হযরত মুজাদ্দিদ (রহঃ) কর্তৃক সমস্ত তরীকার নিসবত লাভের ঘটনা

From Sunnipedia
Revision as of 09:00, 31 January 2016 by Khasmujaddedia1 (Talk | contribs)

(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
Jump to: navigation, search

হযরত ইমামে রাব্বানী মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রহ.) যেভাবে এই দুর্লভ সম্মানের অধিকারী হন, সে ঘটনাটি জাওয়াহেরে-মুজাদ্দেদীয়া গ্রন্থে এভাবে বর্ণিত আছেঃ

একদা অভ্যাস অনুযায়ী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রহ.) যখন মুরীদদের সাথে ফযরের সালাত আদায়ের পর হালকার মধ্যে মুরাকাবায় রত ছিলেন, তখন হযরত শাহ্ কামাল কায়থিলী (র.)-এর দৌহিত্র হযরত শাহ্ সেকান্দার (র.) সেখানে উপস্থিত হন এবং একটি খেরকাহ্ বা জামা হযরত মুজাদ্দিদ (রহ.)-এর কাঁধের উপর রাখেন। হযরত মুজাদ্দিদ (রহ.) মুরাকাবা থেকে ফারেগ হয়ে হযরত শাহ্ সেকেন্দার (র.) কে দেখে তাঁর সাথে আলিঙ্গন করেন এবং সম্মানের সাথে বসতে অনুরোধ করেন। তখন হযরত শাহ্ সেকেন্দার (র.) বলেনঃ আমি আপনার কাঁধের উপর যে খেরকাটি রেখেছি, তা হযরত বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (র.) -এর স্মৃতির পবিত্র নিদর্শন। এটা আমাদের খান্দানের কাছে দীর্ঘদিন থেকে আছে। আমার বুজর্গ পিতাসহ শাহ কামাল কাযখিলী (র.) ইনতিকালের সময় এ জুব্বাটি আমাকে দিয়ে বলেনঃ

"এটা আমানতস্বরূপ তোমার কাছে রাখ, আমি যখন এটা কাউকে দিতে বলি, তখন তাকে দিয়ে দিও।"

কিছুদিন থেকে তিনি এ জুব্বাটি আপনাকে দেওয়ার জন্য তাগিদ দিচ্ছেন। কিন্তু কাদেরীয়া খান্দানের এ অমূল্য সম্পদ হস্তান্তর করতে আমার মন চায়নি। এরপর যখন আমার বুজর্গ পিতামহ বার বার আমাকে তাগিদ দিতে থাকেন, এমন কি তাঁর নির্দেশ অমান্য করলে, তিনি আমার কামালাত ও নিসবত ছিনিয়ে নেয়ার ধমক দেন; তখন আমি বাধ্য হয়ে এ দুর্লভ আমানত আপনার খিদমতে পেশ করার জন্য নিয়ে এসেছি।

উল্লেখ্য যে, হযরত মুজাদ্দিদ (রহ.) সেই পবিত্র খেরকাহ্ পরিধান করে যখন তাঁর হুজরায় গমণ করেন, তখন তাঁর মনে এরূপ ভাবের উদয় হয়ঃ “যদি এই মাশায়েখে কিরাম আমাকে প্রথম থেকেই খলীফা বানাতেন এবং খেরকাহ্ প্রদান করতেন, তাহলে ভাল হতো। এ সময় হঠাৎ তিনি দেখতে পান যে, হযরত শাহ্ আব্দুল কাদের জিলানী (র.), আমীরুল মুমেনীন সাইয়েদেনা হযরত আলী (রা.)-এর সাথে সমুদয় খলিফা, এমনকি শাহ্ কামাল কায়থিলী (রহ.) সেখানে উপস্থিত। পবিত্র রূহ্গণের সে এক বিরাট জলসা! তখন বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানী (রহ.) হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রহ.) কে স্বীয় নিস্বত ও বাতেনী কামালাত দ্বারা ভরপুর করে দেন। পরে হযরত মুজাদ্দিদ (রহ.)-এর মনে এরূপ ধারণার সৃষ্টি হয় যে, আমার তারবিয়ত বা প্রতিপালন তো নকশবন্দীয়া তরীকার মাশায়েখগণ করেছেন, কাজেই আমি তো সেই বুজর্গদের দলভুক্ত। এরূপ চিন্তা করার পরেই তিনি দেখতে পান যে, সেখানে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর রূহের সাথে হযরত আব্দুল খালেক গাজদেওয়ানী (র.) থেকে শুরু করে, হযরত খাজা বাকী বিল্লাহ (রহ.) পর্যন্ত সমস্ত নক্শবন্দীয়া তরীকার মাশায়েখ তাশরীফ এনেছেন এবং হযরত বাহাউদ্দীন নকশ্বন্দ (রহ.) হযরত শাহ আব্দুল কাদের জিলানী (র)-এর নিকট উপবেশন করেছেন। এ সময় তারা পরষ্পর আলোচনা শুরু করেন। নক্শ্বন্দীয়া তরীকার মাশায়েখরা বলেনঃ

