বদরের যুদ্ধ

From Sunnipedia
Revision as of 17:43, 14 May 2015 by Khasmujaddedia1 (Talk | contribs) (Created page with "{{মুহাম্মাদ (সঃ) 5|মুহাম্মাদ (সঃ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী}} {{মুহাম্মাদ (সঃ) 6|ম...")

(diff) ← Older revision | Latest revision (diff) | Newer revision → (diff)
Jump to: navigation, search
বদর যুদ্ধ 

আল্লাহ বাণী :

وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنتُمْ أَذِلَّةٌ ۖ فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

আর এতো সুনিশ্চিত যে, আল্লাহ্ বদর যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছিলেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল।

— আল্-কুরআন, সূরা আলে-ইমরান; আয়াত : ১২৩

উল্লেখ্য যে, মদীনা থেকে ৮০ মাইল দূরে বদর প্রান্তর অবস্থিত। ২য় হিজরীর রমজান মাসে [1] এ প্রান্তরে কাফির কুরায়শদের সাথে মুসলমানদের ভীষণ যুদ্ধ হয়, হক ও বাতিলের দ্বন্দে ইসলামের ইতিহাসে এটি প্রথম যুদ্ধ। আল্-কুরআনে এ দিনকে ‘ইয়াওমিল ফুরকান’ তথা পার্থক্যকারী দিন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বস্তুত: এ দিনেই ‘হক ও বাতিল’ বা সত্য-মিথ্যা পৃথক হতে যায় এবং সত্যের বিজয় সূচিত হয়।

আবু সুফিয়ানের কাফেলা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খবর পান যে, আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে একটি কুরায়েশ কাফেলা সিরিয়া থেকে ব্যবসা করে মক্কায় ফিরে যাচ্ছে। এটি ছিল চল্লিশ জনের এক বড় কাফেলা এবং তাদের সাথে ছিল কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল। নবী করীম (স.) এ খবর জানতে পেরে সাহাবাদের নির্দেশ দেন কাফেলার গতিরোধ করতে এবং মালপত্র বাজেয়াপ্ত করতে। তিনি (স.) বলেন :

কুরায়েশদের এ কাফেলায় প্রচুর ধন-সম্পদ রয়েছে। যদি তোমরা এ কাফেলার প্রতিরোধ কর, তাহলে আল্লাহ্ পাক সে সব সম্পদ গনীমতের মাল হিসেবে তোমাদের দান করবেন।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ২য় হিজরীর ৮ই রমযান সাহাবীদের নিয়ে যুদ্ধে বের হন এবং এ সময় মদীনার অস্থায়ী গভর্নর ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)। তাঁর সাথে ৩১৩ জন সাহাবী ছিলেন, উট ছিল ৭০টি এবং ঘোড়া ছিল মাত্র ২টি। এদিকে আবু সুফিয়ানও মুসলমানদের হামলার আশংকা করছিলেন এবং যখন নিশ্চিত জানতে পারেন যে, মুসলমানরা কাফেলায় হামলা করবে, তখন তিনি জমজম ইবনে আমরকে মক্কায় এ খবর পৌঁছে দিতে তৎক্ষণাৎ পাঠিয়ে দেন।

আবু জেহেলের দম্ভ

জমজমের কাছে এ খবর শোনার পর সারা মক্কায় হৈ-চৈ পড়ে যায়। তারা সাথে সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে আবু জেহেলের নেতৃত্বে বেরিয়ে পড়লো। সে বলে

হয়তো মুহাম্মদ ও তাঁর সাথীরা এ কাফেলাকে ইবনে হাজ্রামীর কাফেলা ভেবেছে। আল্লাহ্র কসম! এখনই তারা টের পাবে।

এদিকে চতুর আবু সুফিয়ান বদরের সোজা পথে মক্কা ফেরার চিন্তা বাদ দিয়ে মোড় ঘুরে উপকূলের পথ ধরে এবং মুসলমানদের আক্রমণ থেকে কাফেলাটি বাঁচিয়ে নেয়। এ সময় আবু সুফিয়ান খবর পাঠিয়ে জানায়, এখন আর সাহায্যের প্রয়োজন নেই, তারা যেন মক্কায় ফিরে যায়। কুরায়েশ বাহিনীর কাছে যখন এ খবর পৌঁছলো, তখন আবু জেহেল হুংকার দিয়ে বলে উঠলো :

না, না, আল্লাহ্র কসম! আমরা বদরের প্রান্তরে না পৌঁছে কিছুতেই ফিরবো না। সেখানে পৌঁছে আমরা ৩ দিন অপেক্ষা করব। উট যবাই করব, শরাব পান করব, গায়িকাদের গান শুনব এবং ফূর্তি করে সময় কাটাব।

সাহাবাদের কুরবানী

উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা থেকে বের হয়েছিলেন আবু সুফিয়ানের কাফেলাকে উদ্দেশ্য করে। যখন কাফেলাটি নিরাপদে চলে যায়, তখন তাদের সাহায্যকারী বাহিনীর মুখোমুখি হয় মুসলিম বাহিনী। যারা যুদ্ধ সাজে সাজ্জিত ছিল এবং তাদের সংখ্যা ছিল ১০০০ চাইতে বেশী। এ সময় তিনি (স.) আনসার ও মুহাজির সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেন এবং তাঁদের অভিমত কি তা জানতে চান। এ সময় হযরত আবু বকর (রা.) ও উমর (রা.) বলেন :

