রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)কে কষ্ট দিতে আবূ জেহেলের অপচেষ্টা ও তার প্রতিরোধ

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 2





















  • রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)কে কষ্ট দিতে আবূ জেহেলের অপচেষ্টা ও তার প্রতিরোধ








আবূ জেহেল এমন প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠল যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) কে অপমান ও নির্যাতন করতে মরিয়া হয়ে একনাগাড়ে চেষ্টা করা শুরু করল। কিন্তু প্রতিবারই আল্লাহ্ পাকের কুদরতে রাসূল (সা)-কে হেফাজত করা হলো। হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন, একবার আবূ জেহেল লোকদের বললঃ মুহাম্মদ মাটিতে মুখ ঠেকায়, তেমরা তা দেখ কি ? লোকেরা বলল, হ্যাঁ। আবূ জেহেল বললঃ লাত ও উজ্জার কসম ! আমি তকন আগামীবার তাকে এরুপ করতে দেকব, তার গর্দান পা দিয়ে মাড়িয়ে দেব অথবা তার চেহারায় ধুলা মাখিয়ে ছাড়ব।

একদিন রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখন কাবার পাশে সালাত আদায় করছিলেন, আবূ জেহেল তাঁকে পদদলিত করতে এগিয়ে গেল। কিন্তু লোকেরা দেখল, আবূ জেহেল ভয়ে পিছনে হটে আসছে আর দুহাত সামনে বাড়িয়ে আত্মরক্ষা করার প্রচেষ্ঠা চালাচ্ছে। লোকেরা তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বললঃ আমার এবং মুহাম্মদের মাঝে একটা ভয়ঙ্কর-কিছু রয়েছে। কতগুলো অদৃশ্য হাত। পরে রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন, ও যদি আমার দিকে আর ও এগিয়ে আসত তবে ফেরেশতা তার শরীরের প্রতিটি অংশ ছিঁড়ে নিয়ে যেত। এ ক্ষেত্রে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ ফরমানঃ “অবশ্যই (কাফেরা) মানুষ সীমা অতিক্রম (মানবতার) করে।” (মুসলিম)

হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) রেওয়ায়েত করেন, একবার আমার সামনে মসজিদে (কাবা শরীফে) আবূ জেহেল বললঃ মুহাম্মদকে সিজদায় দেখলে আমি তার ঘড় পদদলিত করব, প্রতিজ্ঞা করলাম।

ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খিুদমতে গিয়ে তাঁকে আবূ জেহেলের এ প্রতিজ্ঞার কথা জানালাম। তিনি ক্ষুদ্ধ অবস্থায় ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। মসজিদে (কাবায়) গিয়ে নির্ভীকভাবে দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেন। আমি মনে মনে ভয় পেলাম। তিনি সালাত শুরু করে সূরা ইকরা তেলাওয়াত করতে লাগলেন। যখন তিনি পর্যন্ত পৌঁছলেন, যা আবূ জেহেলের অবস্থাই বুঝাচ্ছিল, কেউ একজন আবূ জেহেলকে বললঃ এই তো মুহাম্মদ। আবূ জেহেল বললঃ কিন্তু আমি যা দেখছি, তুমি তা দেখছ না। আল্লাহর কসম ! আকাশের প্রাপ্তভাগ আমাকে বেষ্টন করে রেখেছে। (বায়হকী ও তিবরানী)

হযরত আবূ নামীয় সালাম ইব্ন জাহেলী থেকে তিনি আবূ ইয়াজিদ মদনী এবং আবূ কোরয়া জাহেলী থেকে বর্ণনা করেন, আবূ জেহেলের কাছে এক ব্যক্তির পাওনা ছিল। সে তা পরিশোধ করতে অস্বীকার করল। লোকেরা পাওনাদারকে বললঃ আমরা কি তোমাকে এমন একজনের কথা বলব যে ব্যক্তি আবূ জেহেলের কাছে থেকে তোমার পাওনা আদায় করে দিতে পারবে ? লোকটি বললঃ অবশ্যই বলো। ওরা বললঃ তুমি মুহাম্মদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে যাও।

ঐ লোক রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে এসে ঘটনা বলল। তিনি লোকটিকে সাথে নিয়ে আবূ জেহেলের কাছে গিয়ে বললেনঃ এ লোকটির পাওনা মিটিয়ে দাও। তৎক্ষণাৎ আবূ জেহেল বলল, হ্যাঁ, দিচ্ছি।’ সে বাড়ির ভিতর গেল এবং পাওনা নিয়ে এসে মিটিয়ে দিল।

লোকেরা আবূ জেহেলকে জিজ্ঞেস করল, কি হে আবূ জেহেল ! মুহাম্মদ কি ভয় পেলে ? সে বলল, সেই জাতের কসম ! যার হাতে আমার জীবন। । আমি মুহাম্মদদের সাথে তীক্ষ্ণ বর্শাধারী বাহিনী দেখেছি। পাওনা শোধ না করলে ওরা অবশ্যই আমার পেট বর্শা দিয়ে ফেরে ফেলত। (খাসায়েসুল কোবরা)

তথ্যসূত্র

  • রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)