পবিত্র বিলাদাত

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 1


  • পবিত্র বিলাদাত



























আল্লাহর হাবীব (সা) হযরত আমিনার মক্কায় পাহাড়ের উপত্যকায় অবস্তিত বাড়িতে আ’মুল ফিলে হাতিবাহিনী মক্কা শরীফে যেদিন এসেছিল তার পঞ্চাশ দিন পর এ জগতের বুকে আগমন করেন, ১২ রবিউল আউয়াল সুবহে সাদিকের সময়। হযরত আমিনার ভাষায়, হস্তদ্বয় মাটিতে স্থাপন করে পবিত্র মুখমন্ডল আকাশের সীমাহীন বিস্তারের দিকে উত্থিত অবস্থায়। (ইব্ন হিশাম)

হযরত মূসা ইব্ন ওবায়দা থেকে ইব্ন সা’দ রেওয়ায়েত করেন যে, তিনি নিজ ভাই থেকে বর্ণনা করেছেন-

রাসূলুল্লাহ্ (সা) ভূমিষ্ট হয়েই হাত দ্বারা মাটিতে ভর দিয়ে মাথা আকাশের দিকে উঠান এবং এক মুষ্টি মাটি হাতে তুলে নেন। বনু লাহাবের এক ব্যক্তি একথা শুনে মন্তব্য করল- কথাটা যদি সত্য হয় তবে এ শিশু জগত দখল করবে।

— খাসায়েসুল কোবরা

হযরত উসমান ইব্ন আবুল আ’স রেওয়ায়েত করেন,

আমরা মা আমাকে বলেছেন, যখন আমিনার ঘরে রাসূলুল্লাহ্ (সা) জন্মগ্রহণ করেন তখন সেখানে আমি হাজির ছিলাম। ঘর চতুর্দিক নূরের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে যায়। তারকারাজি নিচের দিকে ঝুঁকে আসে। আমার মনে হয়েছিল যেন জমিনের উপর আছড়ে পড়বে। তাঁর জন্মের সময় আমিনার শরীর থেকে একটি নূর বেরিয়ে সমস্ত ঘর আলোকোজ্জ্বল করে তোলে।

— বায়হাকী ও তিবরানী

হযরত আলী ইব্ন ইয়াযীদ তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর ফুফু থেকে রেওয়ায়েত করেন,

আমার মা আমিনাকে গর্ভবতী আবস্থায় বলতে শুনতাম, ‘আমি যে গর্ভবতী এ অনুভবই আমার হয় না। সাধারণত মহিলারা যে ভার (দেহ এবং মনে) অনুভব করে আমি তেমন বোধ করি না। কেবল হায়েজ (ঋতুস্রাব) বন্ধ হওয়াই অনুভব করেছি, যা সাধারণত কখনও বন্ধ হয় আবার আসে ও।

হায়েজ বন্ধ হওয়ার পর একদিন আমি জাগরণ ও নিদ্রার মাঝামাঝি (তন্দ্রার) অবস্থায় ছিলাম। আমার কাছে এক আগন্তুক এলো। বলল, তুমি জান তোমার গর্ভে কে আছেন ? বললাম-জানি না। সে বলল, ‘এ উম্মতের সরদার ও নবী তোমার গর্ভে ।’ এ দিনটা ছিল সোমবার। এরপর প্রসাবের সময় যখন নিকটবর্তী, আগন্তুক আবার এলো এবং বলল-‘বলো, আমি প্রত্যেক হিংসকের ক্ষতি করা থেকে তাকে আল্লাহর আশ্রয়ে ন্যস্ত করলাম।’ কথাগুলো আমি বললাম। পরে অন্য মহিলাদের সাথে এ ঘটনা বললে, তারা আমার ঘাড়ে ও বাহুতে লোহা পরিধান করার পরামর্শ দিল। পরলাম কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে সে লোহা ভেঙে গেল। এরপর আমি আর তা পরিনি।

— ইব্ন ইসহাক ও খাসায়েসুল কোবরা

বুরায়দা ও ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে আবু নামীয় রেওয়ায়েত করেন যে,

