রুকানার মল্লযুদ্ধের অভিনব কাহিনী

From Sunnipedia
Revision as of 16:03, 18 November 2015 by Khasmujaddedia1 (Talk | contribs) (Created page with "{{মোজেজা 2|মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 2}} সেকালে বনু আবদুল মুত্তালিব...")

(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 2
















  • রুকানার মল্লযুদ্ধের অভিনব কাহিনী













সেকালে বনু আবদুল মুত্তালিবে রুকানা ইব্ন আবদে ইয়াজিদ ছিল গোটা আরবের অপরাজেয় বীর কুস্তিগীর। একবার মক্কায় এক নির্জন পাহাড়ী পথে রাসূল (সা)-এর সাথে তার দেখা হয়। রাসূল (সা) যথারীতি তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। রুকানা বললঃ যদি আমার কাছে আপনার এ দাওয়াত সত্য বলে মনে হতো তবে তা কবূল করতাম।’ রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ আচ্ছা বলো তো, আমি যদি তোমাকে কুস্তিতে হারিয়ে দেই, তবে কি তা তোমার বিশ্বাস হবে ?’ রুকানা স্মিত হেসে সাথে সাথেই স্বীকার করলঃ বিশ্বাস হবে।

রুকানা কুস্তি লড়ার জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দিকে জবর ভঙ্গিতে এগিয়ে এলো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে ধরেই এমনভাবে ধরাশয়ী করলেন যেন সে একজন অসহায় অক্ষম মানুষ।

ব্যাপারটা রুকানার বিশ্বাসই হচ্ছিল না। এভাবেও তাকে কেউ কোনদিন ফেলে দিতে পারে? এ-ও কি সম্ভব ? সে পুনরায় লড়াই করার প্রস্তাব দিল। আবার লড়াই হলো? এবারও সে-ই আগের মত ধরাশয়ী হলো। হতবাক হয়ে রুকানা বললঃ আল্লাহর কসম হে মুহাম্মদ ! এ বড় তাজ্জব ব্যাপার। আপনি আমাকে পরাস্ত করলেন।

রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ রুকানা তুমি চাইলে আরও আশ্চার্য ব্যাপার দেখাতে পারি।’ রুকানা বলল ঃ সেটা কি ? তিনি বললেনঃ ঐ যে গাছটা দেখতে পাচ্ছ, আমি তাকে ডাক দেওয়া মাত্র আসবে। সে বললঃ ডাকুন তো।

রাসূল (সা) গাছটিকে (ইশারায়) ডাকলেন। সাথে সাথেই গাছটি দ্রুত এসে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে গেল। তারপর আবার তাঁকে স্বস্থানে ফিরে যেতে বললেন। সাথে সাথেই সেটি নিজ জায়গায় ফিরে গেল।

রুকানা গিয়ে কাওমের বলল, হে বনু আবদে মানাফ! তোমরা তোমাদের এ সাথীটিকে নিয়ে জাদুর প্রতিযোগিতায় নামতে পার। আল্লাহর কসম ! ওর মতো বড় জাদুকর আর হয় না। এ বলে সে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল। (ইব্ন ইসহাক)

অন্য আর একটি রেওয়ায়েতে হযরত আবূ উমামা (রা) বর্ণনা করেন, বনী হাশিমে রুকানা নামে এক লোক ছিল। অসাধারণ বলবান বীর। কাউকে ধরলে মুহূর্তে শেষ করে ফেলত।

সে রুকানা ‘আসম’ নামক এক উপত্যূকায় ছাগল চারাত। একদিন রাসূলুল্লাহ্ (সা) সেদিকে গেলেন। সেখানে রুকানার সাথে তাঁর দেখা হলো। তিনি ছিলেন একা। তাঁকে রুকানা বলল, মুহাম্মদ ! আপনিই কি সে-ই লোক যে আমাদের উপাস্য লাভ ও উজ্জাকে মন্দ বলেন ? এবং নিজের উপাস্যকে মহাশক্তিমান ও প্রজ্ঞাবান বলে মানুষকে তাঁর দিকে আহবান করেন ? জেনে রাখুন, আপনার সাথে যদি আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকতো তবে আজই আমি আপনাকে হত্যা করে ফেলতাম। কোন আপত্তিই মানতাম না। আজ আপনি আপনার মহাশক্তিমান উপাস্যের কাছে নিজেকে রক্ষা করার জন্য কি দোয়া করবেন ? শুনুন, আমি একটি প্রস্তাব করছি। আমরা উভয়ে কুস্তি লড়ব। আমাকে পরাজিত করতে পারলে আপনি আমার দশটি ছাগল পাবেন। আপনি নিজে সেগুলো বেছে নেবেন আমার পাল থেকে।

রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ তুমি যদি তাই চাও, তবে তাই হবে। আমি প্রস্তুত। কুস্তির লড়াই শুরু হলো। রাসূলুল্লাহ্ (সা) আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, আর রুকানা লাভ ও উজ্জাকে ডাকল। রাসূল্লাহ্ (সা) রুকানাকে মুহূতেই মাটিতে ফেলে দিয়ে তার বুকের উপর বসলেন। রুকানা বললঃ আমার উপর থেকে আপনি উঠুন। আপনার সর্বশক্তিমান প্রভু আমাকে ধরাশায়ী করেছ ; আপনি করেননি। কিন্তু লাত ও উজ্জা আমাকে সাহায্য করেনি। আমার পিঠ আর কেউ কোনদিন মাটিতে ঠেকাতে পারেনি।

