কোরআনে হুযুর (সঃ) এর প্রশংসা 2

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

আল্লাহ পাক বলেন,

এবং আমি আপনাকে প্রেরণ করিনি, বিশ্বগজতের জন্যে রহমত (করুণা)ব্যতিরেকে

— সূরা আম্বিয়া, ১০৭ আয়াত

আবূ বকর মোহাম্মদ ইবনে তাহের এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,

আল্লাহতা’লা রাসূলে করীম (দ:)-এর মাঝে করুণাপূর্ণ (ঐশী) অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, ফলে তাঁর সমগ্র সত্তা-ই ছিল করুণা এবং তাঁর সিফাত তথা গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যগুলো সকল সৃষ্টির প্রতি করুণাময় ছিল। তাঁর করুণার যে কোনো দিক দ্বারা কেউ যদি আশীর্বাদধন্য হয়, তবে উভয় জগতে ঘৃণিত প্রতিটি বস্তু হতে সে রক্ষা পায় এবং তার প্রিয় প্রতিটি বস্তু সে অর্জন করে। আপনি কি দেখেননি যে আল্লাহতা’লা ঘোষণা করেছেন:

“এবং আমি আপনাকে প্রেরণ করিনি, বিশ্বগজতের জন্যেরহমত (করুণা) ব্যতিরেকে”?

তাঁর যাহেরী জিন্দেগী ছিল করুণা, তাঁর বেসাল শরীফ (আল্লাহর সাথে পরলোকে মিলনপ্রাপ্তি)-ও করুণা; যেমনটি মহানবী (দ:) ঘোষণা করেন,

“হায়াতীখায়রুল্লাকুম, ওয়া মামাতী খায়রুল্লাকুম”,

অর্থাৎ, “আমার (যাহেরী) জিন্দেগী তোমাদের জন্যে আশীর্বাদস্বরূপ, আমার বেসাল-প্রাপ্তিও তদনুরূপ”

— আল-হারিস ইবনে আবি উসামা হতে সহীহ সনদে আল-বাযযার

হুযূর পূর নূর (দ:) আরো এরশাদ ফরমান:

যখন আল্লাহতা’লা কোনো জাতির প্রতি করুণা বর্ষণ করতে চান, তখন তিনি তাদের প্রতি তাঁর মনোনীত পয়গম্বরকে তাদের সামনে নিয়ে যান এবং তাঁকে দিয়ে তাদের রাস্তা প্রস্তুত তথা পথনির্দেশনা দানের ব্যবস্থা করেন।

— মুসলিম শরীফ

আস্ সামারকান্দী ব্যাখ্যা করেন যে “জগতসমূহের জন্যে রহমত” – খোদায়ী এ কালামে (’জগতসমূহ’ শব্দে) উদ্দেশ্য করা হয়েছে জ্বিন ও ইনসান উভয়কেই। আরো বলা হয়েছে যে এর দ্বারা সমগ্র সৃষ্টিকুলকেই বুঝিয়েছে। তিনি মো’মেন (বিশ্বাসী) মুসলমানদের কাছে রহমত (করুণা) হেদায়াত তথা পথপ্রদর্শন দ্বারা, তিনি মোনাফেক (কপট) লোকদের কাছে রহমত নিহত হওয়ার আশঙ্কা হতে নিরাপত্তা প্রদানের মাধ্যমে, আর কাফের (অবিশ্বাসী) লোকদের কাছে তিনি রহমত তাদের শাস্তি বিলম্বিত করার দরুন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন,

তিনি মো’মেন ও কাফের উভয় সম্প্রদায়ের প্রতি রহমত, কেননা তারা উভয়ই মিথ্যাবাদী অন্যান্য (পূর্ববর্তী) সম্প্রদায়ের পরিণতি হতে রক্ষাপ্রাপ্ত।

বর্ণিত আছে যে মহানবী (দ:) হযরত জিবরীল (আ:)-কে বলেন, “এ রহমতের কোনো দিক কি আপনাকে ছুঁয়ে গিয়েছে?” তিনি উত্তর দেন, “হ্যাঁ। ভবিষ্যতে আমার কী ফায়সালা হবে, তা নিয়ে আমি চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু এখন আমি দুশ্চিন্তামুক্ত ও নিরাপদ অনুভব করছি; কেননা আল্লাহতা’লা আমার প্রশংসায় এরশাদ করেছেন,