আমিনা (একবার) স্বপ্নে দেখলেন, তাঁকে লক্ষ্য করে বলা হচ্ছে- “সমগ্র সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও সারা জাহানের সরদার তোমার গর্ভে। তিনি ভূমিষ্ট হলে নাম রেখ ‘আহমদ’ ও ‘মুহাম্মদ’ এবং তাঁর উপরে এটি ঝুলিয়ে দিও।” জেগে ইঠে তিনি দেখলেন, সোনালি অক্ষরে লেখা একটি পৃষ্ঠা তার কাছে রাখা। তাতে লেখা- “আমি তাকে এক আল্লাহর হিফাজতে ন্যস্ত করছি প্রত্যক হিংসকের অনিষ্ট থেকে, বিচরণকারী প্রত্যেক সৃষ্টি থেকে, সত্যপথে বাধা প্রদানকারী ও ফাসাদ সৃষ্টিকারী প্রত্যেক উপবিষ্ট ও দশুায়মান লোক থেকে,প্রত্যেক ফুৎকারকারী, গ্রহিুসংযোগকারী ও প্রত্যেক অবাধ্য সৃষ্টি থেকে, যারা পথে জাল বিছিয়ে দেয়। আমি আল্লাহর নামে এদের সকলকে প্রতিরোধ করি এবং ঐ অদৃশ্য শক্তির হেফাজতে অর্পণ করি যা সর্বোচ্চ। আল্লাহর হাত (শক্তি) সকল হাতের উপরে। নিদ্রা ও জাগরণে, চলাফেরায়, রাতের প্রথম ভাগে বা দিনের শেষভগে এরা তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারে না।

— খাসায়েসুল কোবরা

কাবা ঘরে জাহিলিয়াতের উপাস্য কিছু মূর্তি রাখা ছিল, এক সঙ্গে এ সময় সব সিজদাহ পড়ে যায়; পারস্য রাজের বিশাল প্রাসাদ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং প্রসাদ চূড়া থেকে অতিকায় এগারটি পাথরখন্ড খসে পড়ে, অগ্নি উপাসকদের হাজার বছরের প্রজ্বলিত অগ্নিকুন্ড ঠিক সে সময় অকস্মাৎ নিভে যায়। (তারিখে হাবিব আলা ও মাদারেজুন্নাবুওয়াত)

হযরত হাস্সান ইব্ন সাবিত বলেন-

হঠাৎ আমি শুনতে পেলাম, ইয়াসরীবের জনৈক নেতৃস্থানীয় ইয়াহুদী একটি দুর্গের উপর উঠে ‘হে ইয়াহুদীগণ ! বলে উচ্চৈঃস্বরে ডাকছে। তার চারপাশে মানুষ দ্রুত জমায়েত হলো। বলল- তোমার হলো কি ? (ডাকছ কেন ?) সে তখন বলল-“তোমরা কি জান, আজ রাতে আহমদের জন্মের সেই নক্ষত্রটি উদিত হয়েছে।

— ইব্ন ইসহাক

হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে ইব্ন সা’দ বর্ণনা করেন যে,

হযরত আমিনা বলেছেন- রাসূল (সা)-কে গর্ভে ধরার পর জন্মগ্রহণ করা পযর্ন্ত আমার কোনই কষ্ট বোধ হয় নাই। যখন তিনি ভূমিষ্ট হলেন তাঁর সাথে এমন এক নূর উদিত হলো যাতে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যকার সমস্ত ভূপৃষ্ট আলোকময় হয়ে গেল। জন্মের সময় তিনি হাত দিয়ে মাটিতে ভর দেন। এক মুঠি মাটি নিয়ে হাত বন্ধ করেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

— ইব্ন ইসহাক ও খাসায়েসুল কোবরা

ইসহাক ইব্ন আবদুল্লাহ্ রাসূলুল্লাহ্ (সা)- এর জননীর এ বর্ণনা উদ্বৃত করেন যে, রাসূল (সা) সম্পূর্ন পাক ও পবিত্র অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন (রক্ত ইত্যাদির) কোন মলিনতা ছিল না।(খাসায়েসুল কোবরা)

হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন-

আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর জন্মের সময় আকাশ ও জান্নাতের দুয়ার খুলে দেন। হযরত আমিনা নিজের সম্পর্কে বলতেন- গর্ভের যখন ছয় মাস গেল, একদিন নিদ্রিত অবস্থায় জনৈক আগন্তুক আমার পায়ে টোকা দিয়ে বলল- হে আমিনা ! সারা জাহানের মনোনীত ব্যক্তিকে তুমি পেটে ধরেছে। যখন তিনি জন্ম নেবেন নাম রোখো ‘মুহাম্মদ’ ।

