ইহুদী বাদশাহর নিজস্ব লোকের নসীহত কবুল না করা

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

ইঁ আজায়েব দীদ আঁ শাহে জহুদ,

যুজকে তানাজ ও যুজকে এনকারাশ নাবুদ্‌।

নাছেহানে গোফতান্দ আজ হদ্দে মগোজার আঁ,

মারকাবে ইস্তজিহা রা চন্দেইঁ মরা আঁ।

বোগজার আজ কোশতানে মকুন ইঁ ফেলেবদ,

বাদে আজ ইঁ আতেশ মজান দরজানে খোদ্‌।

নাছেহানেরা দস্তে বস্ত ও বন্দে করদ্‌।

জুলমেরা পেওন্দ দর পেওন্দ করদ্‌

বাংগে আমদ্‌ কারে চুঁ ইঁজা রছীদ,

পায়েদার আয় ছাগে কে কাহারে মা রছীদ।

অর্থ: এই রকম আশ্চর্যজনক ঘটনা দেখিয়াও ইহুদী বাদশাহ কিছুতেই আল্লাহর কুদরাতের কথা স্বীকার করিল না। বাদশাহর হিতাকাঙ্ক্ষীরা বলিল যে, সীমা অতিক্রম করিয়া বেশী অগ্রসর হইও না। আর বিরুদ্ধাচরণ করিও না। এখন মানুষ হত্যা করা হইতে বিরত থাক। এই প্রকার অন্যায়-অত্যাচার করিও না। নিজেকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করিও না। বাদশাহ নসীহতকারীদিগকে ধরিয়া বাঁধিয়া কয়েদখানায় আবদ্ধ করিয়া রাখিলেন। এবং অত্যাচারের সীমা অধিকতর বাড়াইয়া দিলেন। যখন অত্যাচারের সীমা অতিক্রম করিল, তখন গায়েব হইতে এক আওয়াজ আসিল যে, “হে নাপাক কুকুর, তুমি একটু থাম, এখনই আমার পক্ষ হইতে শাস্তি আসিতেছে”।

চল্লিশ গজ উচ্চ এক অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত হওয়া এবং গোলাকার ধারণ করিয়া সমস্ত ইহুদীদিগকে ঘেরাও করিয়া জ্বালাইয়া পোড়াইয়া ছাই করিয়া দেওয়া

বাদে আজ আঁ আতেশে চেহেল গজ বর ফরুখত,

হলকা গাস্ত ও আঁ জহুদাঁরা বছোখত্‌।

আছলে ইঁশা বুদ আতেশ জে ইবতে দা,

ছুয়ে আছলে খেশে রফ্‌তান্দ ইন্‌তেহা।

হামজে আতেশ জাদাহ্‌ বুদান্দ আঁ ফরীক,

যুজবেহারা ছুয়ে কুল বাশদ তরীক।

আতেশী বুদান্দ মোমেন ছুজ ও বছ,

ছুখ্‌তে খোদ আতেশে মর ইঁশারা চুখছ।

অর্থ: ঐ গায়েবী আওয়াজ আসার পর চল্লিশ গজ উচ্চ এক অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত হইয়া ইহুদীদের চতুর্দিক হইতে ঘিরিয়া লইল এবং সমস্ত ইহুদীদিগকে জ্বালাইয়া পোড়াইয়া ভস্ম করিয়া দিল। মাওলানা বলেন, এই ইহুদীদিগের মূলধাত অগ্নির তৈরী ছিল বলিয়া শেষ পর্যন্ত অগ্নিতে মিশিয়া চলিয়া গেল। যেমন প্রত্যেক বস্তুর মূলের সহিত তাহার একটা সম্বন্ধ থাকে। যেমন হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, “আল্লাহতায়ালা মানুষ জাতিকে হজরত আদম (আ:)-এর পিঠে কোমরের উপরিভাগ হইতে বাহির করিয়া কতকের সম্বন্ধে বলিয়াছেন যে, ইহাদিগকে বেহেস্তের জন্য সৃষ্টি করা হইয়াছে, আর অন্যদের সম্বন্ধে বলিয়াছেন যে ইহাদিগকে দোজখবাসী হইবার জন্য সৃষ্টি করা হইয়াছে”। তাই কার্যকলাপের দিক দিয়া দোজখীরা যাহাতে দোজখে অতি সহজে যাইতে পারে, সেই সমস্ত কাজ তাহারা খুশির সহিত পালন করে। কেননা, দোজখের সহিত তাহাদের বিশেষ রকমের সম্বন্ধ আছে। অতএব, ইহাদের প্রকৃত অবস্থান দোজখেই হইবে। ইহারা অগ্নি দ্বারা সৃষ্টি হইয়াছে। তাই ইহাদের গতি অগ্নির দিকেই হইবে। তাহাদের অগ্নির সহিত এমন সম্বন্ধ রহিয়াছে, যেমন তাহারা নিজেরাই অগ্নি। মোমেনদিগকে সর্বদা জ্বালাতন করিয়া বেড়ায়। তাহারা নিজেরাও খর-কুটার ন্যায় অগ্নিতে প্রজ্বলিত হইয়া থাকে।

