শিশুকালেই তাঁর মর্যাদার প্রভাব

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 1












  • শিশুকালেই তাঁর মর্যাদার প্রভাব

















রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দাদা আবদুল মুত্তালিব ছিলেন সমগ্র আরবে সবচেয়ে সম্মানিত ও সম্ভ্রান্ত। উপরক্ত তিনি মক্কায় সরদার এবং অত্যন্ত রাশভারী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন বিধায় মানুষের উপর ছিল তাঁর অত্যন্ত প্রভাব। লোকেরা তাঁকে অসাধারণ ব্যক্তি ও সম্মান করত। তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি-এতই ছিল যে, কাবা ঘরের পাশে একটা স্থান ছিল শুধু তাঁর জন্য নির্দিষ্ট। তাঁর জন্য সেখানে বিছানা পাতা থাকত। তাতে আর কেউ তো বসতই না, বরং তিনি যখন সেখানে আসন গ্রহণ করতেন, লোকেরা এমনকি তাঁর সন্তানেরা পর্যন্ত সম্মানজনক দুরত্ব বজায় রেখে সে বিছানা থেকে দূরে চারপাশে ঘিরে বসত। তিনি যতক্ষণ দরবারে বসে থাকতেন কেউ অন্যদিকে দৃকপাত করত না। স্থির বসে থাকত। তিনি উঠে দাঁড়ালে সকলেই সসম্মানে উঠে দাঁড়াত।

এ অবস্থায় কোনও কোনও সময় বালক মুহাম্মদ (সা) সেখানে আসতেন এবং সেই সম্মানজনক বিছানায় গিয়ে বসতেন। চাচারা সন্ত্রস্ত হয়ে তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আবদুল মুত্তালিব বাধা দিতে বলতেনঃ “আমার এ সন্তানটিকে তোমরা এখানেই বসতে দাও। আল্লাহর কসম! অবশ্যই সে সম্মানিত।” এই বলে তাঁকে নিজের পাশে বসাতেন। অপার স্নেহে তাঁর পিঠে হাত বুলাতেন। এ সময় নবীজী যা কিছুই বলতেন, যা কিছু করতেন তাতেই আবদুল মুত্তালিব অপরিসীম আনন্দ লাভ করতেন। (বায়হাকী ও ইব্ন ইসহাক)

ছয় বছর বয়সে যখন রাসূল (সা)-এর আম্মা ইন্তিকাল করেন, দাদা আবদুল মুত্তালিবের পরিবারভূক্ত হয়ে যান তখন। শিশু অবস্থায় অনেক সময় তিনি দাদার তাকিয়া এনে তার উপর তিনি বসে পড়তেন। আবদুল মুত্তালিব তখন বৃদ্ধ। একটি মেয়ে তখন তাঁকে ধরে ধরে তাকিয়ার কাছে নিয়ে আসত। ঐ মেয়ে রাসূল (সা)-কে বলতঃ ‘হে বালক! দাদার তাকিয়া থেকে সরে যাও।’ তখন তাকে বাধা দিয়ে আবদুল মুত্তালিব বলতেন, আমার এ বাছাকে তাকিয়ার উপরই বসতে দাও। সে আপাদমস্তক মোবারক। (খাসায়েসুল কোবরা ও মাদারেজুন্নাবুওয়াত)

তথ্যসূত্র

  • রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)