জন্মকালীন ঘটনা বর্ণনা করতে আমিনা বলেন- (ঐ রাতে) আমি ভীষণ এক গড় গড় শব্দ শুনি। তাতে ভীত হয়ে পড়ি। তখন দেখি কোন সাদা পাখির পাখা আমার অন্তর ছুঁয়ে গেছে। এতে আমার ভীতি ও কষ্ট দূর হয়ে যায়। তারপর দেখলাম দুধেভরা একটা পেয়ালা রাখা আছে। পিপাসার্ত ছিলাম। তাই সেটা তুলে নিয়ে পান করলাম। এরপরই আমার দেহ থেকে একটা নূর বের হলো, তা কয়েকজন মহিলার নজরে পড়ল। তাঁরা খেজুর গাছের মতো দীর্ঘ দেহবিশিষ্ট ছিলেন। মনে হচ্ছিল তাঁরা আবদে মানাফ গোত্রের কন্যা। তাঁরা আমাকে গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করছিলেন। (বর্ণনান্তরে তাঁরা ছিলেন হযরত মরিয়ম,আছিয়া প্রমুখ পুণ্যবতী মহীয়সী নারী)

আমি তখন পুরো হতভম্ব ছিলাম। দেখলাম, একটি ফুল-আঁকা রেশমী শামিয়ানা পৃথিবী ও আকাশের মাঝখানে বিস্তার লাভ করল। কে যেন তখন বলল- তাঁকে মানুষের দৃষ্টি থেকে উধাও করে নাও। তারপরই কিছু সংখ্যক মানুষকে দেখলাম শূন্যমন্ডলে রুপার পাত্র হাতে দন্ডায়মান। এ সময় পাখির একটা ঝাঁক এলো এবং আমার কোল ঢেকে ফেলল। তাঁদের ঠোঁট ছিল পান্নার,পাখা চিল চুনীর।

এ সময় আল্লাহ্ আমার সামনে পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্ত উন্মুক্ত করে দিলেন। আমি তিনটি ঝান্ডা উড্ডীয়মান দেখতে পেলাম। একটি পূর্বে, একটি পশ্চিমে এবং একটি কাবা শরীফের ছাদে।

তারপরই আমার প্রসব ব্যাথা শুরু হয়। রাসূল (সা) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যখন বাইরে (জগতে) এলেন, আমি তাঁকে সিজদারত দেখতে পেলাম। তিনি বিনিয়ের সাথে অঙ্গুলি উত্তোলন করে রেখেছিলেন। এরপর একটা সাদা মেঘ এসে আকাশ আচ্ছন্ন করল। তারপর তা অদৃশ্য হয়ে গেল। কাউকে বলতে শুনলাম-মুহাম্মদকে পূর্ব এবং পশ্চিমে নিয়ে যাও। মানুষ যাতে তাঁর নাম, আকৃতি ও গুনাবলি জানতে পারে। এবং তারা এগু জানতে যেন পারে যে তাঁর নাম ‘মাহী’। তাঁর সময়ে র্শিক মুছে যাবে।

এর পর পরই আমি তাঁকে সাদা পশমী একটা কাপড়ে আবৃত দেখতে পেলাম, যার নিচে ছিল সবুজ রেশম। দেখলাম, তিনি বহু মূল্যবান ধাতুর তিনটি চাবি হাতের মুঠিতে ধরে আছেন। আওয়াজ হলো, মুহাম্মদ নবুওয়াতের চাবি ধারণ করেছেন।

এরপর একটা মেঘ আকাশে এলো। তার মধ্য থেকে হ্রেষারব ও পাখা ঝাপটানোর শব্দ ভেসে আসছিল। সেটি ক্রমে আচ্ছন্ন হয়ে এলো। অতপর একসময় অদৃশ্য হয়ে গেল। কেউ একজন বললঃ মুহাম্মদকে পূর্ব ও পশ্চিমে নিয়ে যাও, নবীদের জন্মস্থানে নিয়ে যাও,জিন-ইনসান, পশুপাখি এবং হিংস্র প্রাণীদের মাঝে নিয়ে যাও। তাঁকে আদমের স্বচ্ছতা, নূহের বিনয়, ইব্রাহীমের প্রেমময়তা, ইসমাইলের ভাষা, ইয়াকুবের মুখাবয়ব,ইউসুফের রুপ, দাঊসের মধুকন্ঠ, আইয়ুবের সবর, ইয়াহ্ইয়ার বৈরাগ্য এবং ঈসার দয়ার্দ্রতা দান করে। তাঁকে সকল নবী ও রাসূলের চরিত্রের সমন্বিত রুপ করে দাও। তারপর এ অবস্থা দূর হয়ে গেল। আমি আমার শিশুর হাতে সবুজ রেশমী বস্ত্র জড়ানো দেখলাম। কেউ তখন বলছে- মুহাম্মদ সারা জাহান দখল করে নিয়েছে। সৃষ্টির প্রতিটি বস্তু তাঁর মুঠিতে।