আঁ কে উ বুদাস্ত উম্নু হাওবিয়া।

হাওবিয়া আমদ মর উরা জে আওবিয়া।

মাদারে ফরজান্দে জুইয়ানে ওয়ায়ে ইস্ত,

আছলোহা মর পরউহারা দর পায়ে আস্ত।

আবে হা দর হাউজে গার জেন্দানিস্ত,

বাদে নাশ ফাশ মী কুনাদ কায়ে কানিস্ত।

মী রেহানাদ মী বোরাদ তা মায়াদেনাশ,

আন্দেক আন্দেক তা না বীনি বুরদানাশ।

ওয়াইঁ নফছে জানে হায়ে মারা হাম চুনা,

আন্দেক আন্দেক দোজদাদ আজ হাবছে জাহাঁ।

অর্থ: মাওলানা এখানে দুনিয়ার স্বাভাবিক নিয়ম বর্ণনা করিয়া বলিতেছেন, যাহার মা হাওবিয়া নামক দোজখ হইবে, সে নিশ্চয়ই তাহার আশ্রয় স্থান দোজখে তালাশ করিয়া লইবে। কেননা ছেলের মা সব সময়ই ছেলে অন্বেষণ করিয়া লইয়া নিজের কাছে রাখিবে। এইভাবে দোজখ সব সময় নিজের খাদ্য হিসাবে কাফেরদিগকে তালাশ করিয়া লইবে। ঈমানদারদের বেলায় ইহার ব্যতিক্রম ঘটিবে। কারণ, দোজখ সর্বদা ঈমানদারদের হইতে দূরে থাকিবার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে। যেমন, ঈমানদারগণ সর্বদা খোদার নিকট দোজখ হইতে দূরে থাকার জন্য প্রার্থনা করেন। মূল যেমন সর্বদা শাখাকে আকর্ষণ করিয়া থাকে, তেমনি দোজখ সর্বদা দোজখীদের আকর্ষণ করিয়া নেয়। যেমন কূপের আবদ্ধ পানি, বায়ু সব সময়ই আকর্ষণ করিয়া বাষ্পে পরিণত করিয়া উর্ধ্বে নিয়া যায়। কারণ পানি এবং বায়ুর মূল ধাতের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে, তাই একে অন্যকে সর্বদা আকর্ষণ করিতে থাকে। বায়ু পানিতে আস্তে আস্তে ক্রমান্বয় আকর্ষণ করিয়া শীতল স্তরে নিয়া যায়, তাহা আমরা অনুভবও করিতে পারিনা যে, কত পানি কোন্ সময় নিয়া গিয়াছে। এই ভাবে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস আমাদের জীবনী শক্তিকে একটু একটু করিয়া দুনিয়া হইতে পরকালের দিকে নিয়া যাইতেছে। কারণ, আমাদের রুহ্‌ পরকালের দিকে মুখাপেক্ষী এবং পরকালের সাথে সম্বন্ধ রাখে। তাই সেই দিকেই ক্রমান্বয় একটু একটু করিয়া অগ্রসর হইতেছে। শ্বাস-প্রশ্বাসকে আল্লাহতায়ালা ইহার অসীলা করিয়া দিয়াছেন। শ্বাস-প্রশ্বাস দ্বারা আমাদের বয়স কমিয়া যায়। যত বয়স কমিয়া যায়, ততই আখেরাত নিকটবর্তী হইয়া যায়, মৃত্যু আসিয়া দ্বারে উপস্থিত হয়।

