আশুরার রোযার গুরুত্ব

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
আশুরা

  • আশুরার রোযার গুরুত্ব

আশুরার দিবসে ইবাদত-বন্দেগীর ফজিলত অপরিসীম। পূর্ববর্তী নবীগণ এ দিবসে রোযা পালন করতেন। আমাদের শরীয়তে এ দিবসের রোযা রাখা মুস্তাহাব। যেমন হাদীস শরীফে এসেছে,

হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা মুনাওয়ারা হিজরত করে এসে দেখতে পেলেন মদীনার ইহুদিরা আশুরার দিনে রোযা পালন করছে। আল্লাহর রাসূল তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা এ দিবসে রোযা পালন কর কেন? তারা বলল, এটা এমন দিন যেদিন আল্লাহ পাক হযরত মুসা আলায়হিস সালামকে নাজাত দিয়েছিল এবং ফির’আউন ও তার অনুসারীকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। হযরত মুসা আলায়হিস সালাম এ দিনের নাজাতের শুকরিয়া আদায়ার্থে রোযা পালন করতেন, আমরাও তার অনুসরণে রোযা রাখি।

আল্লাহর রাসূল এরশাদ করলেন-তোমাদের চেয়ে আমরা হযরত মুসা আলাহিস সালাম এর বেশি হকদার এবং অধিক ঘনিষ্ঠ। এরপর হতে আল্লাহর রাসূল ঐ দিবসে নিজেও রোযা রাখতেন আর উম্মতদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দেন।

— বুখারী ও মুসলিম শরীফের সূত্রেঃ মিশকাত-১৮০ পৃষ্ঠা

রাসূল সা: বলেন, রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো মহররমের রোযা (আশুরার রোজা) এবং ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো নফল নামাজ (তাহাজ্জুদ নামাজ)।

— মুসলিম, হা-২০৩৯

আয়েশা রা: বলেন,

জাহেলি যুগে কুরাইশরা আশুরার রোজা রাখত, নবীজীও রাখতেন। মদিনায় হিজরতের পরও নবীজী রোজা রেখেছেন এবং লোকেদের রোজা রাখার জন্য বলেছেন। কিন্তু যখন রমজানের রোজা (দ্বিতীয় হিজরিতে) ফরজ হলো তখন তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছা আশুরার রোজা করতে পারো এবং যে ব্যক্তি ইচ্ছা করো আশুরার রোজা ত্যাগ করতে পারো।

— বুখারি, হা-২০০২

হজরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত,

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রমজানের পর সব রোজার (নফল) মধ্যে আশুরার রোজা সর্বশ্রেষ্ঠ

— জামে তিরমিযি ১/১৫৬

আশুরার দিন রোজা রাখলে ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য হয়ে যায় বিধায় রাসুলুল্লাহ (সা.) তার আগের দিন বা পরের দিন আরেকটি রোজা রাখার পরামর্শ দেন (মুসনাদে আহমদ)।

ইবনে আব্বাস (রা:)এর অন্য বর্ণনায় রয়েছে,

লোকেরা বলল, হে রাসূল! ইহুদি ও নাসারাগণ ১০ মহররমকে সম্মান করে। তখন নবীজী বললেন, আগামী বছর বেঁচে থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা ৯ মহররমসহ রোজা রাখব।’ রাবি বলেন, আগামী বছর আসার আগেই নবীজীর ইন্তিকাল হয়।

— মুসলিম, হা-১১৩৪

নবীজী বলেন, তোমরা আশুরার দিন রোজা রাখো এবং ইহুদিদের বিপরীত করো। তোমরা আশুরার সাথে তার পূর্বে বা তার পরে এক দিন রোজা রাখবে।

— বায়হাকি

আশুরার দিন জংগলী জীব জন্তুও রোযা রাখে

খতীব বাগদাদী (রহঃ) তাঁর তারীখে লিখেছেন, হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে মারফুল হাদিসে বর্ণিত আছে যে, সারদ নামক পাখিই সর্বপ্রথম আশুরার রোযা রাখে ।

হযরত ফাতাহ ইবনে শাখরাফ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন,

আমি প্রতিদিন পিপিলিকাকে রুটি টুকরা টুকরা করে খেতে দিতাম । যখন আশুরার দিন আসত তখন তারা তা আহার করত না ।

— ইবনে রজব হাম্বলী (রহঃ) ৭৯৫ হিঃ, লাতায়েফুল মাআরিফ, আরবী পৃঃ ৭৭

আবু মুসা মাদীনি স্বীয় সূত্রে কায়েস ইবনে উবাদ থেকে বর্ননা করেন, তিনি বলেন,

আমি জানতে পেরেছি যে, আশুরের দিন জঙ্গলী জানোয়ারও রোযা রাখে । তিনি স্বীয় সূত্রে জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ননা করেন- লোকটি আশুরার দিনে জঙ্গলে গমন করলো । সে দেখল যে, এক সম্প্রদায় কিছু জন্তু যবেহ করলো । সে তাদের কাছে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তারা তাকে সংবাদ দিল যে, জব জন্তরা রোযাদার । তারা বলল, তুমিও চল আমাদের সাথে, আমরা তোমাকে দেখাবো । তারা তাকে নিয়ে একটি বাগানে গিয়ে থামল । সে বলে, যখন আসরের পর হলো তখন চতুর্দিক থেকে জীবজন্তরা আসতে লাগলো । এরা মাথা আসমানের দিকে উচুঁ করে বাগানের চতুর্দিকে সমবেত হল । কিন্তু তারা বাগান থেকে কিছুই খাচ্ছে না । যখন সূর্য অস্ত গেল তখন তারা সবাই দ্রুত খাওয়া আরম্ভ করলো ।

— ইবনে রজব হাম্বলী (রহঃ) ৭৯৫ হিঃ, লাতায়েফুল মাআরিফ, আরবী পৃঃ ৭৭

হযরত কায়েস ইবনে উবাদা (রহঃ) বলেন, আশুরার দিন জঙ্গলী জানোয়ারও রোযা পালন করে । [1]

তথ্যসূত্র

  1. গুনিয়াতুত্তালিবিন, পৃঃ ৪২৮
  • বারো মাসের আমল ও ফযিলত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মাদ ওসমান গণি)
  • মাসিক তরজুমান, ১৪৩৫ হিঃ, মুহররম সংখ্যা