মুহাম্মদ (সঃ) এর এলমে গায়েবঃ আবু বকর (রাঃ)

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর এলমে গায়েব সমর্থনে দলিল সমূহ












  • মুহাম্মদ (সঃ) এর এলমে গায়েবঃ আবু বকর (রাঃ)











আল-বুখারী (রহ:) ও মুসলিম (রহ:) হযরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণনা করেন যে হুযূর পূর নূর (দ:) তাঁকে বলেন:

তোমার বাবা ও ভাই (আবদুর রহমান)-কে এখানে ডাকো যাতে আমি কিছু একটা লিখে দিতে পারি, কেননা, আমি আশংকা করি যে কেউ হয়তো কোনো দাবি উত্থাপন অথবা কোনো উচ্চাভিলাষ পোষণ করতে পারে; আর যাতে (ওই লেখার দরুণ) আল্লাহ ও ঈমানদাররা আবু বকর (রা:) ছাড়া অন্য কাউকে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।

নোট
  • মহানবী (দ:)-এর পবিত্র হায়াতে জিন্দেগীর শেষ দিনগুলোতে ব্যক্ত হাদীস।
  • এটি হযরত আয়েশা (রা:)-এর কাছ থেকে ইমাম মুসলিম (রহ:), ইমাম আবু দাউদ (রহ:) ও ইমাম আহমদ (রহ:) বর্ণনা করেছেন।

আল-হাকিম সহীহ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে হযরত ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণনা করেন যে রাসূলুল্লাহ (দ:) এরশাদ ফরমান:

"জান্নাতের বাসিন্দা এক ব্যক্তি এখনি তোমাদের সামনে দৃশ্যমান হতে যাচ্ছেন।” অতঃপর হযরত আবু বকর (রা:) আগমন করেন এবং তাঁদের মাঝে বসেন।

{{safesubst
#invoke:anchor|main}}নোট
  • হযরত ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে ইমাম তিরমিযী (গরিব হিসেবে) এবং আল-হাকিম (৩:১৩৬=১৯৯০ সংস্করণ ৩:১৪৬) এটাকে সহীহ সনদ ঘোষণা করে বর্ণনা করেছেন।


অনুরূপ বর্ণনায় এর সমর্থন পাওয়া যায় -
  • হযরত জাবের (রা:) হতে
    • চারটি সহীহ সনদে ইমাম আহমদ (রহ:);
    • ইমাম তাবারানী - দেখুন আল-হায়তামী (৯:৫৭-৫৮; ৯:১১৬-১১৭);
    • বেশ কয়েকটি সনদে ’আল-আওসাত’ পুস্তকে (৭:১১০ #৭০০২; ৮:৪১ #৭৮৯৭);
    • ‘মুসনাদ আল-শামিয়্যীন’ (১:৩৭৫ #৬৫১);
    • ‘আল-মু’জাম আল-কবীর’ (১০:১৬৭ #১০৩৪৩);
    • আল-হারিস নিজ ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে (২:৮৮৯ #৯৬১);
    • আল-তায়ালিসী তাঁর ‘মুসনাদ’ কেতাবে (পৃষ্ঠা ২৩৪ #১৬৭৪);
    • ইবনে আবি আসিম নিজ ‘আল-সুন্নাহ’ পুস্তকে (২:৬২৪ #১৪৫৩);
    • ইমাম আহমদ (রহ:) স্বরচিত ‘ফাযাইলুস্ সাহাবা’ বইয়ে (১:২০৯ #২৩৩; ২:৫৭৭ #৯৭৭) এবং
    • আল-মুহিব্বুল তাবারী তাঁর ’আল-রিয়াদুন্ নাদিরা’ গ্রন্থে (১:৩০১ #১৪৬);
  • হযরত আবু মাসউদ (রা:) হতে
    • ইমাম তাবারানী আপন ‘আল-মু’জামুল কবীর’ কেতাবে (১৭:২৫০ #৬৯৫); এবং
  • হযরত ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে
    • ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ:) তাঁর ‘ফযাইলুস্ সাহাবা’ গ্রন্থে (১:১০৪ #৭৬)


শেষোক্ত বই ও তিরমিযীতে আরও বর্ণিত আছে,

অতঃপর মহানবী (দ:) ওই একই কথা আবার বলেন এবং হযরত উমর (রা:) আগমন করেন; সকল বর্ণনাকারী এই ক্রমানুসারে হযরত আলী (ক:)-কে তৃতীয় আগমনকারী বল্লেও ইমাম তাবারানী একটি বর্ণনায় হযরত উসমান (রা:)-এর নাম উল্লেখ করেছেন, যদিও তাঁর অন্যান্য সব বর্ণনায় শুধু হযরত আলী (ক:)-এর নামই এসেছে

