ইমাম আবুল হাসান কুদূরী (রহঃ)

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

ইমাম আবুল হাসান কুদূরী (র) হানাফী মাযহাবের একজন খ্যাতনামা ফকীহ্ ও মুহাদ্দিস ছিলেন। তাঁর নাম আহমাদ, উপনাম আবুল হাসান, পিতার নাম মুহাম্মদ, পিতামহের নাম আহমাদ ইব্‌ন মুহাম্মদ আহমাদ ইব্‌ন জা'ফর কুদূরী হানাফী (র)। তিনি ইমাম কুদূরী নামে পরিচিত। বলা হয়ে থাকে যে, কুদূরী তাঁর গ্রামের নাম। সেদিকে ইঙ্গিত করেই তাঁকে বলা হয়। কদূরী। অথবা তিনি বা তার বংশের কেউ ডেক-ডেকচির ব্যবসায় করতেন, সে হিসাবেও তাকে কুদরী বলা হয়। উল্লেখ্য যে, কুদ্‌র শব্দটি আরবী। এর অর্থ ডেক-ডেকচি।

ইমাম আবুল হাসান কুদূরী (র) প্রখ্যাত ও মুহাদ্দিস রুকনুল ইসলাম আবু আবদুল্লাহ্ মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ই মাহদী জুরজানীর কাছে ইলমে হাদীস ও ইলমে ফিকহ্ শিক্ষা লাভ করেন। তিনি মুহাম্মদ ইব্‌ন আলী ইবন সুওয়াদ এবং উবায়দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ হাওশানীর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন।

আবু বকর আহমাদ ইবন আলী ইব্‌ন সাবিত খাতীব বাগদাদী (র), প্রধান বিচারপতি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ দামগানী (র), কাযী মুফায্‌যল ইব্‌ন মাসউদ প্রমুখ। ব্যক্তি তার কাছ থেকে ইলমে হাদীস ও ইলমে ফিকহের জ্ঞান লাভ করেন।

ইমাম আবুল হাসান কুদূরী (র) ৩৬২ হিজরী সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪২৮ হিজরী সনে রজব মাসের রবিবার ৬৬ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।

ইমাম আবুল হাসান কুদূরী (র) চতুর্থ তবকার একজন প্রখ্যাত ফকীহ্ ছিলেন। খাতীবে বাগদাদী (র) বলেন, আমি তার কাছ থেকে হাদীস লিপিবদ্ধ করেছি। তিনি হাদীস কম বর্ণনা করতেন। আল্লামা সামআনী (র) বলেন, ইমাম কুদূরী অসাধারণ মেধার কারণে সে যুগে ইলমে ফিকহে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। তাঁর সাহিত্য ও বক্তব্য ছিল রসালাে। তিনি খুব বেশি পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করতেন ।

ইমাম কুদূরী (র) বহুসংখ্যক কিতাব রচনা করেছেন। এর মধ্যে প্রসিদ্ধ কয়েকটি কিতাবের নাম নিম্নে প্রদত্ত হলােঃ

১. তাজরীদ (১৯) ৭ম খণ্ড (এ কিতাবে তিনি হানাফী ও শাফিঈ মাযহাবের ইতিলাফের উপর অত্যন্ত তথ্যপূর্ণ আলােচনা করেছেন)
২. মাসাইলুল খিলাফত,
৩. তাকরীব,
৪. শরহু মুখতাসারিল কারখী
৫. শরহু আদাবিল কাযী
৬. মুখতাসারুল কুদূরী । এই কিতাবখানি প্রায় এক হাজার বছর পূর্বে প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশটি নির্ভরযােগ্য কিতাব হতে বার হাজার জরুরী মাসাইল এ কিতাবে সন্নিবেশিত হয়েছে। রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র এর পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। অসংখ্য মানুষ এই কিতাব দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। [1]

তথ্যসূত্র

  1. আনওয়ারুল বারী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৬
  • ফাতাওয়া ওয়া মাসাইল (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)