কাফির

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

কাফির শব্দটি সাধারণত অবিশ্বাসী অর্থে মু’মিন এর বিপরীতার্থকরূপে ব্যবহৃত হয় । আভিধানিক অর্থ বিলোপকারী, আবৃতকারী, উহা হইতে “প্রাপ্ত উপকার গোপনকারী” অর্থাৎ অকৃতজ্ঞ । প্রাচীন ‘আরবি কবিতায়ও শব্দটির এই অর্থ পাওয়া যায় । তে অকৃতজ্ঞ অর্থে কাফির শব্দ ব্যবহৃত হইয়াছে[1] বা আল্লাহ্‌র অনুগ্রহকে গোপনকারী অর্থাৎ আল্লাহ্‌র প্রতি অকৃতজ্ঞ অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে [2] । ইহার বহুবচনে কাফিরুন বা কুফার শব্দের ব্যবহারও দেখা যায় [3] । কুরআন যাহাদিগকে কাফির নামে অভিহিত করিয়াছে, তাহারা তৎকালে প্রায় সকলেই ইসলাম ও মুসলিমগণের নিধনকামী ছিল এবং অনেকে প্রত্যক্ষভাবে এইরূপ তৎপরতায় অংশগ্রহণ করিয়াছিল । কুরআনে কাফিরদের সহিত ব্যবহার সম্বন্ধে সর্বদাই সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া হইয়াছে

যারা পবিত্র মসজিদ থেকে তোমাদেরকে বাধা প্রদান করেছিল, সেই সম্প্রদায়ের শুত্রুতা যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে।

— সূরা মায়েদাহ্‌, আয়াত ২

তবে উপরোক্ত কারনে তাহাদিগকে নেতা, অভিভাবক বা অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করিতে মুসলিমদিগকে নিষেধ করা হইয়াছে ।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিন ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের অমঙ্গল সাধনে কোন ত্রুটি করে না-তোমরা কষ্টে থাক, তাতেই তাদের আনন্দ। শত্রুতাপ্রসুত বিদ্বেষ তাদের মুখেই ফুটে বেরোয়। আর যা কিছু তাদের মনে লুকিয়ে রয়েছে, তা আরো অনেকগুণ বেশী জঘন্য। তোমাদের জন্যে নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করে দেয়া হলো, যদি তোমরা তা অনুধাবন করতে সমর্থ হও।

— সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১১৮

বলা হইয়াছে, ইহাদের জন্য পরকালে জাহান্নামের শাস্তি রহিয়াছে । হাদিছে ও পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে শেষ বিচার দিবসে কাফিরদের অবস্থা, জাহান্নামে তাহাদের শাস্তি, তাহাদের প্রতি মু’মিনদের মনোভাব কি হইবে ইত্যাদি সমস্ত বিষয় উল্লিখিত হইয়াছে । এতদ্ব্যতীত কাবীরা গুনাহ করিলে একজন মুসলিমকে কাফির বলা যাইবে না ।

কাফির চিরকাল জাহান্নামে থাকিবে ইহা একটি প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্বাস ।

তথ্যসূত্র

  1. সূরা ২৬, আয়াত ১৯
  2. সূরা ১৬, আয়াত ৫৫-৮৩; সূরা ৩০ আয়াত ৩৩
  3. সূরা ৮০, আয়াত ৪২