করা হয়েছেঃ-

يَعْنِى الْاِخْبَارُ بِالْغَيُوْبِ وَقِيَلَ الْعِلْمُ اللَّدُنِىْ مَاحَصَلَ لِلْعَبْدِ بِطَرِيْقِ الْاِلْهَامِ

অর্থাৎ হযরত খিযির (আলাইহিস সালাম) কে অদৃশ্য বিষয়াদি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। কেউ বলেছেন ইলমে লদুনী হলো এমন এক বিশেষ জ্ঞান যা বান্দা ইলহামের মাধ্যমে অর্জন করেন।

তাফসীরে খযেনে আছেঃ-

اَىْ عِلْمَ الْبَاطِنِ اِلْهَامًا

অর্থাৎঃ হযরত খিযির আলাইহিস সালামকে আমি ইলহামের মাধ্যমে বাতেনী ইলম দান করেছি।

এ আয়াত ও তাফসীরের ইবারত সমূহ থেকে বোঝা গেল যে আল্লাহ তআলা হযরত খিযির (আলাইহিস সালাম) কে ইলমে গায়ব দান করেছিলেন। এ থেকে হুযুর আলাইহিস সালামকে ইলমে গায়ব দান করার বিষয়টি অপরিহার্যরূপে স্বীকৃত হয়। কেননা খোদার সৃষ্টিকূলের মধ্যে তিনিই সর্বাধিক জ্ঞানী আর হযরত খিযির (আলাইহিস সালাম) ও সৃষ্টিকূলের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র