নামাজের পঞ্চম অবস্থা

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

মুখবিতের নামাজ। মুখবিত অর্থ অনুগত ও বিনয়ী। নামাজের মধ্যে নামাজের নিয়ম কুনুন যথাযথ পালন ও বিনয়ের সঙ্গে নামাজ পাঠকারীকে মুকবিত বলা হয়। আল্লাহ তাআ’লা কোরআন মাজীদে এরশাদ করেন-

فَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُوا ۗ وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ [٢٢:٣٤] الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَالصَّابِرِينَ عَلَىٰ مَا أَصَابَهُمْ وَالْمُقِيمِي الصَّلَاةِ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ -٢٢:٣٥

(৩৫) আর তোমাদের আল্লাহ তো একমাত্রই আল্লাহ। সুতরাং তারই অনুগত হও এবং বিনয়ীদের সুসংবাদ দাও। যাদের সামনে আল্লাহর কথা বললে তাদের ক্বলব বা অন্তর র্থর্থ করে কাঁপে, যারা তাদের বিপদ আপদে ছবর করে, যারা নামাজ কায়েম করে আর আমি তাদেরকে যে রেজেক দিয়েছি তা থেকে তারা দান করে।

— ছুরা হজ্জ

আরবী ভাষায় “খুবতুন” শব্দের অর্থ নীচু ভূমি। এ কারণে যে নিজকে হেয় মনে করে তাঁকে খাতিব বলে। হযরত কাতাদা ও মুজাহিদ রাদিআল্লাহু আনহু এর মতে মুখবিতিনের অর্থ বিনয়ী। হযরত আমর ইবনু আছ বলেন

মুখবিতিন এমন লোকদের বলা হয়, যারা অপরের উপর জুলুম করেনা। কেউ তাদের উপর জুলুম করলে তারা তার প্রতিশোধ নেয়না।

ছুফিয়ান বলেন-

যারা সুখে দুঃখে, স্বাচ্ছন্দে, অভাব-অনাটনে, আল্লাহর ফয়ছালা ও তকদিরের উপরে সন্তুষ্ট থাকে তারাই মুখবিতিন।

আল্লাহ তাআ’লা আরো এরশাদ করেন-

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ [٨:٢]الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ [٨:٣]أُولَٰئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا ۚ لَّهُمْ دَرَجَاتٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ -٨:٤

(২) মু’মিন তো ওরাই যখন তাদের সামনে আল্লাহর নাম নেয়া হয়, তাদের ক্বলব সমূহ ভয়ে থরথর করে কেঁপে ওঠে। আর যখন তাদের সামনে আয়াত তেলাওয়াত করা হয় তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়। আর তারা তাদের রবের উপর ভরসা করে। (৩) যারা নামাজ কায়েম করে আর তাদের রেজেক থেকে দান করে (৪) এরাই খাঁটি মু’মিন। তাদের রবের কাছে তাদের জন্য উচ্চ মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক রেজেক রয়েছে।

— ছুরা আনফাল

আল্লাহ তাআ’লা আরো এরশাদ করেন-


أَفَمَن شَرَحَ اللَّهُ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ فَهُوَ عَلَىٰ نُورٍ مِّن رَّبِّهِ ۚ فَوَيْلٌ لِّلْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُم مِّن ذِكْرِ اللَّهِ ۚ أُولَٰئِكَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ [٣٩:٢٢]اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُّتَشَابِهًا مَّثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ -٣٩:٢٣

(২২) আল্লাহ যার (ক্বলবের প্রথম স্তর) ছদরকে ইছলামের জন্য খুলে দিয়েছেন সে তার রবের নিকট থেকে আগত নূরের মধ্যে রয়েছে। যাদের ক্বলব বা অন্তর সমূহ আল্লাহর স্মরনের ব্যপারে কঠোর, তাদের জন্য দুর্ভোগ। তারা প্রকাশ্য গোমরাহীতে রয়েছে। (২৩) আল্লাহ উত্তমবাণী তথা কিতাব নাজিল করেছেন। যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, বারবার পড়া হয়। যারা তাদের রবকে ভয় করে এ কোরআন পড়ার কারণে তাদের চামড়ার উপরের লোম সকল কাঁটা দিয়ে ওঠে। এরপর তাদের চামড়া ও ক্বলব সমূহ আল্লাহর স্মরণে বিনয়ী হয়। এটাই আল্লাহর পথ নির্দেশ। এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন। আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন তার কোন পথ প্রদর্শনকারী নেই।

— ছুরা ঝুমার

হযরত উছমান বিন আবী দাহদেশান রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রছূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অছাল্লাম বলেন- আল্লাহ তাআ’লা বান্দার কোন আমলকে কবুল করেন না যতক্ষন পর্যন্ত তাঁর ক্বলবসহ সমস্ত শরীর সে আমলের সাক্ষ্য না দেয়।

— আততারগীব ১ম - ৩৪৬