ইয়া রাসূলাল্লাহ (স)! আপনি যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিলে আমরা আপনার সাথে আছি।

তারপর হযরত মিকদাদ (রা.) বলেন :

ইয়া রাসূলাল্লাহ (স)! আল্লাহ্র নির্দেশ মত আপনি এগিয়ে চলুন, আমরা আপনার সাথে আছি এবং থাকবো। আল্লাহ্র কসম! বনী ইসরাইলরা যেভাবে তাদের নবীকে বলেছিল : তুমি ও তোমার রব গিয়ে যুদ্ধ কর, আমরা এখানেই বসে থাকবো। আমরা কখনো আপনাকে সেরূপ বলব না। আমাদের ইচ্ছা, আপনি যুদ্ধ করলে আমরা আপনার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত।

মুহাজির সাহাবীদের অভিমত শোনার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার সাহাবীদের অভিমত জানতে চাইলে হযরত সা‘দ ইবন মা‘আয বলেন :

হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা আপনার উপর ঈমান এনেছি এবং এ কথার স্বীকৃতি দিয়েছি যে, আপনি যে পয়গাম নিয়ে এসেছেন- তা সত্য। আমরা আপনার সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, আপনি যে নির্দেশ দেবেন, তা আমরা মেনে চলব। আপনি যদি আমাদের সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে বলেন, তথাপি আমরা আপনার সাথে থাকব, মুখ ফিরিয়ে নেব না। আমরা শত্রুর মুকাবিলা করতে ভয় পাই না। হয়তো আল্লাহ্ পাক আমাদের দ্বারা আপনাকে খুশী করবেন। আল্লাহ্র নাম নিয়ে এগিয়ে চলুন, আমরা আপনার সাথে আছি এবং থাকবো।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের বক্তব্য শোনার পর বলেন :

আল্লাহর নামে এগিয়ে চল, তোমরা বিজয়ী হবে। কারণ, আল্লাহ্ তা‘য়ালা আমাকে কুরায়েশদের বাণিজ্য কাফেলা অথবা যোদ্ধা বাহিনীর কোন এক দলের উপর সাফল্য দানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহর কসম! অবস্থা তো এই যে, আমি শত্রুদলের নিশ্চিত ধ্বংস দেখতে পাচ্ছি।

জিহাদের প্রস্তুতি 

বদর প্রান্তরের কাছে যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেনা ছাউনী ফেলেন, সেখানে পানি সংকট থাকায় হযরত খাব্বাব ইবন মুনযির (রা.) বলেন :

“ইয়া রাসূলাল্লাহ (স.)! আপনি কি এখানে আল্লাহ্র নির্দেশে তাবু ফেলেছেন, না যুদ্ধের কৌশল হিসাবে?”

জবাবে তিনি (স.) বলেন : “না, এতে কেবল রণ-কৌশলের খেয়াল রাখা হয়েছে।”

একথা শুনে হযরত খাব্বাব (রা.) বলেন : “হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের উচিত হবে পানির কাছাকাছি থাকা। এতে আমরা বেশী উপকৃত হব।”

সে মতে তিনি (স.) সাহাবীদেরকে তাদের ছাউনী তুলে কূপের পাশে অবস্থান নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

রাসূল (স.)-এর দু‘আ 

এ যুদ্ধে শত্রু সেনা ছিল মুসলমানদের তিন গুণ বেশী। তাছাড়া তাদের কাছে ছিল সব ধরণের অস্ত্রের বিপুল সম্ভার এবং প্রচুর উট ও ঘোড়া। এদিকে মুসলমানরা সংখ্যায় ও ছিল অল্প এবং অস্ত্র ও ছিল কম। তাই কুরায়েশরা এ কারণে খুশী ছিল যে, জয়তো তাদেরই হবে। তাই যুদ্ধের প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় পড়ে কেঁদে কেঁদে এরূপ দু‘আ করেন :

ইয়া আল্লাহ্! এ অল্প সংখ্যক মুসলমান যদি যুদ্ধক্ষেত্রে মারা যায়, তাহলে দুনিয়াতে তোমার ইবাদত করার জন্য আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।

এ দৃশ্য দেখে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) বলেন :

ইয়া রাসূলাল্লাহ (স)! আপনি মাথা উঠান। আল্লাহ্ তা‘য়ালা আপনার দু‘আ কবুল করেছেন।

তিনি দু‘আ শেষে এ আয়াত পাঠ করেন :

سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ

অর্থ : “অচিরেই এদল পরাভূত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালাবে।”

— আল্-কুরআন, সূরা কমর, আয়াত : ৪৫

উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াতটি পাঠ করে যুদ্ধে জয়লাভের সুসংবাদ দেন। বদর যুদ্ধে কুরায়শ নেতা আবূ জেহেলসহ ৭০ জন নিহত হয় এবং ৭০ জন বন্দী হয়। আর ১৪ জন মুসলমান শাহাদাত লাভ করেন। স্মার্তব্য যে, ২য় হিজরীর ১৭ই রমযান, বদরের যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়।
Cite error: <ref> tags exist, but no <references/> tag was found