তা ইলাইহে ইয়াছ আদু আতইয়াবুল কালেমে,

ছায়েদা আমেন্না ইলা হাইছু আলেমে।

তারতাকী আন ফাছুনা বিল মুনতাকা,

মোতাহাফ্‌ফামিন্না ইলা দারেল বাকা।

ছুম্মা ইয়াতীনা মুকাফাতুল মাকাল,

জেয়াফা জাকা রাহমাতুম মিনজীল জালাল।

ছুম্মা ইউল জীনা ইলা আমছালে হা,

কায়ে ইয়ানালাল আবদু মিম্মা নালাহা।

হাকাজা তায়ারুজু ওয়া তান জেলু দায়েমা,

জা ফালা জালাত আলাইহে কায়েমা।

অর্থ: এখানে মাওলানা পরস্পর আকর্ষণের কথা ব্যাখ্যা করিতে যাইয়া বলিতেছেন, আমাদের সৎ বাক্যগুলিও আল্লাহর দরবারে যাইয়া পৌঁছিতে থাকে, আমাদের পবিত্র বাক্যগুলি পবিত্র স্থানের সাথে কবুল হবার সম্বন্ধ রাখে, এইজন্য উহা পবিত্র স্থানে চলিয়া যায়। আল্লাহর হুকুমে সেখানে যাইয়া উপস্থিত হয়। এখানেও আকর্ষণের শক্তি দেখা যায়। এই রকমভাবে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস ও আকর্ষণের কারণে ‘দারুল বাকা’র দিকে চলিয়া যায়। তারপর ঐ পবিত্র বাক্যের প্রতিফল আমাদের কাছে দ্বিগুণ, তিনগুণ সওয়াব বৃদ্ধি পাইয়া ফিরিয়া আসে। আল্লাহতায়ালা বান্দার সৎবাক্য নেক আমল করিয়া লন, তাহার পর নিজেও বান্দার কথা স্মরণ করেন। আল্লাহ্‌তায়ালার মেহেরবানীতে বান্দার আমল কবুল করার দরুন বান্দা আরো বেশী করিয়া নেক আমল করে। বান্দার নেক আমল বেশী করার আকাঙ্ক্ষা অন্তরে সৃষ্টি হওয়া আল্লাহর কবুলের প্রমাণ দেয়। নেক আমল আল্লাহতায়ালার কবুলের অর্থ, বান্দার অন্তরে বেশী করিয়া নেক কর্ম করার তাওফিক বাড়াইয়া দেন। যাহাতে বান্দা অধিক নেক আমল করিয়া অধিক সওয়াব পাইতে পারে তাহার সুযোগ করিয়া দেন। এই রূপে বান্দার সৎবাক্য ও নেক কাজ সর্বদা আল্লাহর নিকট যাইয়া পৌঁছে এবং আল্লাহ উহা কবুল করিয়া প্রতিফলস্বরূপ বান্দাকে নেক আমল করার শক্তি বাড়াইয়া দেন।

পারছি গুইয়াম ইয়ানী ইঁ কাশাশ,

জা আঁ তরফ আইয়াদ কে আইয়াদ আঁ চুশাশ।

চশমেহর কওমে বছুয়ে মান্দাস্ত,

কা আঁ তরফ একরোজ জওকী বান্দাস্ত।

অর্থ: মাওলানা বলেন, আমি ফারসী ভাষায় বলিতেছি যে উক্ত আকর্ষণ ঐ দিক দিয়া আসে, যে দিক হইতে ইহার সম্বন্ধ স্থাপন হয়। কারণ, সম্বন্ধের মধ্যে একটা আকর্ষণশক্তি থাকে। যেমন আল্লাহর এবাদত করার স্বাদ আল্লাহর তরফ হইতে প্রাপ্ত হওয়া যায়। অতএব, ইবাদত ও আবেদের আকর্ষণ আল্লাহর দিকেই হইবে। প্রত্যেক জাতির চক্ষু ঐ দিকেই থাকিবে, যে দিক হইতে সে একদিন স্বাদ-প্রাপ্ত হইয়াছে। ঐ দিকেই তাহার অন্তরের দৃষ্টি থাকিবে। স্বতঃসিদ্ধ কথা এই যে, প্রত্যেক বস্তুই সহজাতের প্রতি আকৃষ্ট থাকে। যেমন মাওলানা পরে বলিতেছেন,

