ফেরেস্তাগণের কিয়ামঃ দিবা-রাত্রি ২৪ ঘন্টা

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

আল্লাহর ৭০ হাজার ফেরেস্তা সর্বদা হুজুরের রওজা মোবারক দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে নুরের পাখা রওজা মোবারকে সামিয়ানার মত বিস্তার করে দুরূদ ও সালাম পেশ করে থাকেন । অথচ আমরা ফেরেস্তাদের অনুকরনে ৫/১০ মিনিট দাড়িয়ে দুরূদ ও সালাম পেশ করলে বেদআত হয়ে যায় - বলে এক শ্রেনীর আলেম ও নাম ধারীরা ফতোয়া দিয় বসে । ফেরেস্তারাও কি তাহলে বেদআতে লিপ্ত ? হাদিস খানা নিম্নরূপ ।

হযরত নোবাইহাতা ইবনে ওহাব (রহ ) তাবেয়ী হতে বর্নিত ; একদিন হযরত কা'ব আহবার ( তাবেয়ী ) হযরত আয়েশা (রাঃ) -এর খেদমতে উপস্থিত হলেন । অতঃপর সাহাবায়ে কেরাম তথা নবীয়ে করিম ( দঃ)-এর শানে-মানে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে লাগলেন । হযরত কা'ব বললেন : এমন কোন দিন উদয় হয়না- যে দিনে ৭০ হাজার ফেরেস্তা নাজিল হয়ে রাসুলুল্লাহ (দাঃ) -এর রওজা মোবারাক বেষ্টন করে তাঁদের নুরের পাখা বিস্তার করে সন্ধা পর্যন্ত নবী করিম ( দ ) -এর উপর দুরুদ ও সালাম পাঠ না করেন । অতঃপর যখন সন্ধা হয়ে আসে তখন তাঁরা আকাশে আরোহন করেন এবং তাদের অনুরূপ সংখ্যায় (৭০ হাজার ) ফেরেস্তা দ্বারা অবতরন করে তাদের মতই দুরুদ ও সালাম পাঠ করতে থাকেন । আবার কেয়ামতের দিন যখন জমিন (রওজা মোবারক) বিদীর্ন হয়ে যাবে , তখন তিনি ৭০ হাজার ফেরেস্তা দ্বারা বেস্টিত হয়ে প্রেমাস্পদের রুপ ধারন করে আসল প্রেমিকের সাথে শীঘ্র মিলিত হবেন ।

— দারমী ও মিশকাত _ বাবুল কারামত হাশিয়াহ

উল্লেখিত হাদিসে নিম্নোক্ত বিষয়ঘুলো খুবই গুরুত্বপুর্ণ ও প্রণিধানযোগ্য
১। কা'ব আহবার (রা) নবী করীম (দ) -এর রওজা মোবারকে ৭০ হাজার ফেরেস্তা নাজিল হতে নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন । এটি তার কারামতের প্রমান ( লোমআত )
২ । হযরত আয়েশার উপস্থিতিতে কা'ব এ সাক্ষ্য দিয়েছেন ।
৩। রওজা মোবারাকে দিনে ৭০ হাজার এবং রাত্রে ৭০ হাজার ফেরেস্তা নাজিল হয় এবং তাদের ডিউটি হলো : রওজা মোবারক বেষ্টন করে নুরের পাখা রওজা মোবারকে সামিয়ানা স্বরূপ বিছিয়ে দাঁড়ি্যে দাঁড়িয়ে দুরুদ ও সালাম পাঠ করা । ইহাই মিলাদ ও কিয়ামের সারাংশ । মুসলমানগন ফেরেস্তাদের অনুকরনে কেয়াম সহকারে দরূদ ও সালাম পড়ে থাকেন । [1]
৪। হাদিসে উল্লেখিত " মিসলাহুম" শব্দ দ্বারা প্রমানিত হলো যে সব সময় নিত্য নতুন অন্য একদল ফেরেস্তা আসেন । জীবনে একবারই তাঁরা এ সুযোগ পেয়ে থাকেন ।
৫। উক্ত ফেরেস্তারা অন্য কোন আমল না করে কেয়াম অবস্থায় শুধু দরূদ ও সালাম পড়েন ।
৬। রওজা মোবারকে পলা ক্রমে দিন রাত ২৪ ঘন্টাই মিলাদ ও কেয়াম হয় ।
৭। মিলাদ মাহফিলে উত্তম ভাবে আলোক সজ্জা করা ও সামিয়ানা টাঙ্গানো বৈধ ।
৮। নবী করিম (দ) কে সম্মান প্রদর্শনার্থে দাঁড়ানোর জন্য চোখের সামনে উপস্থিত থাকা শর্ত নহে । কেননা , ফেরেস্তাদের চোখের সামনে শুধু রওজা মোবারাক পরিদৃষ্ট ছিল ।
৯ । কেয়ামতের দিবসে পর্যন্ত কেয়াম সহ দুরুদ ও ষালামের এই ধারা অব্যাহত থাকবে । দুশমনেরা তা বন্ধ করতে পারবে না ।

ইমামে আহলে সুন্নত মাওলানা আহমেদ রেজা (রহঃ) লিখেছেন :

আমরা মিলাদুন্নবীর মাহফিল জীবন ভর করে যাবো । হে নজদীগন ( আব্দুল ওয়াহাব নজদীর অনুসারীগন ) ! তোমরা জ্বলতে থাক । জ্বলে মরাই তোমাদের কাজ ।

— আলা হযরত

১০। কেয়ামতের দিবসে রওজা মোবারক অক্ষত থাকবে - ধ্বংস হবে না ।
১১। রোজ হাশরে ৭০ হাজার ফেরেস্তা হুজুর (সা) কে পরিবেস্টন করে ও জুলুছ করে খোদার দরবারে নিয়ে যাবে । নবীজির জুলুছ করা ফেরেস্তাগনের ই সুন্নত ।
১২। সে দিন খোদা হবেন হাবীব এবং নবী (সা) হবেন মাহবূব । হাদিসে উল্লেখিত " ইয়ারকাউনা " শব্দেটি বাবে নাছারা হতে উৎপন্ন ক্রিয়া পদ । মুল ধাতু " ঝিফাফুন " অর্থ মিলন । খোদার সাথে সে দিন প্রিয় মাহবুবের মিলন হবে । [2]

তথ্যসূত্র

  • মিলাদ ও কিয়ামের বিধান (লেখকঃ অধ্যক্ষ এম এ জলিল (রহঃ))
  1. আনওয়ারে আফতাবে সাদাকাত
  2. লোমআত