  • হযরত ইবনে মাসউদ (রা:)-এর সূত্রে ‘আল-মু’জামুল কবীর’ (১০:১৬৬-১৬৭ #১০৩৪২, #১০৩৪৪),
  • উম্মে মারসাদ হতে ‘আল-আহাদ ওয়াল মাসানী (৬:২৩৪ #৩৪৬৭) এবং ’আল-কবীর’ (২৪:৩০১ #৭৬৪);
  • ইবনে আব্দিল বারর, ’আল-এস্তিয়াব’ (৪:১৯৫৭ #৪২০৯), এবং
  • হযরত জাবের (রা:) থেকে ইমাম আহমদ (রহ:)-এর ‘ফযাইলে সাহাবা’ (২:৬০৮ #১০৩৮);


শেষোক্ত বইয়ে (১:৪৫৪ #৭৩২) হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে একটি বর্ণনায় শুধু হযরত উসমান (রা:)-এর নাম উল্লেখিত হয়েছে,
  • ‘কানযুল উম্মাল’ (#৩৬২১১)


নবী পাক (দ.) বেহেশতী হিসেবে আরও যাঁদের নাম উল্লেখ করেছেন তাঁরা হলেন,
  • দশ জন বেহেশতী সাহাবী;
  • হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা:);
  • বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবাবৃন্দ;
  • সুনির্দিষ্ট কয়েকজন যেমন হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসের (রা:);
  • হোদায়বিয়াতে প্রতিশ্রুতি প্রদানকারীগণ;
  • হযরত জাফর ইবনে তাইয়ার (রা:);
  • হযরত বেলাল ইবনে রাবাহ (রা:);
  • ইসলামের পাঁচ স্তম্ভে কোনো কিছু যোগ না করার বা তা থেকে কোনো কিছু বাদ না দেয়ার অঙ্গীকারকারী এক বেদুঈন;
  • হিংসা থেকে মুক্ত আনসার সাহাবী;
  • ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (রা:) ও তাঁর ভাই ইমাম হাসান (রা:);
  • হযরত সাবেত ইবনে কায়েস (রা:);
  • হযরত মালেক (রা:);
  • হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রহ:)-এর সম্মানিত পিতা;
  • হযরত মুআবিয়া [1]
  • হযরত হেলাল হাবাশী [2];
  • হযরত জারির [3];
  • হযরত শারিক ইবনে খুবাশা আল-নুমাইরী [4]; এবং
  • আল-দাহহাক ইবনে খলীফা আল-আনসারী [5]

এ ঘটনার আগে মহানবী (দ.) ইতোমধ্যেই হযরত আবু বকর (রা:)-কে বেহেশতী হবার সুসংবাদ দিয়েছিলেন যখন তিনি এরশাদ করেছিলেন:

আবু বকর জান্নাতী, উমরও তাই, উসমানও, আলীও; তালহা, যুবাইর (ইবনে আওয়াম), আবদুর রহমান ইবনে আউফ, সা’আদ (ইবনে আবি ওয়াক্কাস), সাঈদ (ইবনে যায়দ ইবনে আমর) এবং আবু উবায়দা ইবনে জাররাহ সবাই জান্নাতী।

নোট
  • হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রহ:) ও হযরত সাঈদ ইবনে যায়দ (রা:) হতে ’সুনান’ ও ইমাম আহমদে বর্ণিত।

তথ্যসূত্র

  1. ’আল-ফেরদৌস’ ৫:৪৮২ #৮৮৩০ এবং ‘মিযানুল এ’তেদাল’ ২:২৪৩, ৪:৩৫৯
  2. মওলা আল-মুগিরাহ ইবনে শু’বা হতে ‘আল-এসাবা’ ৬:৫৫০ #৮৯৯৬, দেখুন - ‘নওয়াদিরুল উসূল’ #১২৩ এবং ‘হিলইয়াত আল-আউলিয়া’ ১৯৮৫ সংস্করণ ২:৮১, শেষোক্ত বইয়ে হযরত উয়াইস করনীর নামও উল্লেখিত হয়েছে
  3. ’নওয়াদির’ #১২৮
  4. এসাবা ৩:৩৮৪ #৩৯৮৭
  5. ’নওয়াদির’ ৩:৪৭৫ #৪১৬৬
  • মহানবী (দ:)-এর অদৃশ্য জ্ঞানবিষয়ক ৮০টি হাদীস-[ইমাম কাজী ইউসুফ নাবহানী (রহ:)-এর ৯০০ পৃষ্ঠাব্যাপী গ্রন্থ ‘হুজ্জাতুল্লাহি আ’লাল আ’লামীন ফী মো’জেযাতে সাইয়্যেদিল মুরসালীন (১৩১৭ হিজরী/১৮৯৯ খৃষ্টাব্দ) হতে সংগৃহীত]-মূল: শায়খ ড: জিবরীল ফুয়াদ হাদ্দাদ দামেশকী-অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
  • sufi-hearth.blogspot.com