জ্যোতিষীর কাছে নিয়ে গেলেন হালিমা

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 1










  • জ্যোতিষীর কাছে নিয়ে গেলেন হালিমা



















হালিমা বলেনঃ অতঃপর তাঁকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে এলাম। লোকেরা বলতে লাগল একে নিয়ে গণকের কাছে যাও। দেখে-শুনে চিকিৎসা করবে। রাসূল (সা) বললেনঃ ‘আমার তো কিছুই হয় নাই। আমার দেহ-মন সম্পূর্ণ সুস্থ আছে।’ কিন্তু লোকেরা এ ব্যাপারে পীড়াপীড়ি করতে থাকলে আমি তাঁকে নিয়ে জনৈক গণকের কাছে গেলাম। সব ঘটনা তাকে খুলে বললে সে বললঃ তুমি থাম, আমি এ বালকের মুখ থেকেই সব জেনে নিচ্ছি। নিশ্চয়ই সে নিজের ব্যাপারে ভাল জানে।

তারপর সে রাসূলল্লাহ্ (সা)-কে বললঃ (হে বালক!) বলতো, ব্যাপারটা কি ? রাসূল (সা) তাঁকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলতেই গণক লাফিয়ে দাঁড়াল এবং চিৎকার করে ডাকতে লাগলঃ হে আরবরা ! এক মহাদুযোর্গ আসন্ন। এ বালক এবং আমাকে হত্যা কর। যদি তোমরা তা না কর এবং সে বড় হয়ে যায়, তবে তোমাদের বুদ্ধি-বিবেক নষ্ট করে দেবে, তোমাদের ধর্মকে মিথ্যা সাব্যস্ত করবে, মানুষকে অচেনা এক প্রতিপালকের দিকে আহব্বান করবে এবং সম্পূর্ণ অচেনা এক ধর্মের দিকে তোমাদের ডাকবে।

হালিমা বললেনঃ এসব শুনে আমি তার হাত থেকে রাসূল (সা)-কে ছিনিয়ে নিলাম। বললামঃ তুই এক বদ্ধ পাগল ও উন্মাদ । এসব কথা বলবি যদি আগে জানতাম, কিছুতেই এ রকমতময় শিশুকে নিয়ে আসতাম না। তোর মরার সাধ জেগে থাকলে তুই নিজেই লোকজন ডেকে নে। আমি কিছুতেই মুহাম্মদ (সা)-কে হত্যা করতে দেব না। (ইব্ন হিশাম)

এরপর আমি রাসূল (সা)-কে নিয়ে বাড়ি চলে এলাম। পথে বনু সা’দের যে ঘরের কাছ দিয়েই তিনি গমন করতেন তার মধ্যে থেকে মেশকের সুঘ্রাণ আসতো। প্রতিদিন তাঁর কাছে দু’জন সাদা মানুষ আসত এবং তাঁর কাপড়ের মাঝে অন্তর্হিত হয়ে যেত। ওরা আর আত্মপ্রকাশ করত না।

লোকেরা বলতে লাগল, হালিমা ! একে তার দাদার কাছে কোন অনিষ্ট হয়ে যাওয়ার পূর্বেই ফিরিয়ে দাও। শেষ পর্যন্ত তাঁকে আমি ফিরিয়ে দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নিলাম। এ সময় আমি নিম্নোক্ত শুনলাম- হে মক্কার পাথরময় ভূমি! তোমাকে মোবারকবাদ। আজ তুমি তোমর নূর, তোমার দীন, তোমার ঔজ্জ্বল্য এবং পূর্ণত্ব ফিরে পেয়েছ। তোমরা জন্য শাস্তি। কখনও তুমি আর লাঞ্ছিত হবে না। (খাসায়েসুল কোবরা)

হযরত হালিমা যখই দ্বিতীয়বার রাসূল (সা)-কে নিয়ে মক্কা থেকে তায়েফ ফিরছিলেন, পথে সা’দ উপত্যকায় পৌঁছালে তাঁদের সাথে আবিসিনিয়ার কিছু লোকের দেখা হয়। তাঁরা রাসূল (সা)-কে খুব নিরীক্ষণ করে দেখল। তাঁর দু’কাঁধের মধ্যস্থিত মোহর এবং চোখের লালিমা দেখে তারা হালিমাকে জিজ্ঞেস করল- শিশুটির চোখে কি কোনরকম রোগ আছে ? হালিমা বললেনঃ এ লালিমা কোন রোগের নয়; স্থায়িভাবেই তা এরকম। শুনে ওরা বললঃ আল্লাহর কসম, ইনি নবী।

হযরত হালিমা একবার হুজায়েল গোত্রের এক গণকের কাছে গেলেন, সাথে শিশু রাসূল (সা) । গণক তাঁকে দেখেই চিৎকার শুরু করল- হে আরববাসী ! এ বালককে হত্যা কর। এ তোমারদের ধর্মের লোককে হত্যা করবে। তোমাদের মূর্তি ভাঙবে এবং তোমাদের উপর জয়ী হয়ে যাবে। এসব শুনে হালিমা রাসূল (সা)-কে নিয়ে সরে পড়লেন।

ইসা ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন মালিক থেকে রেওয়ায়েত আছে যে, এ বৃদ্ধ গণক তার কাওম বনু হুজায়েলকে ডেকে বললঃ এ শিশু আকাশ থেকে কোন হুকুমের অপেক্ষায় আছে। এসব বলে রাসূল (সা)-এর ব্যাপারে মানুষকে উস্কাতে লাগল। কিছুদিনের মাঝে লোকটি আতস্কগ্রস্ত হয়ে উন্মাদ হয়ে গেল এবং এ অবস্থায়ই সে মারা গেল।

ইসহাক ইব্ন আবদুল্লাহ্ বর্ণনা করেন- যখন হযরত আমিনা দুধপান করানোর জন্য রাসূল (সা)-কে হালিমার কাছে সোপর্দ করেন, তখন তিনি বললেন, আমার এ শিশুকে তুমি সতর্কতার সাথে দেখে-শুনে রাখবে। তারপর আমিনা রাসূল (সা) সম্পর্কে যা যা দেখেছিলেন সব বর্ণনা করেন।

কিছুদিন পর হালিমার বাড়িতে কয়েকজন ইহুদী এলো। পরিক্ষার জন্য হালিমা তাদের বললেনঃ আমার এ ছেলের ভবিষ্যত সম্পর্কে তোমরা বল। সে এভাবে গর্ভে ছিল এবং এভাবে ভূমিষ্ট হয়েছে। তার ব্যাপারে আমি এই দেখেছি। আমিনার কাছে হালিমা যা যা শুনোছিলেন সব তিনি এদের বললেল।

সব শুনে ইহুদীরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল-এ শিশুকে হত্যা কর। তারপর হালিমাকে ওরা জিজ্ঞেস করলঃ শিশুটি কি এতিম ? হালিমা (ভয় পেয়ে) বললেনঃ না, ও এতিম নয়। এ হচ্ছে তার পিতা (তাঁর স্বামীকে দেখিয়ে) আর আমি তার মা। ইহুদীরা বললঃ ও এতিম হলে অবশ্যই আমরা একে হত্যা করতাম।

তথ্যসূত্র

  • খাসায়েসুল কোবরা
  • রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)