জওকে জেনছে আজ জেনছে খোদ বাশদ ইয়াকীন,

জওকে জুজবে আজ কুল খোদ বাশদ বাবীন।

ইয়া মাগার কাবেলে জেনছে বুদ,

চুঁ বদু পেওস্ত জেনছে উ শওয়াদ।

হামচু আবো ও নানে কে জেনছে মা নাবুদ,

গাস্তে জেনছে মা ও আন্দর মা কেজুদ।

নকশে জেনছিয়াত নাদারাদ আবো ও নান,

জে ইতে বারে আখের আঁরা জেনছে দাঁ

অর্থ: মাওলানা বলেন, সহজাত নিজের সহজাতের দিকে আকর্ষণ করে এবং অংশ পূর্ণতার দিকে মূখাপেক্ষী থাকে। কেননা, উহার মধ্যে সহজাতের সম্বন্ধ আছে। যদি ঐ বস্তু সহজাতের উপযুক্ত না হয়, তবে যখন উহার সাথে মিলিয়া যাইবে, তখন নিশ্চয় ঐ বস্তুর সহজাতরূপে পরিগণিত হইবে। যেমন রূটি ও পানি যদিও আমাদের সহজাত নয়, তথাপি উহার মধ্যে সহজাত হইবার শক্তি আছে। তাই খাইবার পরে উহা আমাদের সহজাতে পরিণত হইয়া যায় এবং আমাদের মধ্যে অংশ হইয়া আমাদিগকে বর্ধিত ও শক্তিশালী করিয়া তোলে। তবে দেখা যায় যে, যদিও রুটি এবং পানির মধ্যে সহজাত হইবার অবস্থা দেখা যায় না, কিন্তু অন্য প্রকারে উহা সহজাত হইবার শক্তি রাখে। যাহা ভবিষ্যতে সহজাতে পরিণত হইয়া যায়। অতএব, রুটি ও পানিকে আমাদের সহজাত মনে করিতে হইবে। সহজাত হইবার শক্তির দিক দিয়া রুটি ও পানি আমাদের সহজাত বলিয়া সেই দিকে আমাদের আকর্ষণ থাকে।

ওয়ার বেগায়েরে জেনছে বাশদ জওকে মা,

আঁ মাগার মানেন্দে বাশদ জেনছে রা।

আঁ কে মানেন্দাস্ত বাশদ আরিয়াত,

আরিয়াত বাকী নামানাদ আকেবাত।

মোরগেরা গার জওকে আইয়াদ আজ ছফীর,

চুঁকে জেনছে খোদ নাইয়াবদ শোদ নফীর।

তেশনা রাগার জওকে আইয়াদ আজ ছরাব,

চুঁ রছাদ দর্‌ওয়ে গেরীজাদ জুইয়াদ আব।

মোফ্‌লেছানে গার খোশ শওয়ান্দ আজ জররে কলব,

লেকে আঁ রেছওয়া শওয়াদ দরদারে জরাব।

অর্থ: এখানে মাওলানা বলেন, কোনো কোনো সময় দেখা যায় যে সহজাত ছাড়াও আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। ইহার কারণ সম্বন্ধে বলিতে যাইয়া তিনি বলিতেছেন, যদি সহজাত ছাড়া আকর্ষণ দেখা যায়, তবে মনে করিতে হইবে যে উহা সহজাতের ন্যায় মনে হয় বলিয়া ঐ দিকে ধাবিত হয়। প্রকৃতপক্ষে সহজাত নয়, সহজাতের মতন কোনো কিছু অস্থায়ীরূপে দেখা যায় বলিয়া ধোকায় পড়িয়া সেই দিকে ধাবিত হয়। পরে যখন ঐ সন্দেহ চলিয়া যায়, তখন নিরাশ হইয়া ফিরিয়া আসে অথবা ধোকায় পড়িয়া ধ্বংস হইয়া যায়। যেমন, কোনো পাখীকে শিকারী যদি নিজে পাখীর ন্যায় আওয়াজ দিয়া ভুলাইয়া নিকটে আনে, পাখী নিজের সহজাতের ডাক শুনিয়া তাড়াতাড়ি করিয়া আসিয়া ফাঁদে আটকাইয়া আবদ্ধ হইয়া যায়। সহজাতের ন্যায় আওয়াজ শুনিয়া আকর্ষণ ঘটিয়াছিল। নিকটে আসিয়া যখন সহজাতকে দেখিতে পাইল না, তখন নিশ্চয়ই সে দুঃখিত হইবে এবং ভীত হইয়া পড়িবে। শুধু সাময়িক আওয়াজের দিক দিয়া সামঞ্জস্য হওয়ায় মহব্বত ও আকর্ষণ সৃষ্টি হইয়াছিল। কিন্তু উহা প্রকৃত সামঞ্জস্য ছিল না বলিয়া উক্ত আকর্ষণ ছিন্ন হইয়া গেল। দ্বিতীয় উদাহরণ দিয়া মাওলানা বলিতেছেন, যেমন পিপাসার্ত ব্যক্তি মরিচা দেখিয়া পিপাসা নিবারণার্থে সেই দিকে দৌড়াইয়া ছুটে, কিন্তু যখন নিকটে যায়, তখন মরিচা দেখিয়া উহা হইতে ভাগিয়া শীঘ্র করিয়া পানির তালাশে যায়। অন্য উদাহরণ দিয়া মাওলানা প্রকাশ করিতেছেন, যেমন গরীব ব্যক্তি নকল স্বর্ণ পাইয়া অতিশয় খুশী হয়। যখন সে স্বর্ণ পরখকারীর কাছে যাইয়া পৌঁছে, তখন নিরাশ হইয়া অসন্তুষ্ট হইয়া পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত লজ্জিত হয়।

