ফখরুল ইসলাম ইমাম আবুল হাসান বাযদূবী (রহঃ)

From Sunnipedia
Jump to: navigation, search

ফখরুল ইসলাম ইমাম আবুল হাসান বাযদূবী (র) হানাফী মাযহাবের একজন প্রখ্যাত ফকীহ্ ছিলেন। তাঁর নাম আলী, উপনাম আবুল হাসান, পিতার নাম মুহাম্মদ, দাদার নাম হুসাইন, উপাধি ফখরুল ইসলাম।

ফখরুল ইসলাম ইমাম আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন হুসাইন ইবন আবদুল কারীম ইবন মূসা বাযদূবী হানাফী (র)। উসূলী ও ফুরু’য়ী মাসআলা-মাসাইলে তিনি ছিলেন সেকালের ইমাম শিরােমণি। মাযহাবী মাসআলা-মাসাইল মুখস্থ করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রবাদ পুরুষ। ইমাম বাযদূবী (র) অনেক মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন। যেমন –

১. মাবসূত ১১ খণ্ড,
২. শারহু জামি কাবীর
৩. শারহু জামি সাগীর
৪. উসূলে বাযদূবী, এ গ্রন্থ ফিকহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নির্ভরযােগ্য
৫. তাফসীরে কুরআন মাজীদ ১২০ খণ্ড,
৬. গিনাউল ফিকহ্
৭. কিতাবুল আমালী ইত্যাদি।

তিনি দীর্ঘদিন সামারকন্দে দারস-তাদরীসের কাজ ও বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।[1]

ইমাম আবুল হাসান বাযদূবী (র)-এর মেধাশক্তি ছিল অসাধারণ। এ সম্পর্কে একটি বিস্ময়কর ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।

একদা জনৈক আলিম আল্লামা বাযদূবীর কাছে ইমাম শাফিঈ (র)-এর স্মৃতিশক্তি ও মর্যাদা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন যে, তিনি এক মাসেই কুরআন মাজীদের হিফয সুসম্পন্ন করেছেন এবং প্রত্যেক দিনই তিনি একবার তা খতম করতেন। ইমাম আবুল হাসান বলেন, এ তাে অত্যন্ত সহজ কাজ। প্রত্যেক আলিমের জন্যই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করা উচিত। তােমরা আমার নিকট তােমাদের সরকারী হিসাব-পত্রের রেজিস্টার নিয়ে আস এবং দুই বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব আমাকে পাঠ করে শােনাও। লােকেরা তা-ই করল । এরপর রেজিস্টারগুলাে রাষ্ট্রীয়ভাবে সীলমােহর করে একটি তালাবদ্ধ কক্ষে সংরক্ষণ করা হলাে। ইমাম বাযদূবী (র) এরপর হজ্জে চলে যান এবং ছয়মাস পর প্রত্যাবর্তন করেন। এরপর একদা তিনি এক জনসভায় ঐ সকল রেজিস্টার তলব করে জনৈক শাফিঈ আলিমের হাতে সেগুলাে সােপর্দ করেন। এরপর তিনি রেজিস্টারের পূর্ণ হিসাবপত্র মুখস্থ শুনিয়ে দেন। দেখা গেল যে, তাতে বিন্দুমাত্রও ভুল হয়নি। উপস্থিত সকলে তাঁর এই অসাধারণ স্মৃতিশক্তি দেখে আশ্চর্য হয়ে গেল।[2]

আল্লামা ইমাম বাযদূবী (র) ৪৮২ হিজরী সনে ইন্তিকাল করেন।

তথ্যসূত্র

  1. আনওয়ারুল বারী, পৃষ্ঠা ১০৪
  2. তারীখে ফিকহে ইসলামী, পৃষ্ঠা ৪৫০
  • ফাতাওয়া ওয়া মাসাইল (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)