দাদা আব্দুল মোত্তালিব এর প্রতিপালনে কিশোর নবী (দঃ)

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর বিস্তারিত জীবনী





















  • দাদা আব্দুল মোত্তালিব এর প্রতিপালনে কিশোর নবী (দঃ)








পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছয় বৎসর বয়সেই নবী করিম (দঃ) মায়ের বুক হারান । বিবি আমেনাকে (রাঃ) আব্‌ওয়া নামক স্থানে দাফন করে উম্মে আয়মন (রাঃ) কিশোর নবীকে নিয়ে মক্কায় ফিরে আসেন । মায়ের অসিয়ত অনুযায়ী নবী করিম (দঃ) বিবি উম্মে আয়মনকে (বারাকাহ্‌) মা বলে সম্বোধন করতেন এবং বলতেন-

আমার মায়ের ইন্তিকালের পর উম্মে আয়মনই আমার মা

পরবর্তীকালে বিবি খাদিজার (রাঃ) সাথে হুযুরের বিবাহের পর উম্মে আয়মনকে আযাদ করে দিয়ে নবী করিম (দঃ) নিজ পালিত পুত্র (বিবি খাদিজা (রাঃ) কর্তৃক দানকৃত গোলাম) যায়েদ ইবনে হারেছা (রাঃ) এর সাথে তাকে দ্বিতীয়বার বিবাহ দেন । সে ঘরে উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ) জন্মগ্রহণ করেন । নবী করিম (দঃ) উসামা (রাঃ) কে আপন নাতিতুল্য আদর করতেন । মক্কা বিজয়ের দিনে তিনি আপন উটের পিছনে উসামা (রাঃ) কে সেনাপতি করে এক অভিযান প্রেরণ করেছিলেন ৮ম হিজরীতে সঙ্ঘটিত মুতার যুদ্ধের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য । কিন্তু হুযুর (দঃ) এর শেষ অবস্থার সংবাদে পথিমধ্য হতে উসামা (রাঃ) মদিনায় ফিরে আসেন । হযরত আবু বকর (রাঃ) খলিফা নিযুক্ত হয়ে রবিউল আউয়াল মাসের শেষের দিকে উসামার (রাঃ) নেতৃত্বে স্থগিত অভিযানটি পুনরায় প্রেরণ করেন । যুদ্ধে রোম বাহিনীকে পরাজিত করে মুতার যুদ্ধের প্রতিশোধ নিয়ে এবং বিপুল গনিমতের মাল নিয়ে তিনি মদিনায় ফিরে আসেন । এই বিজয়ে মুসলমান্দের মধ্যে নূতন শক্তির সঞ্চয় হয়েছিল এবং পরবর্তী অভিযানসমূহে এই বিজয় বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছিল ।

যা হোক, মক্কায় ফিরে আসার পর নবী করিম দঃ এর লালন পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন দাদা আব্দুল মোত্তালিব । দুই বৎসর দাদার আপত্যস্নেহে লালিত হয়ে ৮ বৎসর বয়সে নবী করিম (দঃ) দাদার ছায়া থেকেও বঞ্চিত হন । আব্দুল মোত্তালিব আপন নাতী কিশোর নবীকে কত ভালবাসতেন, তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত বর্ননা দিয়েছেন ইবনে কাছির তাঁর বেদায়া ও নেহায়া গ্রন্থে । খানায়ে কা’বার মোতাওয়ালী হিসেবে আব্দুল মোত্তালিবের বিরাট প্রতাপ । হেরেম শরীফের চত্বরে আব্দুল মোত্তলিবের জন্য ফরাশ বিছানো হতো এবং ঐ বিছানায় অন্য কেউ বসতে পারতো না। কিন্তু কিশোর নবী দাদার আগমনের পূর্বেই এসে ঐ ফরাশে বসে যেতেন । আব্দুল মোত্তালিবের আগমন হলে হুযুরের চাচাগণ তাকে টেনে সরিয়ে আনতে চেষ্টা করতো । কিন্তু আব্দুল মোত্তালিব তাদেরকে বারন করতেন এবং নবী করিম (দঃ) এর পিঠে হাত বুলিয়ে নিজের কাছে তেনে নিতেন আর বলতেন- “মোহাম্মদ (দঃ) এর মর্যাদা অনেক অনেক উঁচু হবে” । আব্দুল মোত্তালিবের মৃত্যু ঘনিয়ে আসলে একদিন উম্মে আয়মনকে ডেকে বললেন- “হে বারাকাহ্‌, আমার এই সন্তানের যত্ন করতে তুমি ভুলে যেও না । কেননা, আমি আহলে কিতাবদেরকে বলাবলি করতে শুনেছি যে, আমার এই সন্তান শেষ যামানার নবী হবেন “।[1]

তথসূত্র

  1. বেদায়া ও নেহায়া
  • নূরনবী (লেখকঃ অধ্যক্ষ মাওলানা এম এ জলিল (রহঃ), এম এম, প্রাক্তন ডাইরেক্তর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)