কোরআনে হুযুর (সঃ) এর প্রশংসা 3

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

কুরআন মজীদের অন্যত্র আল্লাহ পাক হুযূর পূর নূর (দ:)-কে নূর (জ্যোতি) এবং প্রোজ্জ্বল তথা আলো বিচ্ছুরণকারী এক প্রদীপ আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এরশাদ করেন:

নিশ্চয় তোমাদের কাছেআল্লাহর তরফ থেকে এসেছেন এক নূর (রাসূলে খোদা) ও মহান কেতাব (আল–কুরআন)

— সূরা মা-ইদা, ১৫ আয়াত

আল্লাহ আরো এরশাদ করেন:

হে অদৃশ্যের সংবাদ দানকারী নবী! নিশ্চয়আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি উপস্থিত পর্যবেক্ষণকারী (হাযের–নাযের) করে, শুভ সংবাদদাতাও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহর প্রতি তাঁরই নির্দেশে আহ্বানকারী ও প্রোজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে

— সূরা আহযাব, ৪৫-৬ আয়াত

এ কারণেই আল্লাহ পাক বলেন:

আমি কি আপনার (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)বক্ষ প্রশস্ত করিনি?

— আল-কুরআন, ৯৪:০১

আরবী ‘শারাহা’ শব্দটির অর্থ প্রশস্ত বা বিস্তৃত করা। ‘সদর’ বা ‘বক্ষ’ শব্দটি দ্বারা আল্লাহতা’লা অন্তর বা হৃদয়কে বুঝিয়েছেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন,

তিনি একে প্রশস্ত করেছেন ইসলামের নূর দ্বারা।

সাহল্ আত্ তুসতরী (রহ:) বলেন,

ঐশী বাণীর আলো দ্বারা।

হযরত হাসান বসরী (রহ:) বলেন,

আল্লাহতা’লা তাঁর রাসূল (দ:)-এর অন্তরকে জ্ঞান ও বিচার-বিবেচনা দ্বারা পরিপূর্ণ করেন।

এ কথাও বলা হয়েছে যে এর অর্থ

আপনার অন্তরকে আমি কি পুতঃপবিত্র করিনি, যাতে তা শয়তানের ওয়াসওয়াসা তথা ধোকায় পড়ে না যায়?

সূরাটিতে আরো বিবৃত হয়েছে:

এবং আমি আপনার ওপর থেকে আপনার সেই বোঝা নামিয়েদিয়েছি, যা আপনার পৃষ্ঠ ভেঙ্গেছিল

— সূরা এনশেরাহ, ২-৩ আয়াত

এ কথা বলা হয়েছে যে এর মানে তাঁর নবুওয়্যত-পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড; এ কথাও বলা হয়েছে এর দ্বারা জাহেলীয়্যা যুগের বোঝাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে যে এর মানে হলো ঐশী বাণীর বোঝা যা তিনি প্রচার করার আগে তাঁর পিঠকে নুয়ে দিচ্ছিল। এটা আল-মাওয়ার্দী ও আস্ সুলামীর অভিমত। এ কথাও বলা হয়েছে যে এর অর্থ,

আমি আপনাকে রক্ষা করেছি, নইলে ভ্রান্ত কর্মকাণ্ড আপনার পিঠে বোঝা হয়ে বসতো।

এ কথা আস্ সামারকান্দী বর্ণনা করেছেন।

আনুবাদকের নোট: ইমাম আহমদ রেযা খান সাহেব তাঁর ‘তাফসীরে কানযুল ঈমান’ গ্রন্থে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন, “এ বোঝা দ্বারা হয়তো ওই দুঃখ বোঝানো হয়েছে যা কাফেররা ঈমান না আনার কারণে তাঁর পবিত্র অন্তরে বিরাজ করতো। কিংবা উম্মতদের পাপসমূহের চিন্তাও হতে পারে যা নিয়ে তাঁর কলব্ (অন্তর) মোবারক সর্বদা ব্যস্ত থাকতো। এর অর্থ এই যে, ‘আমি আপনাকে মকবূল তথা গ্রহণীয় সুপারিশকারীর মর্যাদা দান করে সেই দুঃখের বোঝা দূর করে দিয়েছি।
— কানযুল ঈমান, বাংলা সংস্করণ, ১০৮৬ পৃষ্ঠা

তথ্যসূত্র

  • শেফা শরীফ (লেখকঃ ইমাম কাজী আয়াজ (রহঃ), অনুবাদকঃ কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন)
  • ahlussunnahbd.wordpress.com