সম্রাট নাজ্জাশীর বর্ণনা

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 1



  • সম্রাট নাজ্জাশীর বর্ণনা


























আসমা বিনতে আবু বক্কর (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, যায়েদ ইব্ন আমর ইব্ন নুফায়েল এবং ওয়ায়েল ইব্ন নাওফেল বলেছেনঃ মক্কা থেকে আবরাহার বিতাড়িত হওয়ার পর একবার আমরা আবিসিনিয়া সম্রাট নাজ্জাশীর দরবারে গেলাম।

নাজ্জাশী বললেনঃ কুরায়শগণ ! সত্য করে বল, তোমাদের মাঝে এমন কোন শিশু জন্মগ্রহণ করেছে কি যার পিতা তাকে বলি দেওয়ার ইচ্ছা করেছিল। তারপর বিকল্প হিসেবে লটারী করে অনেক উট কুরবানী করে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল ? আমরা বললাম, হ্যাঁ, এরুপ শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল। সম্রাট জিজ্ঞেস করলেনঃ সে পরে কি করেছে তোমরা জান ?

আমরা বললামঃ সে আমিনা নাম্নী এক মহিলাকে বিয়ে করেছে এবং তাকে গর্ভবতী রেখে ইন্তিকাল করেছে। নাজ্জশী জিজ্ঞেস করলেনঃ গর্ভের ঐ শিশু জন্ম নিয়েছে কি ? এর জওয়াবে ওয়ারাকা বললেনঃ আমি এক রাতে মূর্তির কাছে অবস্থান করছিলাম। সেটির ভিতর থেকে আওয়াজ শুনলাম- “নবী জন্মলাভ করেছেন। সম্রাটেরা লাঞ্ছিত হয়েছে। ভ্রষ্টতার অন্ধকারে বিদূরিত হয়েছে এবং র্শিক খতম হয়ে গেছে।” এরপর প্রতিমাটি উপুড় হয়ে আছড়ে পড়ল।

এর মাঝে যায়েদ বললেনঃ হে সম্রাট ! আমার কাছেও এ ধরনের সংবাদ আছে। সে রাতে আমি স্বপ্নে আবূ কুরায়েশ পাহাড়ে পৌঁছে এক ব্যক্তিকে আকাশ থেকে নামতে দেখি। তার দুটি পাখা ছিল সবুজ রংয়ের। কিছু সময় সে পাহাড়ে অবস্থান করে মক্কায় এলো এবং বলতে লাগল, “শয়তান লাঞ্ছিত হয়েছে, মূর্তিপূজা খতম হয়ে গেছে। ‘আমিন’ জন্মলাভ করেছে।” তারপর সে একটা শামিয়ানা খুলে পূর্ব থেকে পশ্চিমে মেলে দিল। দেখতে দেখতে শামিয়ানাটি আকাশব্যাপী তাঁবুর ন্যায় হয়ে গেল। একটি নূর উদয় হলো, যার ঔজ্জ্বল্যে আমার চোখ ঝলসে গেল। আমি ভীত হয়ে পরলাম। এরপর এ আওয়াজকারী তার পাখা ঝাড়া দিল এবং কাবার উপর গিয়ে পড়ল। এরপর একটি নূর উদয় হলো যাতে মক্কার সমস্ত ভূভাগ উদ্ভাসিত হয়ে গেল। সে বলতে লাগল- ভূভাগ পবিত্র হয়ে গেছে, সজীব হয়েছে। অতপর সে কাবাঘরে রাখা মূর্তিগুলোর দিকে ইশরা করল। সেগুলি ভূমিসাৎ হয়ে গেল।

নাজ্জাশী বলেছেনঃ এবার আমার ঘটনাটা শোন। সে রাতে আমি বিছানায় ঘুমিয়েছিলাম। স্বপ্নে দেখি অকস্মাৎ মাটি ভেদ করে একটি গ্রীবা ও মাথা বের হয়ে এলো। বললঃ হস্তিবাহিনী বিধ্বস্ত হয়ে গেছে, আবাবীল পাখি পাথর মেরে তাদের খতম করে দিয়েছে। পাপী ও অপরাধীদের আস্তানাও খতম। মাক্কী নবী জন্ম নিয়েছেন। সে তাঁর কথা মানবে সফল হবে। যে অবাধ্য হবে; এতটুকু বলেই সে অদৃশ্য হয়ে গেল। আমি চিৎকার করে বাকিটুকু জানতে চাইলাম। কিন্তু মুখ দিয়ে আওয়াজ বের হলো না । পালাতে চাইলাম কিন্তু উঠে দাঁড়াতে পারলাম না। এর পর আমার লোকেরা আমার কাছে এসে গেল। আমি (রেগে গিয়ে) তাদের বললামঃ ‘হাবশীদের আমার সামনে থেকে দূর করে দাও।’ তারা তাই করল।

তথ্যসূত্র

  • খাসায়েসুল কোবরা
  • রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)