শামসুল আইম্মা সারাখসী হানাফী (রহঃ)

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

নাম মুহাম্মদ, উপনাম আবু বকর, উপাধি শামসুল আইম্মা, পিতার নাম আহমাদ, দাদার নাম সাহল। তিনি শামসুল আইম্মা সারাখসী নামে সকলের কাছে পরিচিত। তিনি হানাফী। মাযহাবের একজন সুপ্রসিদ্ধ ফকীহ্ ও মুহাদ্দিস। ফিকহী উসূল ও নীতিমালা ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পারদর্শী। তিনি শামসুল আইম্মা হালওয়াইর কাছে বাগদাদে হাদীস, ফিকহ্, তাফসীর ও অন্যান্য ইলম শিক্ষা লাভ করেন। ইমাম সারাখসীর কাছ থেকে ইলম হাসিল করে যারা মুহাদ্দিস, ফকীহ, মুফতী, মুফাসসির, অন্যান্য জ্ঞানে পারদর্শী হয়েছেন তাঁদের মধ্যে বরহানুল আইম্মা আবদুল আযীয ইবন উমর ইবন মাজাহ, রুকনুদ্দীন, মাসউদ ইবন হাসান (র) প্রমুখ মনীষী সুপ্রসিদ্ধ।

সত্য কথা বলার ব্যাপারে তিনি ছিলেন অকুতােভয়। সে যুগের বাদশাহ খাকান'-এর বিরুদ্ধেও সত্য কথা বলতে তিনি দ্বিধা করেননি। যে কারণে বাদশাহ তাঁকে এক অন্ধকূপের মধ্যে বন্দী করে রাখেন।

সেখানে থেকেই তিনি তার সুপ্রসিদ্ধ কিতাবে মাবসূত লিপিবদ্ধ করেন। অথচ সেখানে সাহায্য নেওয়ার মত কোন কিতাবাদি ছিল না। তাঁর শিষ্যগণ কৃপের উপরে আশেপাশে বসে তাঁর তিলিপি লেখার কাজ চালিয়ে যেতেন। এভাবে তিনি তাঁর ফিকহ হাদীসের দারস ও তাদ্রীসের কাজ কূপের ভিতর থেকে জারি রাখেন। এই বন্দী জীবনেই তিনি উসূলে ফিকহের একটি কিতাব সিয়ারে কাবীরের শরাহ লেখানাের কাজ সমাপ্ত করেন। মুক্তি লাভের। পর শেষ বয়সে তিনি ফারগানায় অবস্থান করে মাবসূতের অসম্পূর্ণ অংশ সমাপ্ত করেন।

এ ছাড়াও তিনি মুখতাসারু তাহাবী ও ইমাম মুহাম্মদের কিতাবসমূহের শরাহ্ লেখেন।

একদা কেউ তাকে বলল, ইমাম শাফিঈ (র) তাে তিনশ’ জুয মুখস্থ করেছেন। তখন তিনি তাঁর মুখস্থ মাসাইল হিসাব করে দেখলেন যে, তাঁর বারাে হাজার জুয্‌ মুখস্থ রয়েছে। ইমাম সারাখসী (র) ইলমী দক্ষতায় ছিলেন যেমন পারদর্শী, তেমনি আমলেও বুযুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। তার থেকে বহু কারামত প্রকাশ পেয়েছে।[1] তিনি ৫৯০ হিজরী সনে ইন্তিকাল করেন।

তথ্যসূত্র

  1. আনওয়ারুল বারী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০৫-১০৬
  • ফাতাওয়া ওয়া মাসাইল (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)