মৃত্যুর সময় ও মৃত্যুর পরে মুমিনের সম্মান

From Sunnipedia
Revision as of 16:17, 8 August 2015 by Khasmujaddedia1 (Talk | contribs)

(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
Jump to: navigation, search
কবরের জীবন

  • মৃত্যুর সময় ও মৃত্যুর পরে মুমিনের সম্মান

























হযরত বারায়া ইবনে আজিব (রা) বলেন , আমরা একদিন রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর সাথে এক জনৈক আন সারির জানাজা পড়তে কবর স্থানে গিয়েছিলাম । সেখানে পৌঁছে দেখলাম তখনও কবর খনন করা হয় নাই । এ কারনে নবী করীম (সঃ) সেখানে বসলেন । আমরাও তাঁর চারদিকে আদবের সাথে এমন ভাবে বসলাম যেন , আমদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে। রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর হাতে এক খানা লাঠি ছিল , তা দ্বারা তিনি চিন্তা যুক্ত মানুষের ন্যায় মাটি খুঁড়ছিলেন । নবী করীম (সঃ) নিজস্ব মাথা মুবারক উঠিয়ে বললেন , কবরের শাস্তি হতে আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো । এ কথা তিনি ২ বা ৩ বার বললেন । অতঃপর বললেন মুমিন বান্দা যখন দুনিয়া থে পরকাল অভিমুখি হয়, তখন আকাশ হতে তাঁর কাছে ফেরেস্তার আগমন ঘটে । যাদের চেহারা হচ্ছে সূর্যের ন্যায় সমুজ্জল । তাদের সাথে থাকে জান্নাতের কাফন ও জান্নাতের সুঘ্রাণ । এ ফেরেশতা গন মূমুর্ষ ব্যক্তির দৃষ্টির শেষ সীমায় গিয়ে বসে। অতঃপর মালাকুল মওত ফেরেশতার আগমন হয় । সে এসে মূমুর্ষ ব্যক্তির সিওরে বসে বলে হে পবিত্র আত্মা ! আল্লাহ্‌ তায়ালার ক্ষমা ও মাগফেরাত এবং তাঁর সন্তুষ্টির পানে দেহ থেকে বের হয়ে এসো । তখন মুমিন ম্যাক্তির আত্মা খুব সহজে এমন ভাবে দেহ থেকে বের হয়, যেমন কলসি থেকে পানির ফোটা প্রবাহিত হয়ে বেরিয়ে আসে । অনন্তর মালাকুল মওত তা বরন করে নেন ।

অতঃপর মালাকুল মওত হাতে নেওয়ার পর তিনি তা দূরে অপেক্ষ মান অন্যান্য ফেরেশ্তাদের হাতে ছেড়ে দিতে না দিতেই মুহূর্তের মধ্যেই তারা সে আত্মা কে জান্নাতের কাফন ও সুগন্ধিতে জড়িয়ে আসমানের দিকে চলে যান । এ সুঘ্রাণ সম্পর্কে নবী করীম (সঃ) বলেন , পার্থিব জগতে সবচেয়ে উত্তম সুগন্ধি হচ্ছে মেশক, তাদের সাথে আনিত সুঘ্রান মেশকের মতই উত্তম।

অনন্তর নবী করীম (সঃ) বলেন, অতঃপর সে আত্মা নিয়ে ফেরেশ তা গন ঊর্ধ্ব গগন পানে চলতে থাকেন ।তারা অন্যান্য যেসব ফেরেস্তাদের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম করেন, তারা জিজ্ঞেস করেন , এই পবিত্র আত্মা কার?

প্রতুত্তরে তারা দুনিয়ায় উচ্চারিত সুন্দর নাম উল্লেখ করে বলেন, এ অমুকের পুত্র অমুকের আত্মা। এভাবে তারা প্রথম আকাশে পৌছলে প্রথম আকাশের দুয়ার খুলে দেয়া হয় । অতঃপর তারা এ আত্মা কে নিয়ে আরও ঊর্ধ্ব মারগে যেতে থাকেন । শেষ পর্যন্ত তারা পরজায়ক্রমে সপ্তম আকশে পোঁছান । এ সময় প্রত্যেক আকাশের ফেরেশ্তা গন তাঁকে অন্য আকাশ পর্যন্ত বিদায় অভিনন্দন জানান। সপ্তম আকাশে উপনিত হলে আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেনঃ আমার এ বান্দার নাম ইল্লিনের দফতরে লিপিবদ্ধ করো এবং তাঁকে পুনরায় পৃথিবীতে নিয়ে যাও । কেননা আমি মাটি দ্বারা মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং সে মাটিতেই তাঁকে ফিরিয়ে দেব। আর সে মাটি থেকেই তাঁকে দ্বিতীয়বার উত্থিত করবো।“ অতপর আত্মা কে তাঁর দেহ অবয়ব এ রাখা হয় । তারপর তাঁর কাছে ২ জন ফেরেশতার আগমন ঘটে । তারা তাঁকে উথিয়ে বসান এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করেন , তোমার প্রভু কে? সে বলে আল্লাহ্‌ তায়ালা আমার প্রতি পালক ,অতঃপর তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় তোমার ধর্ম কি? সে বলে আমার ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। পুনরায় তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় ,এ ব্যাক্তি কে? যাকে তোমাদের কাছে প্রেরন করা হয়েছিলো? প্রতুত্তরে সে বলে ইনি আল্লাহ্‌ তায়ালার রাসুল। অতঃপর তাঁকে জিজ্ঞাশ করা হয় তোমার আমল কি?সে বলে , আমি আল্লাহ্‌ তায়ালার কিতাব পাঠ করেছি। আর তা বিশ্বাস ও সত্তারপ করেছি ।

এরপর আসমান থেকে একজন ঘোষক এই ঘোষণা দেন (আসলে যা আল্লাহর ঘোষণা) “ আমার বান্দা সত্য বলেছে, সুতরাং তাঁর জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও ।, তাঁকে জান্নাতের কাপর পরিধান করাও। এবং তাঁর জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা উন্মুক্ত করে দাও ।“ অতঃপর তাঁর দিকে জান্নাতের একটি দরজা খুলে দেয়া হয়। সে দরজা দিয়ে জান্নাতের সুঘ্রাণ এসে তাঁর কাছে পৌঁছে । আর দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত তাঁর কবর কে প্রশস্ত করা হয় । এরপর খুব সুন্দর পসাক পরিহিত ও পবিত্র ও সুঘ্রাণ মাখা এক ব্যাক্তি এসে তাঁর কাছে বলেনঃ তুমি সুখ ও আনন্দ ও প্রসান্তির ব্যাপারে সুসংবাদ গ্রহন করো । এ হচ্ছে সেই দিন যেদিনের আগমন সম্পর্কে তোমাকে প্রতিস্রুতি দেয়া হয়েছে । মুমিন ব্যাক্তি তখন জিজ্ঞাস করেন তুমি কে? বাস্তবিকই তোমার চেহারা খুব সুন্দর এবং উত্তম চেহারা বলার যোগ্য।প্রত্যুত্তরে সে বলেঃ আমি তোমার পুণ্য কর্ম । তখন মুমিন ব্যাক্তি আনন্দ চিত্তে বলে , সে আমার প্রতিপালক ! কেয়ামত কায়েম করুন । হে আমার প্রতি পালক ! কেয়ামত কায়েম করুন । যাতে আমি আমার পরিবার পরিজন ও সম্পদের সাথে মিলিত হতে পারি ।