আশুরা

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

عاشوراء শব্দটি عاشر থেকে গঠিত, যার অর্থ হলো দশম । আর يوم عاشوراء অর্থ দশম দিন । মুহরম মাসের দশম তারিখকে আশুরার দিন বলা হয় । কোন কোন ওলামায়ে কেরাম এর নামকরনের কারণ হিসেবে বলেন আল্লাহ তাআলা ঐ দিন দশজন নবীকে এক একটি বিশেষ নিয়ামত দান করেছিলেন । ফলে মোট দশজন নবীকে দশটি নিয়ামত প্রদান করা হয়েছিল বলেই ঐদিনকে আশুরার দিন বলা হয় ।

হযরত ওমর (রাঃ) রাসূল (সঃ) এর নিকট আরয করলেন যে, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সঃ) আল্লাহ তাআলা আশুরার রোযার সাথে আমাদের বড় ফযিলত দান করেছেন । নবী করিম (সঃ) এরশাদ করেন হ্যাঁ, কেননা এই দিন আল্লাহ তাআলা আরশ-কুরশী, তারকারাজি ও পাহাড় সৃষ্টি করেছেন । হযরত আদম (আঃ) ও হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে এদিনে সৃষ্টি করেছেন । হযরত ইব্রাহীম (আঃ)কে নমরুদের আগুন থেকে এই দিনে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং তাঁর সন্তান হযরত ইসমাঈল (আঃ)কে ফিদিয়া এই দিনেই দিয়েছিলেন । ফেরাঊনকে আশুরার দিনে নদীতে নিমজ্জিত করা হয়েছিল । হযরত ইদ্রিস (আঃ)কে এই দিনে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল, হযরত আইয়ুব (আঃ)’র রোগমুক্তি এবং হযরত ইসা (আঃ)কে আসমানে এই দিনে তুলে নেয়া হয়েছিল । ঈসা (আঃ)’র জন্মও এদিন হয়েছিল । হযরত আদম (আঃ)’র তওবা কবুল, হযরত দাউদ (আঃ) এর ত্রুটি ক্ষমা, হযরত সোলাইমান (আঃ)’র বাদশাহী এই দিনে লাভ করেছিলেন । স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা স্বীয় আরশে এই দিন সমাসীন হয়েছিলেন । কিয়ামত আশুরার দিনেই সঙ্ঘটিত হবে । আসমান থেকে সর্বপ্রথম বৃষ্টি এই দিন অবতীর্ণ হয়েছিল এবং আসমান থেকে সর্বপ্রথম রহমত নাযিল হয়েছিল এদিনে । যে ব্যক্তি আশুরার দিন গোসল করবে সে মৃত্যুরোগ ব্যতীত অন্য কোন রোগে আক্রান্ত হবে না । যে ব্যক্তি আশুরার দিনে পাথরের সুরমা চোখে লাগাবে সারা বছর সে চোখের রোগ থেকে নিরাপদ থাকবে । যে ব্যক্তি এদিন কোন রোগীর সেবা করবে সে যেন সকল বনী আদমের সেবা করলো, যে ব্যক্তি আশুরার দিন কাউকে এক ঢোক পানি পান করাবে সে যেন মুহুর্তের জন্যও আল্লাহর নাফরমানি করে নি ।

— গুনিয়াতুত্তালিবিন, উর্দূ পৃঃ ৪২৭

বিভিন্ন রেওয়ায়েতে প্রাপ্ত আশুরার দিনে ঘটে যাওয়া বিশেষ ঘটনাগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো
  • আশুরার দিনে আল্লাহ পাক আরশ, কুরসী,লাওহ,কলম, সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি সৃষ্টি করেছেন।
  • আসমান, যমীন ও জান্নাত সৃষ্টি করেছেন এ দিবসেই।
  • হযরত জিব্রাঈল আলায়হিস সালাম এবং মুক্বাররাবীন ফেরেশতাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে এ দিনে।
  • আমাদের আদিপিতা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে এ দিনে। এ দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল এবং বেহেশত হতে দুনিয়াতে অবতরণের পর সাড়ে তিনশ বছর কান্নাকাটির পর তাঁর তওবা কবুল করা হয়েছিল এই আশুরার দিবসেই।
  • আশুরার দিবসে আল্লাহ পাক হযরত ইদ্রিস আলায়হিস সালামকে অতি উচ্চমর্যাদা দান করেছিলেন।
  • হযরত নূহ আলায়হিস সালাম ও জাহাজে আরোহনরত তাঁর অনুসারীদের মহাপ্লাবন থেকে মুক্তি দিয়েছেন এই দিবসেই।
  • আশুরার দিবসেই হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস সালাম-এর শুভজন্ম হয়েছিল, তাঁকে নমরূদের অগ্নিকুন্ড হতে নাজাত দেয়া হয়েছিল এবং এ দিনেই তিনি খলিলুল্লাহ উপাধি লাভ করেন ।
  • হযরত ইয়াকুব আলায়হিস সালাম এর কাছে হযরত ইউসুফ আলায়হিস সালামকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এ দিবসে।
  • আশুরার দিনে আল্লাহ পাক হযরত ইউনুছ আলাইহিস সালামকে মাছের পেটথেকে মুক্ত করেছিলেন।
  • আল্লাহ হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে ফির’আউনের কবল হতে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফির’আউন ও তার দলবলকে সমুদ্রেডুবিয়ে মেরেছিলেন, এ আশুরার দিনে।
  • এ দিনেই আল্লাহ পাক হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম-এর তাওবা কবুল করেছিলেন।
  • আশুরার দিনেই আল্লাহ পাক আসমান হতে সর্বপ্রথম রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলেন।
  • আশুরা হযরত ঈসা আলায়হিস সালাম-এর জন্মদিন এবং এ দিনেই তাঁকে আসমানে তুলে নেয়া হয়েছিল।
  • আল্লাহ পাক হযরত সুলাইমান আলায়হিস সালামকে এ দিনেই ‘মুলকে আযীম’ তথা মহারাজত্ব দান করেছিলেন।
  • এ দিনেই হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে গভীর কূপ থেকে বের করা হয়েছিল।
  • এ দিনেই হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালামকে কঠিন রোগের কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল।
  • এ আশুরার দিনে রোযা রাখা উম্মতের জন্য ফরয ছিল, এ হুকুম রহিত করে রমজান মাসে রোযা রাখাকে ফরজ করা হয়েছে। [মুকাশিফাতুল কুলুব: ৩১১ পৃষ্ঠা]
  • সর্বশেষ এ আশুরার দিন তথা হিজরি ৬১ সনের মুহররম আমাদের প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর আদরের দুলাল, মা ফাতেমাতুয যাহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এর কলিজার টুকরা, বেহেশতী যুবকদের সরদার হযরত ইমাম হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কুখ্যাত ইয়াযীদের দুঃশাসন থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের রক্ষায় ঐতিহাসিক কারবালা ময়দানে শাহাদাত বরণ করেন।
  • মুহাররমের দশ তারিখ তথা আশুরার দিবসেই ক্বিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র

  • বারো মাসের আমল ও ফযিলত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মাদ ওসমান গণি)
  • মাসিক তরজুমান ১৪৩৫ হিঃ মুহররম সংখ্যা