মুহাম্মাদ (সঃ) নূর সমর্থনে দলিল সমূহ 5

From Sunnipedia
Revision as of 16:10, 18 November 2015 by Khasmujaddedia1 (Talk | contribs)

(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
Jump to: navigation, search

আম্বিয়া (আ:)-বৃন্দ আল্লাহর দানকৃত নূর ও অন্যান্য নেয়ামতের প্রশ্নে ফেরেশ্তাদের চেয়েও উন্নত আল্লাহর এক সৃষ্টি, যে খোদায়ী দান ও নেয়ামত হযরত ইবনুল আরবী আল মালেকী (রহ:)-এর ভাষায় হতে পারে আম (সার্বিক) বা খাস (বিশেষ), তাঁদের কলব্ (অন্তর) বা জিসম (দেহ) মোবারকে সন্নিবেশিত। আম্বিয়া (আ:)-এর ফেরেশ্তাপ্রতিম অভ্যন্তরীন সিফাত বা গুণাবলী সম্পর্কে ইমাম কাজী আয়ায (রহ:) নিজ ‘শেফা’ পুস্তকে (ইংরেজি সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২৭৭-৮) খোলাসা বর্ণনা দেন নিম্নে:

নবী-রাসূলবৃন্দ আল্লাহতা’লা ও তাঁর সৃষ্টিকুলের মাঝে মধ্যস্থতাকারীস্বরূপ। তাঁরা মহান প্রভুর আদেশ-নিষেধ, সতর্কবাণী ও শাস্তির ভীতি প্রদর্শন সৃষ্টিকুলকে জানান এবং তাঁর আজ্ঞা, সৃষ্টি, পরাক্রম, ঐশী ক্ষমতা এবং মালাকুত সম্পর্কে তারা যা জানতো না, তাও তাদের জানিয়ে থাকেন। তাঁদের বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও শারীরিক গঠন অসুখ-বিসুখ, পরলোক গমন ইত্যাদি অনাবশ্যক বিষয়ে মানুষের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত বলেই দৃশ্যমান।

কিন্তু তাঁদের রূহ মোবারক ও অভ্যন্তরীন (অদৃশ্য) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সর্বোচ্চ পর্যায়ের মানবিক গুণাবলীর অধিকারী, যা মহান প্রভুর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যা ফেরেশ্তাপ্রতিম গুণাবলীর অনুরূপ; আর কোনো পরিবর্তন (অধঃপতন) কিংবা খারাবির সম্ভাবনা থেকে যা মুক্ত। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে মানুষের সাথে সম্পৃক্ত অক্ষমতা ও (মানবীয়) দুর্বলতা তাঁদের মধ্যে নেই। তাঁদের অভ্যন্তরীন গুণাবলী যদি তাঁদের বাহ্যিক মানবীয় আবরণের মতো হতো, তাহলে তাঁরা ফেরেশ্তার কাছ থেকে ওহী/ঐশী বাণী গ্রহণ করতে পারতেন না, ফেরেশ্তাদের দেখতেও পেতেন না, তাঁদের সাথে মেশতে ও সঙ্গে বসতেও পারতেন না, যেমনিভাবে আমরা সাধারণ মানুষেরা তা করতে পারি না।

যদি আম্বিয়া (আ:)-এর বাহ্যিক কায়া মানবের মতো না হয়ে ফেরেশতাদের মতো গুণাবলীসম্পন্ন হতো, তাহলে তাঁদেরকে যে মর্তের মানুষের মাঝে পাঠানো হয়েছিল তাদের সাথে তাঁরা কথা বলতে পারতেন না, যা আল্লাহ ইতোমধ্যে বলেছেন। অতএব, তাঁদের ‘জিসমানিয়্যাত’ তথা শারীরিক গঠনে তাঁরা মানবের সুরতে দৃশ্যমান, আর রূহ (আত্মাগত) এবং অভ্যন্তরীন গুণাবলীর ক্ষেত্রে তাঁরা ফেরেশতাসদৃশ।

সাহাবায়ে কেরাম বহুবার মহানবী (দ:)-কে নূর (জ্যোতি) বা আলোর উৎস, বিশেষ করে চাঁদ ও সূর্যের সাথে তুলনা করেছেন। এঁদের মধ্যে প্রধান হলেন তাঁর কবি হযরত হাসসান বিন সাবিত আনসারী (রহ:); তিনি লিখেন:

তারাহহালা ‘আন কওমিন ফাদ্দালাত ‘উকুলাহুম

ওয়া হাল্লা ‘আলা কওমিন বি নূরিন মুজাদ্দাদি ।

অর্থঃ

তিনি এমন এক জাতিকে ত্যাগ করেন, যারা নিজেদের খামখেয়ালিপূর্ণ মস্তিষ্ককে দিয়েছিল তাঁর চেয়ে বেশি গুরুত্ব,

অতঃপর তিনি অপর এক জাতির ভাগ্যাকাশে উদিত হন, নিয়ে নতুন আলোর দিগন্ত । (ভাব অনুবাদ)


মাতা ইয়াবদু ফী আল-দাজী আল-বাহিমি জাবিনুহুইয়ালুহু মিসলা মিসবাহি আল-দুজা আল-মুতাওয়াক্কিদি ।

অর্থঃ

মহানবী (দ:)-এর পবিত্র ললাট যখনই আবির্ভূত হয়েছে ঘন কালো অন্ধকারে

তা অন্ধকার রাতে উজ্জ্বল তারকার মতোই দ্যুতি ছড়িয়েছে ।


নোটঃ
  • ইমাম বায়হাকী (রহ:) তাঁর প্রণীত ‘দালাইল আন্ নবুয়্যত’ (১:২৮০, ৩০২) গ্রন্থে এই দুটো পংক্তি বর্ণনা করেন।
  • পরবর্তী পংক্তিটি ইবনে আবদিল বারর নিজ ‘আল ইস্তিয়া’ব’ (১:৩৪১) বইয়ে এবং আল যুরকানী মালেকী তাঁর ‘শরহে মাওয়াহিব আল্ লাদুন্নিয়া পুস্তকেও বর্ণনা করেন।

হযরত আবু উবায়দা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আম্মার ইবনে ইয়াসের (রা:) বর্ণনা করেন:

আমি হযরত রুবাইয়ী বিনতে মু’আওয়ায (রা:)-কে জিজ্ঞেস করি, “মহানবী (দ:) সম্পর্কে বর্ণনা করুন।”

তিনি উত্তর দেন, “তুমি তাঁকে দেখলে বলতে: সূর্যোদয় হচ্ছে।”

নোটঃ
  • এই বর্ণনা ইমাম বায়হাকী (রহ:) উদ্ধৃত করেছেন তাঁর ‘দালাইল আন্ নবুয়্যত’ (১:২০০) কেতাবে;
  • আর ইমাম ইবনে হাজর হায়তামী মক্কী (রহ:) নিজ ‘মজমাউল যাওয়াইদ’ (৮:২৮০) গ্রন্থে; তাতে তিনি বলেন যে ইমাম তাবারানী (রহ:)-ও স্বরচিত ‘মু’জাম আল কবীর’ ও ‘আল আওসাত’ পুস্তক দুটোতে এটা রওয়ায়াত করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীদেরকে নির্ভরযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

হযরত কাআব ইবনে মালেক (রা:) বলেন,

আমি হুযূর পূর নূর (দ:)-কে সালাম দেই, আর তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডল আলোকোজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তিনি যখনই খুশি হতেন, তাঁর চেহারা মোবারক এমন উজ্জ্বল হতো যেন চাঁদের ‍টুকরো।

তথ্যসূত্র