তারপর তিনজন লোক এলো। একজনের হাতে রুপার লোটা, একজনের হাতে সবুজ পান্নার তশতরি, তৃতীয়জনের হাতে সাদা রেশম। সেটি খুলে সে একটা অতি মনোরম আংটি বের করল। লোটার পানিতে আংটিটি সাতবার ধৌত করল। তারপর সেটি দিয়ে রাসূল (সা)- এর দু’কাধের মাঝখানে মোহর মেরে দিল। অতপর কিছুক্ষণ নিজ পাকা দিয়ে আবৃত করে রেখে তাঁকে আমার কোলে ফিরিয়ে দিল।(খাসায়েসুল কোবরা)

হযরত ইব্ন আব্বাস থেকে আরও রেওয়ায়েত হয়েছে যে, হযরত আমিনা এ সময়ের অত্যাশ্চর্য ঘটনাবলির বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন- সেদিনের ঘটনাবলিতে আমি বিস্মিত ছিলাম। এমন সময় তিন ব্যক্তি আগমন করল। তাদের সৌন্দর্য দেখে মনে হচ্ছিল সূর্য যেন তাদের মুখ থেকেই উদিত হচ্ছে। একজনের হাতে রুপার লোটা ছিল, যা থেকে মেশকের সুঘ্রাণ ভেসে আসছিল। দ্বিতীয়জনের হাতে চারকোণা এক পান্নার তশতরি ছিল। তার প্রত্যেক কোণে একটি করে সাদা মোতি জড়িয়েছিল। কেউ যেন বললঃ এটা হলো সমগ্র জাহান- পূর্ব, পশ্চিম, জল ও স্থল। হে আল্লাহর হাবীব ! এটা যেদিক দিয়ে ইচ্ছা আপনি ধরুন। আমিনা বলেনঃ এটা শুনে আমি মাথা ঘুরালাম দেখার জন্য যে তিনি কোন্ দিক দিয়ে ধরেন। দেখলাম তিনি মাঝখানে ধরেছেন। আওয়াজ হলো- কাবার কসম ! মুহাম্মদ কাবা ধারণ করলেন। আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর জন্য কাবাকে কিবলা ও নিবাস করে দিয়েছেন।

দেখলাম, তৃতীয়জনের কাছে অতি যত্নের সাথে ভাঁজ করা একটা সাদা রেশমী বস্ত্র রয়েছে। সে তার ভাঁজ খুলল। তা থেকে অতি সুন্দর একটি আংটি বের করল। তারপর আমার দিকে এগিয়ে এলা। তশতরিবাহী ব্যক্তি এ আংটিটি নিয়ে তাতে রক্ষিত পানিতে সাতবার ধৌত করল। তারপর আংটিটি নিয়ে দিয়ে রাসূল (সা)- এর দু’কাঁধের মাঝখানে মোহর এঁকে দিল। তারপর আংটিটি রেশমের ভাঁজে রেখে দিল। [হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন- ইনি ছিলেন জান্নাতের রক্ষী ফেরেশতা রিদওয়ান] তারপর সে রাসূল (সা)-এর কানে কিছু বলল, তা আমি শুনতে পাইনি। তারপর সে বললঃ হে মুহাম্মদ ! আপনাকে প্রত্যেক নবীর ইল্ম প্রদান করা হয়েছে। তাদের সকলের মাঝে আপনি অধিক জ্ঞানবান এবং সর্বাধিক শক্তিশালী বীর। আপনার হাতে আছে সাফল্যের চাবি। আপনাকে প্রবল ব্যক্তিত্ব ও অতুল শা’ন দেওয়া হয়েছে। হে আল্লাহর খলীফা ! যে কেউ আপনার নাম শুনবে, আপনাকে না দেখেও তার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠবে।(খাসায়েসুল কোবরা)

আবুল হাকাম তানুখী বর্ণনা করেনঃ কুরায়শরা তাদের কোন শিশু জন্ম নিলে তাকে হাঁড়িতে দেওয়ার জন্য মহিলাদের হাতে সোপর্দ করা হতো। (তারা ঐ শিশুকে একরাত হাঁড়ির নিচে রাখতো) রাসূল (সা) জন্মলাভ করলে তাঁকেও ঐ উদ্দেশ্যে আবদুল মুত্তালিব মহিলাদের হাতে সোপর্দ করেন। সকালে সবাই দেখল হাঁড়ি দ্বিখন্ডিত হয়ে আছে এবং রাসূল (সা) দু’চোখ মেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন।

