আবূ জেহেলের অপমান

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 2














  • আবূ জেহেলের অপমান















একবার ইরাশা গোত্রের এক লোক কয়েকটি উট নিয়ে বিক্রয় করার জন্য মক্কায় আসে। আবূ জেহেল সেগুলো ক্রয় করে। কিন্তু তার যেমন চরিত্র, দাম দেওয়া নিয়ে টালবাহানা শুরু করে। নিরুপায় ইরাশী লোকটি কাবার পাশে জমায়েত হওয়া কুরাশদের এক মজলিসে এসে নালিম জানাল। বলল, ‘আপনাদের মাঝে এমন কেউ আছে কি, যে আমার উটের মূল্য আবুল হাকেমের কাছ থেকে আদায় করে দেবে ? আমি বিদেশী মুসাফির। আমার পাওনা হক সে মেরে দিচ্ছে।’

এ সময় কাবা প্রঙ্গণে একপাশে রাসূলুল্লাহ্ (সা) একাকী বসেছিলেন। পাষগুরা এ বিদেশী মুসফিরের এ রকম করুণ আবেদনে সাড়া তো দিলেই না, উপরন্তু পরিহাস করে রাসূল (সা)-কে দেখিয়ে বলল, তুমি ওর কাছে যাও। তোমার পাওনা আদায় করে দিতে পারবে। ইরাশী লোকটি সরলভাবে রাসূল (সা)-এর কাছে গেল। এতে কুরায়শরা হাসাহাসি করতে লাগল।

রাসূলুল্লাহ্ (সা)- এর কাছে গিয়ে ইরাশী ব্যক্তি তার আবেদন জানিয়ে বলল, ‘ওরা আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়ে দিল। দয়া করে আবুল হাকামের কাছ থেকে আমি বিদেশীর পাওনা আদায় করে দিন। আল্লাহ্ আপনাকে রহম করবেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) সবই বুঝতে পারলেন। তাঁর মেজাজ জালালে পৌঁছল। সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। ইরাশীকে বললেনঃ চল আমার সাথে।

কুরায়শ নেতারা অবাক হলো। তারা একজনকে পিছন পিছন পাঠিয়ে বলল, ‘দেখে এসো তো ওখানে কি কাণ্ড ঘটে।’ রাসূল (সা) সোজা আবূ জেহেলের বাড়ি গিয়ে দরজায় আঘাত করলেন। আওয়াজ হলো, কে ? তিনি বললেনঃ আমি মুহাম্মদ। তুমি আমার সামনে বেরিয়ে এসো। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর কণ্ঠে এমন কিছু ছিল যে, আবূ জেহেল সন্ত্রস্ত হয়ে উঠল এবং সাথে সাথেই ঘর থেকে বের হয়ে এলো। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর সামনে এসে ভয়ে তার মুখ এতই বিবর্ণ হয়ে গেল যেন এখনই তার প্রাণ বের হয়ে যাবে। রাসূল (সা) বললেনঃ এই ইরাশী লোকটির পাওনা এখনই দিয়ে দাও। তৎক্ষণাৎ আবূ জেহেল বললঃ হ্যাঁ, দাঁড়ান। একক্ষুণি এনে দিচ্ছি।’ বলেই সে দ্রুত ভিতরে চলে গেল এবং পাওনা টাকা নিয়ে এসে ইরাশীকে দিয়ে দিল।

রাসূল (সা) ফিরে এলেন। ইরাশী লোকটিকে বললেনঃ এবার তুমি নিজের পথে চলে যাও। কৃতজ্ঞ ইরাশী আবার কুরায়শদের মজলিসে ফিরে এসে আনন্দসহকারে বললঃ আল্লাহ্ তাঁকে উত্তম বদলা দিন, আল্লাহর কসম ! তিনি আমার পাওনা টাকা আদায় করে দিয়েছেন।

ইতিমধ্যে কুরায়শদের পাঠানো লোকটিও ফিরে এলো এবং বললঃ দেখলাম, তাজ্জব এক কাণ্ড। আল্লাহর কসম ! মুহাম্মদ গিয়ে দরজায় আঘাত করে বললেন, এর পাওনা আদায় করে দাও।’ আবূ জেহেলের তখন ভয়ে প্রাণ বেরিয়ে যাবার যোগাড়। “হ্যাঁ, দাঁড়ান, দিয়ে দিচ্ছি,” বলে সঙ্গে সঙ্গেই কাঁপতে কাঁপতে পাওনা পরিশোধ করে দিল। আর তাঁরাও পাওনা নিয়ে ফিরে এলেন।

সব শুনে কুরায়শরা হতবাক হয়ে গেল। একটু পর আবূ জেহেল নিজেই কাবা প্রাঙ্গণে মজলিসে এলো। কুরায়শরা তার এহেন কাপুরুষতায় ও ভীরুতায় ধিক্কায় দিল। বলল, তোমার হয়েছেটা কি ? আজ তুমি যা দেখালো এরকম তোমার কাছ থেকে কখনও আশা করিনি।

এমনিতেই আবূ জেহেলের মেজাজ ছিল বেজায় খারাপ তার উপর কুরায়শদের এহেন তিরস্কারে সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। বলল, ধিক্ তোমাদের। আল্লাহর কসম, সে যখন দরজায় কারাঘাত করে আওয়াজ দিল, তখনই ভয়ে কেন জানি কলজেটা কেঁপে উঠল। বের হয়ে এসে দেখি অতিকায় এক ভয়স্কর-দর্শন উট তার মাথার উপর দিয়ে আমার দিকে মুখ ব্যাদান করে দাঁড়িয়ে আছে। এত বড় মাথা, এত লম্বা ঘাড় আর এরকম বড় ও ভয়স্কর দাঁতওয়ালা উট জীবনে দেখিনি। আল্লাহর কসম ! আমি যদি তার পাওনা আদায়ে অস্বীকার করতাম মুহূতেই ওটি আমাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলত। (ইব্ন ইসহাক ও খাসায়েসুল কোবরা)

তথ্যসূত্র

  • রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)