রুকানা প্রস্তাব করল, আবার লড়াই করুন। এবারও আমকে পরাজিত করতে পারলে আরও দশটি ছাগল পাবেন। পূর্বের মতো যার যার উপাস্যের কাছে প্রার্থনা করার পর লড়াই শুরু হলো। রুকানাকে রাসূলুল্লাহ্ (সা) ধরলেন আর মাটিতে আছড়ে ফেলে বুকের উপর বসলেন।

রুকানা বললঃ আমার বুক থেকে উঠুন। আপনি আমাকে পরাজিত করেননি, করেছে আপনার আল্লাহ্। লাত ও উজ্জা আমাকে সাহায্য করেনি। নয়তো আজ পর্যন্ত কেউ আমার পিঠ মাটিতে লাগাতে পারেনি। রুকানা আবার তৃতীয়বার লড়াইয়ের প্রস্তাব দিল। বললঃ আরও দশটি পছন্দসহ ছাগল দেব। তৃতীয়বারও রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে অনায়াসে পরাজিত করলেন। রুকানা আবারও তার লাত ও উজ্জার সাহায্য না করার কথা উল্লেখ করল। তারপর বললঃ আপনি আমার ছাগল থেকে ত্রিশটি ছাগল বেছে নিয়ে যান।

রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, রুকানা ! ছাগল আমি চাই না, তোমাকে আমি পবিত্র ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। তুমি জাহান্নমে যাও এটা আমার পছন্দ নয়। ইসলাম গ্রহণ করো, জাহান্নাম থেকে বেঁচে যাবে।

রুকানা বললঃ কোন প্রমাণ না দেখালে আমি ইসলাম কবূল করব না।

রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ আল্লাহ্ সাক্ষী, যদি আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আর তিনি কোনও নিদর্শন দেখান, তবে কি তুমি ইসলাম কবূল করবে ? রুকানা বললঃ অবশ্যই করব।

কাছেই একটা কাঁটাওয়ালা গাছ ছিল। ঐ গাছের দিকে ইশারা করে তিনি বললেনঃ আল্লাহর হুকুমে আমার কাছে এস। সাথে সাথেই গাছটি দু’ভাগে ভাগ হয়ে একভাগ ডালপাতাসহ তাঁদের দুজনের সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল। রুকানা বললঃ “খুব বড় নির্দশন দেখালেন। এবার একে ফিরে যেতে বলুন।” রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ আল্লাহ্ সাক্ষী, যদি আমি দোয়া করি, গাছটি স্বস্থানে ফিরে যায়, তবে কি তুমি ইসলাম কবূল করবে ? সে বললঃ অবশ্যই । রাসূলুল্লাহ্ (সা) দোয়া করলেন। গাছটি স্বস্থানে ফিরে গিয়ে পূর্ববৎ হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ রুকানা ! মুসলমান হয়ে যাও। রক্ষা পাবে।

রুকানা উত্তর দিল, এ বিরাট নির্দশন দেখার পর মুসলমান হতে কোন বাধা নেই। কিন্তু আমার বড় শরম লাগে যে মক্কার নারীরা বলাবলি করবে, আপনার ভয়ে ভীত হয়ে আমি আপনার দীন গ্রহণ করেছি। নগরীর নারী-পুরুষ সকলে জানে, কেউ আমার পিঠ মাটিতে ছোঁয়াতে পারেনি। আমি দিন-রাতের কোন সময়ে ভীত হইনি। আমি দিন-রাতের কোন সময়ে ভীত হইনি। আপনি আপনার প্রাপ্য ছাগল নিয়ে যান।

রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ আমি চাইছিলাম তুমি ইসলাম গ্রহণ করবে। (এজন্যই এত কিছু করলাম) সেটাই যখন তুমি করলে না, তখন ছাগলের প্রয়োজন আমার নেই। (বায়হাকী)

অন্য রেওয়াতের রুকানার নিজ জবানীতে বর্ণিত হয়েছে, (বিস্তরিত ঘটনা বর্ণনা করার পর বলা হয়েছে) অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ চতুর্থবারও লড়বে ? আমি বললামঃ না। তিনবারের পর আমার সে সাহস আর নেই। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ আমি তোমার সব ছাগল ফিরিয়ে দেব। তিনি আমার সব ছাগল ফিরিয়ে দিলেন।

তারপর যখন তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির খবর সর্বত্র প্রকাশিত হয়ে পড়ল, আমি তাঁর খিদমতে হাজির হয়ে মুসলমান হয়ে গেলাম। আল্লাহ্ পাক আমাকে সেসব বিষয়ে পথ দেখিয়েছিলেন তার মাঝে একটি হলো এ জ্ঞানলাভ করা যে সেদিন তিনি আমাকে নিজ শক্তিতে পরাজিত করেননি ; বরং অন্য এক শক্তিতেই পরাজিত করেছিলেন। (বায়হাকী)

তথ্যসূত্র

  • রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)