শায়েখ আহমদ সিরহিন্দী (র.) আমাদের তার বিয়তের দ্বারা কামালিয়াত হাসিল করেছে, আপনি অনর্থক তাকে আপনার দলভুক্ত করার চেষ্টা করছেন।

এর জাবাবে বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) বলেনঃ “শায়খ আহমদ (র.) প্রথমে আমাদের তরীকা থেকে ফয়েজপ্রাপ্ত হয়েছেন; কাজেই তিনি আমাদের রূহানী সন্তান।

এরূপ আলোচনা চলার সময় সেখানে চিশ্তীয়া, কুবরায়ীয়া, ও সোহরাওয়ার্দীয়া তরীকার মাশায়েখরা তাশ্রীফ আনেন এবং তাঁরা ও শায়খ আহমদ (রহ.)-কে তাদের তরীকাভুক্ত ও রূহানী সন্তান বলে দাবী করেন। কেননা. হযরত মুজাদ্দিদ (রহ.) প্রথম দিকে তাঁর পিতার মাধ্যমে এ সব তরীকার ফয়েজ ও নিসবত হাসিল করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, মাওলানা হাশিম কাশমী (র.) এবং মোল্লা বদরুদ্দীন (র.) তাঁদের রচিত ইতিহাসে এরূপ লিপিবদ্ধ করেছেনঃ

এ সময় সমস্ত উম্মতে মুহাম্মাদীর ওলীগণ রূহানীভাবে সিরহিন্দ শরীফে সমবেত হন। আর এ পবিত্র সময়টি ছিল হিজরী ১০১১ সনের ১১ ই শাবানের সকাল থেকে জোহরের নামাযের শেষ সময় পর্যন্ত। অবশেষে সাইয়েদুল মুরসালীন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সেখানে রূহানীভাবে তাশরীফ আনেন। তখন আলোচিত বিষয়টি ফয়সালার জন্য তাঁর খিদমতে পেশ করা হয়।

তখন সব শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম এরূপ ফয়সালা দেনঃ

যেহেতু শায়খ আহমদ (র.)-এর তাকমিল বা পূর্ণতা লাভ ‘তরীকায়ে নক্শবন্দীয়াতে হয়েছে, সেহেতু এ তরীকারই রেওয়াজ বা প্রচলন করা হোক এবং বাকী অন্যান্য তরীকার সব নিসবত তাঁকে প্রদান করা হোক। যারফলে, শায়খ আহমদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ‘মুজাদ্দেদীয়া তরীকাহ’ সমস্ত তরীকার সার হিসেবে পরিণত হবে এবং তোমরা ও সকলে সমভাবে সওয়াবের অধিকারী হবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ

যেহেতু নবী-রাসূলদের পর শ্রেষ্ঠ মানুষ হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) হতে নক্শবন্দীয়া তরীকার উৎপত্তি এবং এই তরীকার মধ্যে অন্য তরীকার চাইতে দৃঢ়তার সাথে সুন্নতের অনুসরণ ও বিদ’আত বর্জনের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়, সে জন্য এর তরীকাই তাজ্দীদ বা দ্বীনের সংস্কার ও পূনরুজ্জীবনের জন্য অধিক সহায়ক।

এভাবে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত তরীকার মাশায়েখরা নিজ নিজ তরীকার পূর্ণ কামালাত ও নিস্বত হযরত মুজাদ্দিদ (রহ.) কে প্রদান করেন। এর সাতে যুক্ত হয় দ্বিতীয় হাযার বছরের মুজাদ্দিদের খাস কামালাত ও নিস্বত তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম প্রদত্ত খাস কামালাত সমূহ।

উল্লেখ্য যে, এছাড়া এর সাথে আরো মিলিত হয় কাইউমিয়াত, ইমামত, খাজিনাতু র রহমত বা রহমতের ভান্ডার ইত্যাদি বিশেষ কামালাত। এর ফলে জন্ম নেয় এক ‘সমষ্টিভূত তরীকা’, যা পূর্ববর্তী সমস্ত ওলীদের প্রতিষ্ঠিত তরীকার সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়েছে। সব তরীকার কামালাতের আধার নতুন এই সিলসিলার নাম হলোঃ “তরীকায়ে মুজাদ্দেদীয়া” ।এ তরীকার সিলসিলাহ্‌ অনুসরণ করলে, পূর্ববর্তী সমস্ত ওলীদের সিল সিলার ফয়েজ ও বরকত হাসিল হয়ে থাকে।” (হালাতে মাশায়েখে নকশবন্দী ও জাওয়াহেরে মুজাদ্দেদীয়া, পৃষ্ঠা নং-৩৮।) উল্লেখ্য যে, উপরে বর্ণিত সমস্ত ঘটনা রূহানী ভাবে সংঘঠিত হয়।

তথ্যসূত্র

  • মুজাদ্দিদ-ই-আলফে সানী (রহঃ) জীবন ও কর্ম (লেখকঃ ডক্টর আ. ফ. ম. আবু বকর সিদ্দীক)