ওহুদের যুদ্ধ

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
নবূওতের ষষ্ঠদশ বছর - ৬২৬ খৃষ্টাব্দ, ৩য় হিজরী; বয়স ৫৬ বছর।
ওহুদের যুদ্ধ 
কুরায়শদের সাজ-সাজরব 

বদর যুদ্ধের শোচনীয় পরাজয় এবং অধিকাংশ কুরায়শ নেতাদের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় ঘরে ঘরে কান্নার রোল উঠে। তারা প্রতিজ্ঞা করে : শত্রুকে পরাজিত করতে হবে। আবু সুফিয়ান বলেছিল :

যতদিন না পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পারি, ততদিন পর্যন্ত আমি কোন সুগন্ধ দ্রব্য ব্যবহার করবো না এবং আমার স্ত্রীকেও স্পর্শ করবো না।

তাই তারা মদীনা আক্রমণ করার জন্য ১৫ জন নারী, ২০০ শত অশ্বারোহী, ৭০০ শত উষ্ট্রারোহী, ২১০০ সাত পদাতিক মোট ৩০০০ হাজার সৈন্য বের হয়।

মদীনায় পরামর্শ ও প্রস্তুতি 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা হযরত আব্বাস (রা.) সংগোপনে মুসলমান হয়ে ও মক্কায় অবস্থান করছিলেন। তাই কুরায়েশ বাহিনী যখন যুদ্ধের প্রস্তুতি শেষ করে, তখন তিনি এখানকার খবর জানিয়ে রাসূল (স.)-এর নিকট একটি চিঠি লিখেন এবং দ্রুত তা তাঁর কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

কুরায়েশ বাহিনী যেদিন ওহুদে পৌছায়, সে রাতে মদীনাবাসী কেউ ঘুমায়নি। রাত জেগে তারা শহর পাহারা দেয় এবং রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিরাপত্তার ব্যাপারে বিশেষ দৃষ্টি দেয়। অত:পর ৩য় হিজরীর ১১ই শাওয়াল শুক্রবার দিন জুম‘আর নামাযের পর রাসূলুল্লাহ (স.) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকত’ম (রা.)-কে মদীনার ইমাম নিযুক্ত করে সৈন্যদের নিয়ে মদীনা থেকে বের হন।

উল্লেখ্য যে, মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল এক হাজার। যখন তারা ‘শওত’ নামক স্থানে পৌঁছান, তখন আবদুল্লাহ ইবন উবায় তার দলের তিনশত সৈন্য নিয়ে ফিরে যায়। ফলে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা দাঁড়ায় সাত শত। যার মধ্যে মাত্র ২ জন ছিলেন অশ্বারোহী। [1]

ওহুদে উপস্থিতি ও সেনাবিন্যাস 

মদীনা থেকে তিন মাইল দূরে ওহুদ পর্বত। রাসূলুল্লাহ (স.) শনিবার দিন ফজর নামাযের পর ওহুদ পাহাড়ের পাশে একটি সুবিধাজনক স্থানে ঘাঁটি স্থাপন করেন। তাঁদের পেছনে থাকলো ওহুদ পাহাড় এবং সামনে থাকলো মদীনা।

সৈন্যদের যথাযথ স্থানে বিন্যাসের পর রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল তীরন্দাজ পাহাড়ের ওপর মোতায়েন করেন। পেছন থেকে হামলা হলে তা প্রতিরোধ করার দায়িত্ব তাদের দেয়া হয়। এদের সংখ্যা ছিল ৫০ এবং নেতা ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.)। তিনি (স.) তাদের এরূপ নির্দেশ দেন :

সাবধান, তোমরা সর্বক্ষণ সতর্ক থাকবে এবং কোন অবস্থাতেই সেখান থেকে সরবে না। যুদ্ধে আমরা জয়ী হই বা পরাজিত হই, আমার আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত এ স্থান ত্যাগ করবে না।

যুদ্ধ শুরু হলে মুশরিক বাহিনী মুসলিম বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়ে তারা প্রাণভয়ে রনে ভঙ্গ দিয়ে পালাতে শুরু করে। মুশরিক নারীরাও কান্না-কাটার রোল তুলে যে যেদিকে পারলো ছুটে পালাল। যুদ্ধের ময়দান ফাঁকা। মুসলিম সৈন্যরা তাদের ফেলে যাওয়া গনীমতের মাল সংগ্রহ করতে থাকে।

যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্ব 

এ দৃশ্য দেখে গিরীপথে নিয়োজিত তীরন্দাজরা রাসূল (স.)-এর নির্দেশ অমান্য করে গনীমতের মাল সংগ্রহ করার জন্য চলে যায়। ৫০ জনের মধ্যে মাত্র ১২ জন নবী করীম (স.)-এর নির্দেশ মেনে স্বস্ব অবস্থানে থাকে। সুচতুর খালিদ ইবনে ওলীদ এ অবস্থা দেখে তাঁর অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে মুষ্টিমেয় মুসলিম তীরন্দাজকে পেছন দিক থেকে আক্রমণ করে পরাজিত ও নিহত করে এবং মুসলিম বাহিনীকে ঘিরে ফেলে এবং “ওলু ওজ্জা! ওলু হোবল!” ধ্বনি দিতে থাকে। ফলে কুরায়েশ বাহিনী আবার একত্রিত হয়ে মুসলিম বাহিনীর ওপর হামলা করে।

“দান্দান” মুবারক শহীদ 

এ সময় রাসূল্লূাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের “দান্দান” মুবারক শহীদ হয় এবং তাঁর লৌহ নির্মিত শিরস্ত্রানের একটা অংশ তাঁর কপালের মধ্যে ঢুকে যায় এবং তিনি মাটিতে পড়ে যান। যা দেখে কাফির ইবনে কামিয়া চীৎকার করে বলে : “মুহাম্মদ নিহত হয়েছে।”

যুদ্ধের শেষ পর্ব 

এ ঘোষণার পর কাফিররা তাঁর লাশ খুঁজতে থাকে এবং তা না পেয়ে আবু সুফিয়ান পাহাড়ের উপর উঠে ডাকতে থাকে : মুহাম্মদ আছ কি? আবু বকর আছ কি? ওমর আছ কি? কিন্তু কোন জবাব না পেয়ে, সে বলে : সবাই মারা গেছে।

ওমর (রা.) তার কথার জবাবে বলেন : তোর কথা ঠিক নয়, আমরা সবাই বেঁচে আছি, তোকে শাস্তি দেয়ার জন্য।
তখন আবু সুফিয়ান বলে :“আচ্ছা থাকো; আগামী বছর বদর প্রান্তরে আবার তোমাদের সাথে বুঝাপড়া হবে।”
জবাবে ওমর (রা.) বলেন : “বেশ তাই হবে। আমরা এর জন্য প্রস্তুত আছি।” এরপর আবু সুফিয়ান তার দলবল নিয়ে মক্কায় ফিরে যায়।

শত্ররা দৃষ্টি সীমার বাইরে চলে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে পাহাড় থেকে নীচে নেমে আসেন। এ সময় দেখা যায়, হযরত হামজা (রা.)সহ ৭০ জন মুসলিম বীর শহীদ হয়েছেন, আর কুরায়েশ কাফিরদের মধ্যে ২৩ জন নিহত হয়। [2]

তথ্যসূত্র

  1. সীরাতে হালবিয়া ও তবকাতে ইবনে সা‘দ
  2. ইবনে ইসহাক
  • বিশ্বনবীঃ সন-ভিত্তিক জীবন তথ্য! (লেখকঃ ডক্টর আ.ফ.ম. আবু বকর সিদ্দীক)