মহিলারা আবদুল মুত্তলিবের কাছে এসে বললঃ “এমন শিশু আমরা কখনও দেখিনি। তাঁর উপরের হাঁড়ি ভেঙ্গে গেছে। দেখলাম তিনি আকাশের দিকে চোখ মেলে তাকিয়ে আছেন।”

আবদুল মুত্তালিব বললেনঃ “তোমরা তাঁকে দেখে রেখো। তাঁর থেকে আমি মঙ্গলই আশা করি।”

সাতদিনের দিন আবদুল মুত্তালিব জন্তু যহেব করে কুরায়শদের দাওয়াত করলেন। আহার শেষে কুরায়শরা জিজ্ঞেস করলেনঃ আবদুল মুত্তালিব ! শিশুর নাম কি রাখলেন ? তিনি বললেনঃ “মুহাম্মদ”। তাঁরা বললেনঃ গোত্রীয় ধরনের নাম রাখলেন না কেন ? আবদুল মুত্তলিব বললেনঃ আমি চাই আকাশে আল্লাহ আর জমিনে মানব জাতি সকলেই তাঁর প্রশংসা করুক।(বায়হাকী)

হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে আবূ নায়ীম রেওয়ায়েত করেন- এরপর (হাঁড়িতে দেওয়ার পর দিন) তাঁকে দুধপান করানোর জন্য বনু বকরের জনৈক মহিলার হাতে সোপর্দ করা হলো। ঐ মহিলা তাঁকে দুধপান করালোন। আর তাতে ঐ মহিলার সংসারে চারদিকে থেকে কল্যাণ ও বরকত আসতে লাগল। তাঁর মাত্র গোটাকয়েক ছাগল ছিল। আল্লাহ্ তাতে বরকত দান করলেন। বিপুল সংখ্যক ছাগল হয়ে গেল।

হযরত ওরওয়া সূত্রে ইব্ন আসাকির বর্ননা করেন

ওয়ারাকা ইব্ন নাওফেল, যায়েদ ইব্ন আমর ইব্ন নাফায়েল, উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন জাহাশ, উসমান ইব্ন হুয়াইরিস প্রমুখ কুরায়শ নেতা একরাতে তাদেও দেবমূর্তির কাছে জমায়েত হলেন। হঠাৎ দেখতে পেলেন, প্রতিমাটি উপুড় হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। ঘটনাটি তাঁরা খারাপ মনে করে প্রতিমাটি সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। পরক্ষণেই আবার সেটি সজোরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

উসমান ইব্ন হুয়াইরিস বললেনঃ “অবশ্যই কিছু একটা ঘটেছে।” বস্তু এটা ছিল ঐ রাত যে রাতে আল্লাহর রাসূল জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এ পর্যায়ে উসমান আক্ষেপ করে কবিতা আবৃত্তি করলেন। যার মর্ম ছিল এরুপঃ

হে প্রতিমা ! দূর-দূরান্ত থেকে বড় বড় সরদারগণ

এসেছেন তোমার কাছে, আর তুমি উল্টে পড়ে আছে !

একি খেলা তোমার !

আমাদের কোনও কসুর বা অপরাধ হয়ে থাকলে

আমরা তা স্বীকার করি এবং তা থেকে বেঁচে থাকি ।

আর যদি লুটিয়ে পড়ে গিয়ে থাক লাঞ্ছিত

ও পরাভূত হয়ে, তবে তুমি আর প্রতিমাদের

সরদার ও প্রভু নও।

তারপর তারা আবার প্রতিমাটি সোজা করে দিল। তখন তার ভিতর থেকে আওয়াজ এলো- এ প্রতিমা ধ্বংস হয়ে গেছে সকাল প্রতিমাই তাঁর আগমনে ভূমিসাৎ হয়ে গেছে। এটা হয়েছে সেই শিশুর আগমনের কারণে যাঁর নূরে সমগ্র জাহান আলোময় হয়ে গেছে। তাঁর ভয়ে রাজা-বাদশাহদের অন্তর কেঁপে উঠেছে। পারসিকদের প্রজ্বলিত অগ্নিকুন্ড নিভে গেছে। পারস্য সম্রাট মর্মযাতনায় নিপতিত হয়েছে। গণকদের জ্বিনেরা উধাও হয়েছে। এখন আর তাদেরকে সত্য-মিথ্যা খবর জানতে কেউ আসবে না। হে রনু কুসাই ! ভ্রান্ত পথ ত্যাগ কর এবং আসল সত্যের শীতল ছায়ায় আশ্রয় নাও। (খাসায়েসুল কোবরা)

তথ্যসূত্র

  • রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)