সামান্য খাদ্যে চল্লিশজনকে তৃপ্ত করানো হলো

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 2















  • সামান্য খাদ্যে চল্লিশজনকে তৃপ্ত করানো হলো














হযরত আলী (রা) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা)-এর উপর “আপনি আপনার পরিবার-পরিজন ও নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।” এ আয়াতখানা যখন নাযিল হলো, তিনি বিললেনঃ হে আলী ! ছাগলের একটি রান এবং এক ছা ময়দা নিয়ে তুমি খানা তৈরি করো এবং দুধের একটা বড় পাত্র প্রস্তুত রাখ। তারপর বনু আবদুল মুত্তালিবকে জমায়েত করো।

হযরত আলী (রা) বলেন, তাঁর হুকুমমত আমি সব ব্যবস্থা করলাম। বনু মুত্তালিব সমবেত হলো। তারা ছিল মোট চল্লিশজন। এর মাঝে আবূ তালিব, হামজা, আব্বাস এবং আবূ লাহাবও ছিল।

আমি খানার পাত্র সামনে রাখলাম। রাসূলুল্লাহ্ (সা) পাত্র থেকে গোশতের বড় একটা টুকরা নিয়ে দাঁত দিয়ে কেটে কেটে পাত্রের চারধারে রেখে দিলেন। তারপর বললেনঃ ‘বিসমিল্লাহ্’ এবার সকলেই খান। সকলেই খেলেন এবং পরিতৃপ্ত হলেন। কিন্তু খাদ্য এত কম ছিল যে, তাদের একজনই সবটুকু খাদ্য খেয়ে ফেলতে পারত । তারপর রাসূল (সা) বললেন, আলী ! এদের দুধ পান করাও। আমি দুধের পেয়ালাটি তাদের কাছে নিয়ে গেলাম। তারা পান করলো। সকলেই পরিতৃপ্ত হলো। আল্লাহর কসম ! এ দুধটুকু তাদের একজনের জন্যই কেবল হতে পারত।

খাওয়া দাওয়ার পর রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন কথা বলা শুরু করতে চাইলেন, আগ বেড়ে আবূ লাহাব বললঃ তোমাদের এ লোকটি তোমাদের উপর জাদু করেছে। তারপর সকলেই চলে গেল, রাসূল (সা) আর কথা বলতে পারলেন না।

পরদিন একইবাবে রাসূল (সা)-এর হুকুমে একই পরিমাণ খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা করা হলো। কুরায়শরা জমায়েত হলো। এ অল্প খাদ্য ও পানীয় খাদ্য দ্বারা সকলেই পূর্ণ তৃপ্ত হয়ে গেল। তারপর তিনি সকলেই উদ্দেশ্য বললেনঃ হে বনু আবদুল মুত্তালিব ! আরবের কোন যুবক আমার চেয়ে উৎকৃষ্ট কোনও বিষয় নিয়ে কখনও আসেনি। আমি তোমাদের কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের উভয়ের (সাফল্যের) বিষয় নিয়ে এসেছি। (ইব্ন ইসহাক ও বায়হাকী)

আবূ নামীয় কর্তৃক বর্ণিত অন্য সনদে আলী (রা)-এর রেওয়াত এসেছে, “আয়াতটি নাযিল হলে রাসূল (সা) নিজের গোত্রের চল্লিশজনকে খানার জন্য দাওয়াত দিলেন। তাদের প্রত্যেকেই বড় একটা ছাগলের রান আর বড় এক পাত্র দুধ একাই খেয়ে ফেলার মত লোক ছিল। কিন্তু রাসূল (সা) তাদের সকলের জন্য মাত্র একটি রান (ছাগলের) পেশ করলেন। দেখা গেল সকলেই খেল পেট পুরে। এরপর আমি এক পোয়ালা দুধ এনে দিলাম। সকলেই তা থেকে পরিতৃপ্ত হয়ে পান করলো। এতে আবূ লাহাব বললঃ আজকের মত এমন জাদু আমরা কখনও দেখিনি। (এরপর তারা চলে গেল)

এরপর রাসূল (সা) হুকুম করলেন, আলী ! আজ যেমন তুমি খানা তৈরি করেছ, আগামীকালও সেই রকম খানা তৈরি করবে। পরের দিনও ঐ রকম এবং ঐ পরিমাণ খানার আয়োজন করা হলো। এদিনও সকলেই পেট ভরে খেল এবং পরিতৃপ্ত হয়ে পান করল। এরপর (এদিন) রাসূল (সা) তাদের সামনে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করলেন। (খাসায়েসুল কোবরা)

তথ্যসূত্র

  • রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)