হযরত উসমান (রাঃ)এর ইসলাম গ্রহণের কাহিনী

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search
মুহাম্মাদ (সঃ) এর মুজিজা সমূহ 2



























  • হযরত উসমান (রাঃ)এর ইসলাম গ্রহণের কাহিনী


হযরত উসমান (রা) থেকে এক সনদে ইব্ন আসাকির রেওয়ায়েত করেন, উসমান (রা) বলেনঃ ইসলাম গ্রহণের পূর্বে আমি নারীদের প্রতি আসক্ত ছিলাম। এক রাতে কুরায়শদের সাথে কাবার পাশে বসেছিলাম। শুনলাম কে যেন বলল, মুহাম্মদ (সা)-এর কন্যা রুকাইয়ার সাথে আবূ লাহাবের ছেলে উতবার বিয়ে স্থির হয়েছে। শুনে আমার খুব দুঃখ লাগল। আমি কেন চেষ্টা করলাম না। রুকাইয়ার মতো রুপবতী ও গুনবতী কমই ছিল, তাকে দেখলে সকলেই হতবাক হয়ে যেত।

কিছুক্ষণের মধ্যে আমি বাড়ি গিয়ে আমার খালার কাছে গেলাম। আমাকে দেখেই তিনি বলতে শুরু করলেনঃ “সুসংবাদ হোক, পরপর তিনবার তোমাকে ইজ্জত দান করা হোক। আবার তিনবার, তারপর আরও তিনবার, যাতে দশ সংখ্যা পূরণ হয়। তোমার কাছে মঙ্গল এসেছে। খারাবী থেকে তুমি বেঁচে থাক। আল্লাহর কসম ! সুন্দরী নারীর সাথে তোমার বিয়ে হবে। তোমরা দু’জনই কুমার-কুমারী হবে। অতি মহান এক ব্যক্তির কন্যা তুমি লাভ করেছ।”

উসমান (রা) বলেনঃ খালার কথায় আমি অবাক হয়ে গেলাম। বললামঃ এসব তুমি কি বলছ খালা ! খালা বললঃ দেখ উসমান ! তুমি দেখতে খুব সুন্দর, কথা সুন্দর। এ দুটির সাথে নবী কারীম (সা)-এর সম্পর্ক আছে। আল্লাহ্ সত্যসহ নবী পাঠিয়েছেন। তাঁর কাছে নাযিলকৃত কিতাব কুরআন আছে। তুমি সে নবীর আনুগত্য করো। এ মূর্তি যেন তোমাকে ধোঁকা দিয়ে ধ্বংস করে না ফেলে।

আমি বললামঃ খালা ! তুমি এমন নতুন কিছু বলছ, আমাদের নগরীতে এরকম কথাবার্তা আর শোনা যায়নি। ব্যাপারটা খোলামেলা করে বলো দেখি।

খালা বললেনঃ মুহাম্মদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ রাসূল। তিনি আল্লাহর নাযিলকৃত কুরআন নিয়ে এসেছেন । এর দ্বারা মানুষকে সত্যের দিকে ডাকেন। তাঁর বাতিটাই হলো আসল বাতি। তাঁর দীনই হলো কামিয়াবী। তাঁর আমলে যুদ্ধ হবে। সমস্ত দেশ তাঁর অনুগত হবে। যুদ্ধে কাফেররা নিহত হতে থাকলে, তলোয়ার কোষমুক্ত হয়ে গেলে আর বর্শা চলতে শুরু করলে আর কোন হৈ চৈ করে লাভ হবে না।

উসমান বলেনঃ একথা শুনে আমি ফিরে এলাম। কথাগুলো আমার মনে আলোড়ন সৃষ্টি করল। এ ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা করতে শুরু করলাম। হযরত আবূ বকর (রা)-এর কাছে আমার আসা-যাওয়া ছিল। তাঁর কাছে গিয়ে খালার মুখে যা শুনেছিলাম, জানালাম।

আবূ বকর (রা) বললেনঃ উসমান ! তোমার কল্যাণ হোক, তুমি জ্ঞানী মানুষ। সত্য-মিথ্যা অবশ্যই বুঝ। আমাদের কাওম যাদের পূজা করে, তাদের কোনও অস্তিত্ব আছে কি ? এরা কি পাথর নির্মিত নয় ? এদের শোনার ক্ষমতা নেই, দেখার ক্ষমতা নেই, নেই উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা।

আমি বললামঃ আল্লাহর কসম ! এদের অবস্থা তো ঠিক আপনি যেমন বলেছেন, তাই। আবূ বকর বললেনঃ “তোমার খালা তোমাকে সঠিক কথাই বলেছেন। মুহাম্মদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ্ পাক তাঁকে রিসালাত দান করে মানুষের জন্য পাঠিয়েছেন। তুমি কি তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর কথা শুনতে চাও ?”

আমি বললামঃ “হ্যাঁ, অবশ্যই চাই।” তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দরবারে হাজির হলাম। তিনি বললেনঃ হে উসমান ! আল্লাহপাক তোমাকে জান্নতের দিকে ডাকছেন। ইসলাম কবূল কর। আমি আল্লাহর রাসূল। আমাকে তিনি তোমার কাছে এবং তাঁর সকল মাখলুকের কাছে সৎপথ প্রদর্শনের জন্য পাঠিয়েছেন।

উসমান (রা) বলেনঃ আমি বিগলিত চিত্তে ইসলাম কবূল করলাম এবং এর কিছুদিন পরই হযরত রুকাইয়ার বিয়ে করলাম। মানুষ বলত, উসমান ও রুকাইয়া বড় সুন্দর মানানসই স্বামী-স্ত্রী। (খাসায়েসুল কোবরা)

তথ্যসূত্র

  • রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)