হজরত ইব্রাহীম খলীল (আঃ) ও রসুলে আকরম (সঃ)

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
নমরুদের অগ্নিকুন্ড

আলাহ্ তায়ালা হজরত ইব্রাহীম আ. কে এই মহিমা দান করেছিলেন যে, নমরুদের অগ্নিকুন্ড তাঁর জন্য শান্তিময় শীতল হয়েছিলো। আমাদের পয়গম্বর সাইয়্যেদে আলম স. এর মর্যাদা ছিলো, কাফেরদের যুদ্ধের অগ্নি তাঁর জন্য শীতল করে দেয়া হয়েছিলো। যুদ্ধের অগ্নিতে তরবারী সমূহ কাষ্ঠখন্ড, ইন্ধন এবং অগ্নিশিখা সবই কাফেরদের জন্য মৃত্যুর কারণ হয়েছিলো। যুদ্ধের অগ্নি প্রজ্বলনকারী হচ্ছে হিংসা আর তাতে জ্বলে যায় আত্মা ও শরীর। আলাহ্তায়ালা এরশাদ করেছেন, কাফেরেরা যখনই যুদ্ধের অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করেছে, আলাহ্পাক তা নিভিয়ে দিয়েছেন। তারা চেয়েছিলো, কুফুরীর আগুন দিয়ে দ্বীনের নূরকে নিভিয়ে দিতে। কিন্তু জাব্বার কাহ্হার আলাহ্তায়ালা সবসময়ই তা রুখে দিয়েছেন এবং দ্বীনের নূরকে পরিপূর্ণ করেছেন। এই মর্মে এরশাদ হয়েছে,

আলাহ্তায়ালা তাদের মনস্কামনাকে অসফল করে দিয়েছেন এবং চেয়েছেন তাঁর নূরকে পরিপূর্ণ করে দিতে, যদিও কাফেরেরা অপছন্দ করেছে।

এখানে আরেকটি ঘটনা উলেখযোগ্য যে, আলাহ্তায়ালা মেরাজ রজনীতে তাঁর হাবীব স. কে অগ্নিসাগর নির্বিঘ্নে পার করে দিয়েছিলেন।

ইমাম নাসায়ী র. মোহাম্মদ ইবনে হাতিব রা. থেকে বর্ণনা করেছেন- তিনি বলেছেন, আমি তখন শিশু। একদিন অগ্নিদগ্ধ পাতিল উল্টে গিয়ে আমার উপর পড়ে গিয়েছিলো। তাতে আমার শরীরের সমস্ত চামড়া জ্বলে যায়। আমার পিতা রসুল করীম স. এর কাছে আমাকে নিয়ে গেলেন। তিনি তাঁর পবিত্র মুখ থেকে লালা নিয়ে আমার শরীরের চামড়ার উপর প্রলেপ দিয়ে দিলেন এবং দোয়া করলেন, ‘হে মানুষের প্রভুপালক! এর কষ্ট দূর করে দাও।’ তৎক্ষণাৎ আমি সুস্থ হয়ে গেলাম। মনে হলো, কিছুই হয়নি।

খলীল ও মাহবুব এর মাকাম

আল্লাহ্‌তায়ালা হজরত ইব্রাহীম আ. কে খলীল এর মাকাম দান করেছিলেন আর আমাদের নবী সাইয়্যেদে আলম স. কে দান করেছিলেন মহব্বতের মাকাম। মহব্বতের মাকাম খলীলের মাকামের ঊর্ধ্বে। হাবীব ওই প্রেমাস্পদকে বলা হয় যিনি মাহবুবিয়াতের মাকাম পর্যন্ত পৌঁছেছেন। রসুলে আকরম স. কে সাধারণভাবে সকলের শাফায়াতের ক্ষমতা দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে যে, তিনি মাহবুবিয়াতের মাকামের অধিকারী। কেউ কেউ বলে থাকেন, তিনি মহব্বত ও খিল্লাত উভয় মাকামের অধিকারী। আর তাঁর খিল্লাতের (খলীল হওয়ার) মাকাম হজরত ইব্রাহীম আ. এর খিল্লাতের মাকামের চেয়ে অধিকতর পূর্ণ ও উত্তম। ‘আখেরাতের মর্যাদায় রসুলেপাক স. এর বিশেষত্ব’ নামক শিরোনামে এ সম্পর্কে আরও অধিক আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ্‌।

মূর্তি ভেঙে ফেলা

আলাহ্তায়ালা হজরত ইব্রাহীম আ. কে কুঠারের সাহায্যে মূর্তি ভেঙে ফেলার সম্মান দান করেছিলেন। আর আমাদের নবী সাইয়্যেদে আলম স. কে অত্যন্ত কঠিন ও মযবুত মূর্তি, যা কাবা ঘরের দেয়ালে সংস্থাপিত ছিলো, তা সামান্য একখণ্ড কাঠের ইশারায় ভেঙে ফেলার গৌরব দান করেছিলেন। ওই সময় তাঁর পবিত্র রসনা থেকে উচ্চারিত হচ্ছিলো ‘হক এসে গেছে এবং বাতেল ধ্বংস হয়েছে।’

কাবাগৃহ নির্মাণ

আলাহ্তায়ালা হজরত ইব্রাহীম খলীল আ. কে কাবাগৃহ নির্মাণের সম্মান দিয়েছেন, আর আমাদের নবী সাইয়্যেদে আলম স. কে সে গৃহে হাজরে আসওয়াদ সংস্থাপন করার মর্যাদা প্রদান করেছেন। হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে হাদীছ শরীফে উক্ত হয়েছে, হাজরে আসওয়াদ আলাহ্তায়ালার দক্ষিণ হস্ত। কারও সাথে কোনো বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলে তাঁর ডান হাত যেমন চুম্বন করা হয়ে থাকে, উক্ত পবিত্র পাথরকে তেমনি চুম্বন করা হয়। কিয়ামতের দিন হাজরে আসওয়াদের চক্ষু এবং জিহবা হবে। তাকে যে জিয়ারত করেছে সে লোকটিকে দেখে চিনবে এবং তার জিহবা দ্বারা তার জন্য শাফাআত করবে। সুতরাং বায়তুলাহ শরীফের নির্মাণের পূর্ণতায় হজরত ইব্রাহীম আ. এর চেয়ে রসুলেপাক স. এর অবদান অধিকতর শক্তিশালী ও পূর্ণ।

তথ্যসূত্র

  • মাদারিজুন নবুওয়ত (লেখকঃ আবদুল হক মুহাদ্দেসে দেহলভী (রহঃ))