তা জর আন্দুদিয়াত আজ রাহে না ফাগানাদ

তা খেয়ালে কাজ তোরা চে না ফগানাদ।

আজ কালিলা বাজে জু আঁ কেচ্ছা রা

ও আন্দর আঁ কেচ্ছা তলবে কুন হেচ্ছারা।

দর কালিলা খান্দাহ্‌ বাশী লেকে আঁ,

কেশরো ও আফছানা নায়ে মগজে আঁ।

অর্থ: মাওলানা এখানে তরীকাপন্থীদের নসীহত করিতে যাইয়া বলিতেছেন যে, তোমরা বাহ্যিক আড়ম্বর ও লেবাস তরীকা দেখিয়া ফেরেববাজের ধোকায় পড়িয়া তাহাদের অনুসরণ করিও না। কারণ, ইহাতে শেষ পর্যন্ত বিফল মনোরথ হইয়া বিপদে পতিত হইতে হয়। তাই মাওলানা বলেন, সাবধান! কলাই করা স্বর্ণ রঙ্গীন চকচকে দেখিয়া সত্য পথ হইতে পিছলাইয়া পড়িওনা। অর্থাৎ, ধোকাবাজের ধোকায় পড়িয়া খোদার রাস্তা হইতে দূরে চলিয়া যাইও না। বাঁকা পথকে সরল পথ মনে করিয়া উহার অনুসরণ করিয়া গোমরাহীর মধ্যে পতিত হইও না। ’কালিলা দামনা’ কেতাবের মধ্যে খরগোশ ও বাঘের কেচ্ছা তালাশ করিয়া পাঠ কর, এবং নিজের অবস্থা উহার উপর বিবেচনা কর। উক্ত কেচ্ছার সারমর্ম এই যে, একটি খরগোশের পরামর্শে বাঘ কূপের মধ্যে নিজের ছবি দেখিয়া ক্রোধে কূপে ঝাঁপ দিয়া পড়িয়া নিজেকে নিজে বিপদগ্রস্ত করিয়াছিল। ঐরূপ অবস্থা তোমাদের যেন না হয়। এইজন্য মাওলানা সবাইকে সাবধান করিয়া দিতেছেন। মাওলানা বলেন, তোমরা বোধ হয় কালিলা দামনার কেচ্ছা পাঠ করিয়াছ, কিন্তু শুধু খুশি এবং গল্পস্বরূপ পাঠ করিয়াছ, আমি উহার সারমর্ম বাহির করিয়া পূর্ণ তত্ত্ব প্রকাশ করিলাম।[1]

তথ্যসূত্র

  1. মূল: মাওলানা রুমী (রহ:) অনুবাদক: এ, বি, এম, আবদুল মান্নান মুমতাজুল মোহদ্দেসীন, কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা। [বাংলা এই ভাবানুবাদ বরিশাল থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে প্রকাশিত। এই দুর্লভ সংস্করণটি সরবরাহ করছেন সুহৃদ (ব্যাংকার) নাঈমুল আহসান সাহেব। লেখা প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকাশ হতে থাকবে, ইনশা’আল্লাহ। সম্পাদক - কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন]