আল্লামা বুরহানুদ্দীন মারগীনানী (রহঃ)

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

আল্লামা বুরহানুদ্দীন মারগীনানী (র) হানাফী মাযহাবের একজন প্রখ্যাত ফকীহ এবং হিদায়া গ্রন্থের প্রণেতা। নাম আলী, উপনাম আবুল হাসান, উপাধি বুরহানুদ্দীন, পিতার নাম আবু বকর । বংশ পরিচয় নিম্নরূপঃ আবুল হাসান আলী ইবন আবু বকর ইবন আবদুল জলীল ইব্‌ন আবদুল খলীল (র)। তিনি হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা)-এর বংশধর। তিনি ৫১১ হিজরী সনে ৮ই রজব সােমবার বাদ আসর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মারগীনান নামক স্থানের অধিবাসী ছিলেন। তাই তাঁকে মারগীনানী বলা হয়ে থাকে। কারাে মতে তিনি মারগীনানের নিকটবর্তী রুশদান নামক স্থানের অধিবাসী ছিলেন। সে প্রেক্ষিতে তাকে মারগীনানীও বলা হয় ।

আল্লামা বুরহানুদ্দীন (র) ছিলেন একজন প্রখ্যাত ফকীহ, মুহাদ্দিস ও মুফাসসির। এ ছাড়া ইসলামের বিভিন্ন বিষয়েও তিনি পারদর্শী ছিলেন। তাকওয়া পরহেযগারীর দিক দিয়েও তিনি ছিলেন সে যুগের অতুলনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। আল্লামা কামাল ইবন পাশা (র) তাঁকে তাবকাতে ফুকাহার ‘আসহাবুত তারজী’ (পঞ্চম তবাকা)-এর মধ্যে গণ্য করেন। আবার কেউ কেউ তাঁকে ‘মুজতাহিদ ফিল-মাযহাব’ বলেছেন।

তাঁর প্রণীত হিদায়া কিতাবের মাসআলাসমূহে দলীল হিসাবে ব্যাপকভাবে হাদীস উদ্ধৃত করার দ্বারা তিনি যে একজন উঁচুস্তরের মুহাদ্দিসও ছিলেন তার প্রমাণ পাওয়া যায়। হিদায়া কিতাবের ভাষা, সাহিত্য তার আরবী ভাষায় প্রগাঢ় জ্ঞান ও অসাধারণ পাণ্ডিত্যের প্রমাণ বহন করে। একজন শি'আ আলিম উক্ত কিতাবের ভাষা সাহিত্যে আকৃষ্ট হয়ে বলেছিলেন ইসলামী কিতাবসমূহের মধ্যে বুখারীর পরেই হিদায়ার স্থান। কথিত আছে যে, আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী (র) বলতেন, ‘জালালাইন শরীফের মত তাফসীর আমাকে লিখতে বললে তা লিখতে পারব কিন্তু হিদায়ার মত কিতাবের অংশবিশেষ লেখাও আমার পক্ষে অসম্ভব।[1]

আল্লামা মারগীনানী (র) বহুসংখ্যক খ্যাতনামা ফকীহ ও মুহাদ্দিসের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ের ইলম হাসিল করেছেন। তাদের মধ্য থেকে প্রসিদ্ধ কয়েকজনের নাম এখানে উল্লেখ করা হলঃ মুফতিউস সাকালাইন নাজমুদ্দীন আবু হাফস উমার (র), আবুল লাইস আহমদ ইবন উমর (র), আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইব্‌ন আবদুর রহমান (র), জিয়া উদ্দীন মুহাম্মদ ইবন হুসাইন। (র), মুহাম্মদ ইবন হাসান ইবন মাসউদ (র), উসমান ইবন ইবরাহীম (র), শায়খুল ইসলাম। বাহা উদ্দীন (র), মিনহাজুশ শরীয়াহ্ মুহাম্মদ ইব্‌ন মুহাম্মদ ইবন হুসাইন (র) প্রমুখ।

আল্লামা বুরহানুদ্দীন মারগীনানী (র)-এর নিকট থেকে যারা ইলম হাসিল করার সুযােগ লাভ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে শায়খুল ইসলাম জালালুদ্দীন নিজামুদ্দীন (র), শায়খুল ইসলাম ইমামুদ্দীন (র), কাযীউল কুযাত মুহাম্মদ ইব্‌ন আলী (র), শামসুল আইম্মা মুহাম্মদ ইবন। আবদুস সাত্তার কুরদী (র) প্রমুখ বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য।

আল্লামা বুরহানুদ্দীন মারগীনানী (র) বহুসংখ্যক কিতাব প্রণয়ন করেন। এর মধ্য থেকে প্রসিদ্ধ কয়েকখানা কিতাবের নাম নিম্নে উল্লেখ করা হলােঃ

১. হিদায়াঃ

আল্লামা বুরহানুদ্দীন মারগীনানী (র) প্রথমে কুদূরী ও জামি সাগীর গ্রন্থদ্বয়ের মতন (মূল বক্তব্য) অবলম্বনে ‘বিদায়াতুল মুবতাদী' নামক একখানা কিতাব রচনা করেন। এরপর তিনি উক্ত বিদায়াতুল মুবতাদী কিতাবখানির উপর ‘কিফায়াতুল মুনতাহী' নামে বিস্তারিতভাবে একখানা ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন। উক্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ আশি খণ্ডে সমাপ্ত হয়। পরবর্তীতে তিনি কিফায়াতুল মুনতাহি' নামক কিতাবখানা মূল বিষয় সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করে চার খণ্ড সম্বলিত অপর একখানা কিতাব রচনা করেন—যে কিতাবখানা পৃথিবীর সর্বত্র ‘হিদায়া’ নামে প্রসিদ্ধ (হিদায়ার ভূমিকা)।[2]

২. মুনাতাকা
৩. তাজনীস
৪. মাযীদ
৫. মানাসিকুল হাজ্জ
৬. নাশরুল মাযহাব
৭. মুখতারাতুন নাওয়াযিল
৮. কিতাবুল ফারাইয ইত্যাদি।

আল্লামা বুরহানুদ্দিন ৫৯৩ হিজরী সনের যিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে ইন্তিকাল করেন । তিনি ইন্তিকালের সময় তিন পুত্র রেখে যান, যাঁরা তৎকালীন যুগে খ্যাতনামা আলিম হিসাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন ।[3]

তথ্যসূত্র

  1. আনওয়ারুল বারী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১২
  2. ইলাউস সুনান, পৃষ্ঠা ১১৭
  3. আনওয়ারুল বারী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১২
  • ফাতাওয়া ওয়া মাসাইল (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)