যিনি (জিবরীল আমীন) শক্তিশালী; আরশ অধিপতির দরবারেসম্মানিত; সেখানে তার আদেশ পালন করা হয় যিনি আমানতদার (আল্লাহর ওহীর)

— সূরা তাকভীর, ২০-২১ আয়াত

হযরত জা’ফর সাদেক (রহ:)-এর কথা বর্ণিত হয়েছে- তিনি বলেন যে

“হে প্রিয় রাসূল (দ:),আপনার প্রতি ’সালাম’ হোক ডান পার্শ্বস্থদের কাছ থেকে” (আল-কুরআন, ৫৬:৯১)

– খোদায়ী এ কালামের অর্থ ‘আপনারই জন্যে হে মোহাম্মদ’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)। তাঁদের এ শান্তির কারণ হলো রাসূলে পাক (দ:)-এর প্রতি অর্পিত মহাসম্মান।

আল্লাহতা’লা এরশাদ ফরমান,

আল্লাহ নূর (আলো) আসমানসমূহ ও জমিনের। তাঁর আলোরউপমা এমনই যেমন একটা দীপাধার, যার মধ্যে রয়েছে প্রদীপ। ওই প্রদীপ একটা ফানুসের মধ্যেস্থাপিত। ওই ফানুস যেন একটা নক্ষত্র, মুক্তোর মতো উজ্জ্বল হয় বরকতময় বৃক্ষ যায়তুন দ্বারা; যানা প্রাচ্যের, না প্রতীচ্যের; এর নিকটবর্তী যে, সেটার তেল প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠবে – যদিও আগুনসেটাকে স্পর্শ না করে; আলোর ওপর আলো। আল্লাহ আপন আলোর প্রতি পথ/দিকনির্দেশনাদান করেন যাকে ইচ্ছা করেন; এবং মানুষের জন্যে আল্লাহ উপমাসমূহ বর্ণনা করেন এবং আল্লাহসবকিছু জানেন।

— সূরা নূর, ৩৫ আয়াত

হযরত কা’আব আল-আহবার (রা:) ও হযরত ইবনে জুবাইর (রা:) বলেন,

দ্বিতীয় ‘নূর’ (আলো) শব্দটি দ্বারা আল্লাহ তাঁর হাবীব (দ:)-কে বুঝিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর আলোর উপমা’ – অর্থাৎ, মহানবী (দ:)-এর নূর (আলো)।

সাহল ইবনে আবদিল্লাহ আত্ তুসতুরী (রহ:) বলেন যে

পৃথিবীর মানুষ ও আসমানের ফেরেশতাদের জন্যে আল্লাহ হলেন পথপ্রদর্শক; এ আয়াতে তা-ই বোঝানো হয়েছে।

এরপর সাহল (রহ:) বলেন,

…রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর নূরের মতো যখন তা স্থাপিত হয়েছিল কোষার মধ্যে – ‍ঠিক যেন একটি দীপাধারে। প্রদীপ দ্বারা আল্লাহতা’লা বোঝাচ্ছেন নবী করীম (দ:)-এর অন্তরকে। ফানুসটি তাঁরই বক্ষ। এটা যেন একটা উজ্জ্বল নক্ষত্র যা এর ধারণকৃত বিশ্বাস ও জ্ঞান-প্রজ্ঞা দ্বারা সমৃদ্ধ এবং যা একটি বরকতময় তথা আশীর্বাদধন্য গাছ, অর্থাৎ, হযরত ইবরাহীম (আ:)-এর আলো দ্বারা প্রজ্জ্বলিত। খোদাতা’লা বরকতময় গাছের সাথে তুলনা করেন এবং এরশাদ করেন, ‘সেটার তেল প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠবে’; অর্থাৎ, রাসূলে খোদা (দ:)-এর নবুওয়্যত মানুষের কাছে পরিস্ফুট হয়েছে তাঁর কিছু বলার আগেই, যেমনিভাবে হয়েছে এ তেল।

এ আয়াতটি সম্পর্কে আরও বহু ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, তবে এর মর্মার্থ সম্পর্কে আল্লাহতা’লাই ভালো জানেন।

তথ্যসূত্র

  • শেফা শরীফ (লেখকঃ ইমাম কাজী আয়াজ (রহঃ), অনুবাদকঃ কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন)
  • ahlussunnahbd.wordpress.com